একসেট বই দিয়ে পড়াশোনা

জিপিএ-৫ পেলেন ৩ যমজ ভাই-বোন

দিনাজপুর শিক্ষাবোর্ডে চলতি বছরের এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর যমজ তিন ভাই-বোন পেয়েছেন জিপিএ-৫। অভাবের সংসারে তারা বই কিনতে পারেনি। ফলে মাত্র একসেট বই দিয়েই ৩ ভাইবোনকে পড়াশোনা করতে হয়েছে। তারপরও তাদের ভালো ফলাফল অর্জনে কোন কিছু বাধা হতে পারেনি।

নানা প্রতিকূলতাকে জয় করে এক সাথে জিপিএ-৫ পাওয়ায় তাদের সংবর্ধনা দিয়েছে দিনাজপুর জেলা প্রশাসন।

আজ রবিবার জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে তাদের সংবর্ধনা প্রদান করেন জেলা প্রশাসক শাকিল আহমেদ। এ সময় অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) দেবাশীষ চৌধুরী, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) আনিচুর রহমান, তাদের বাবা জোহানেশ মুর্মু, মা সোহাগিনী হাঁসদা উপস্থিত ছিলেন।

এ সময় দরিদ্র পরিবারের এই ৩ শিক্ষার্থীকে আর্থিক প্রণোদনা দেয়া হয় এবং ভবিষ্যতে তাদের পড়ালেখার খরচ বহনসহ যাবতীয় বিষয়ে সহযোগিতার আশ্বাস দেন জেলা প্রশাসক।

জানা যায়, জেলার বিরামপুর উপজেলার চন্ডীপুর গ্রামের যমজ ৩ ভাইবোন লাসার সৌরভ মুর্মু, মেরি মৌমিতা মুর্মু ও মারথা জেনিভা মুর্মু। তারা বিরামপুর পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এবারের এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেন।

তাদের বাবা জোহানেশ মুর্মু একটি বেসরকারী সংস্থায় অল্প টাকায় কাজ করেন। এমন অবস্থাতেও তাদের এই সাফল্যে খুশি পরিবারসহ এলাকাবাসী। বড় হয়ে দুই বোনই চিকিৎসক হতে চান। তবে একমাত্র ভাইয়ের স্বপ্ন প্রকৌশলী হওয়ার।

অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে ভাই লাসার সৌরভ মুর্মুর চোখের সামনে ভেসে উঠে সেইসব দিনের কথা। তিনি বলেন, অভাবের সংসার। আমরা ৩ ভাইবোন একসাথে পড়ালেখা করি। পাঠ্যবই স্কুল থেকে দেয়া হলেও নোট বই, গাইড, টেস্ট পেপার, সাজেসনসহ যাবতীয় বই একসাথে ৩ জনকে কিনে দেয়ার সামর্থ্য আমাদের বাবার নাই। আমরা একসেট বই নিয়ে পড়ালেখা করেছি। বাড়ির পাশের বড় দাদা ও দিদিদের বই নিয়ে এসে পড়তাম।

বোন মেরি মৌমিতা মুর্মু বলেন, আমার বাবা বলতো যে পানির মত তরল হয়ে ভাসো, কিন্তু ভেসে যেও না। আমরা বাবা-মায়ের কথামত পড়ালেখা করেছি। তাদের স্বপ্নের প্রতিফলন ঘটাতে পেরেছি। এর চেয়ে বড় আনন্দের আর কি হতে পারে।

তবে অভাবনীয় ফলাফলের পরও তাদের মা সোহাগিনী হাঁসদার কপালে চিন্তার ভাঁজ। তিনি বলেন, আমরা তাদের বড় হওয়ার স্বপ্ন দেখিয়েছি। এখন ভালো ফলাফল করেছে এতে আনন্দিত। তবে এখন হিমশিম খাচ্ছি। তাদের বাবার উপার্জনের সংসারে ৫ জন সদস্য। তারপর তাদের পড়ালেখার খরচ, এটি নিয়ে দুশ্চিন্তার মধ্যে রয়েছি।

নিজের সীমাবদ্ধতা ও অক্ষমতার কথা জানিয়ে বাবা জোহানেশ মুর্মু বলেন, অনেক ছেলেমেয়েই ভালো জামা-কাপড়, ব্যাগ নিয়ে স্কুলে যায়। কিন্তু আমার বাচ্চাদের তা দেয়ার মত সামর্থ্য নাই। এর মধ্যেই আমি সাধ্যমতো চেষ্টা করেছি।

জেলা প্রশাসক শাকিল আহমেদ বলেন, প্রধানমন্ত্রী ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর মানুষকে বিভিন্ন ভাতা প্রদান করেন। যার কারণে তারা একটু সহযোগিতা পেয়েছে। এর কৃতিত্ব প্রধানমন্ত্রীর কাছে অবশ্যই যাবে। আমরা তাদের উৎসাহ দেয়ার জন্য এই সংবর্ধনা প্রদান করলাম। আগামীতে তাদের পড়ালেখার জন্য প্রয়োজন ও যথাসাধ্য সহযোগিতা করা হবে।