মূকাভিনয় নিয়ে মরক্কোতে বাংলাদেশ

মূকাভিনয় সংগঠন ঢাকা ইউনিভার্সিটি মাইম অ্যাকশন ইতিমধ্যে দেশে-বিদেশে সাত শতাধিক প্রদর্শনীতে অংশ নিয়েছে। তারই ধারাবাহিকতায় মরক্কোর ঐতিহাসিক শহর কাসাব্লাঙ্কায় অবস্থিত স্বনামধন্য ২য় হাসান ইউনিভার্সিটির ৩৫তম নাট্যোৎসবে অংশ নিয়েছে তারা। গত ২৪ জুলাই থেকে শুরু হওয়া এই উৎসব শেষ হবে আজ। এতে  অস্বীকৃতি, চেয়ার : দা সাইন অব পাওয়ার, ভালোবাসা এবং অতঃপর, সুবোধ পালাবে না আর এই চারটি স্কেচ নিয়ে ৪০ মিনিটের প্রযোজনাটি রচনা ও নির্দেশনা দিয়েছেন মীর লোকমান ও শাহরিয়ার শাওন। অভিনয় করেছেন মৌসুমী মৌ, সোহান, শাহরিয়ার শাওন এবং মীর লোকমান। আবহ সংগীতে আছেন এনামুল হক খন্দকার। চারটি স্কেচের প্রথমটিতে হত্যা, ধর্ষণ ও নারীর প্রতি বর্বরতার কালো অধ্যায় মূর্ত হয় নিঃশব্দে। একটি সুন্দর পৃথিবী বানাবার নির্বাক তাগিদ ভেসে ওঠে পরিচয়হীন শিশুর কান্নায়। দ্বিতীয়টি স্কেচটি ক্ষমতার প্রতীক চেয়ারকে কেন্দ্র করে।

তৃতীয়টি আধুনিক প্রেম-বাস্তবতা নিয়ে। এটি হাস্যরসযুক্ত গল্প। শেষ গল্পটি বাংলাদেশের বহুল আলোচিত সুবোধ চরিত্র নিয়ে। প্রচলিত অন্ধকারে যে আলোর মশাল উঁচিয়ে ধরে, মুক্ত করে শান্তি ও স্বাধীনতার প্রতীক সাদা পায়রাকে। এ উৎসবে বাংলাদেশ, ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি, মরক্কো, তিউনেশিয়া ও সৌদি আরবের শিল্পীরা অংশ নিচ্ছেন। বাংলাদেশ দলের নেতৃত্বে রয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কমিউনিকেশন ডিজঅর্ডারস বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ও মাইম অ্যাকশনের উপদেষ্টা তাওহিদা জাহান। তিনি বলেন, ‘মানুষের দৈনন্দিন জীবনের যোগাযোগের অধিকাংশই সে করে থাকে অবাচনিক যোগাযোগের মাধ্যমে।  তার শৈল্পিক প্রকাশই হচ্ছে মাইম। মাইম পরিবেশনার মাধ্যমে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ফুটিয়ে তুলেছেন সমাজের নানান অসংগতি ও আলোর পথ। ৩৫তম আন্তর্জাতিক বিশ্ববিদ্যালয় থিয়েটার উৎসবের অংশগ্রহণকারী সবাই বাংলাদেশ দলের এই মাইম পরিবেশনা উপভোগ করেছে এবং প্রশংসা করেছে। মরক্কোর মাটিতে ধ্বনিত হয়েছে বাংলাদেশের জয়জয়কার।’