দীর্ঘদিন ধরে নারী ফুটবল ক্যাম্পের গোলকিপিং কোচ হিসেবে কাজ করেছেন মাসুদ আহমেদ উজ্জ্বল। তার অধীনেই রুপনা চাকমা দক্ষিণ এশিয়ার সেরা গোলকিপারের উপাধি পেয়েছেন। স্বর্ণারানী, সাথী, ইতিরাও তৈরী হচ্ছেন আগামীর জন্য। অথচ সেই উজ্জ্বল গোলকিপিং কোচের পদ থেকে অব্যাহতি চেয়ে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনকে চিঠি দিয়েছেন গত বৃহস্পতিবার।
৩১ জুলাইয়ের পর আর তিনি থাকছেন না বাফুফের অধীনে। নারী ফুটবলে সাফল্যের অন্যতম কারিগর গোলাম রব্বানী ছোটনের পর আরেকজন কোচ ঝড়ে পড়লো নারী ফুটবল থেকে।
মূলত ব্যক্তিগত কারণ পদত্যাগপত্রে উল্লেখ করলেও বাফুফে ছাড়ার সিদ্ধান্তটা ছোটনের পদত্যাগের সময়ই নিয়ে রেখেছিলেন বাফুফে কর্তাদের বঞ্চনা, অবহেলার শিকার হওয়া এই তরুণ কোচ। ঘরের মাঠে সাফ নারী অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নশিপের শিরোপা জয়ের পর পুরস্কারের মঞ্চে ডাক পাননি উজ্জ্বল। তার বদলে বাফুফের বেশ কজন কর্মকর্তা মঞ্চে গিয়ে মেডেল গ্রহণের পাশাপাশি অফিসিয়াল ফটো সেশনে শামিল হন। যা দূর থেকে ভেঁজা চোখে দেখতে হয়েছিল উজ্জ্বলকে। এছাড়া সিনিয়র সাফজয়ের পর বেতন বাড়ানোর যে যৌক্তিক দাবী ছিল কোচদের, সেটাও পূরণ করেনি বাফুফে। উজ্জ্বল তাই অপেক্ষায় ছিলেন সুযোগের।
শনিবার দেশ রূপান্তরকে তিনি বলেন, 'আমি আসলে প্রিমিয়ার লিগে কাজ করতে চাই। তাই এই সরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত।'
সামনেই মেয়েদের বেশ কিছু আন্তর্জাতিক ব্যস্ততা আছে। এএফসি অনূর্ধ্ব-১৭ নারী চ্যাম্পিয়নশিপের বাছাইয়ের চুড়ান্তপর্ব, ফিফা প্রীতি ম্যাচ ও এশিয়ান গেমসের ক্যাম্প চলমান আছে। এ অবস্থায় উজ্জ্বলের সরে যাওয়ায় বিপাকে বাফুফে।
তবে এই কোচ জানালেন, বাফুফে চাইলে এবং প্রিমিয়ারের যে ক্লাবে যাওয়ার কথা চলছে তারা চাইলে সামনের এই ইভেন্টগুলোতে নারী ফুটবলার সহায়তা করতে চান।