মডেল মসজিদে হবে বহুমুখী সেবার কেন্দ্র

মোহাম্মদ শামীম আখতার

প্রধান প্রকৌশলী, গণপূর্ত অধিদপ্তর

গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী মোহাম্মদ শামীম আখতার বলেছেন, সরকার দেশে ৫৬৪টি মডেল মসজিদ নির্মাণ প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। এর মধ্যে ২০০টি মডেল মসজিদ প্রধানমন্ত্রী উদ্বোধন করেছেন। আর আগামী ৩০ জুলাই প্রধানমন্ত্রীর আরও ৫০টি মডেল মসজিদের উদ্বোধন করার কথা রয়েছে। এরপর সেপ্টেম্বরে আরও ৫০টি মসজিদ উদ্বোধনের জন্য প্রস্তুত করা হচ্ছে। মডেল মসজিদগুলো বহুমুখী সেবার কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা হবে।

তিনি বলেন, এটা শুধু মসজিদ নয়, এখানে নানা ধরনের সেবা কার্যক্রম থাকবে। সেবাগুলোর মধ্যে রয়েছে ইমামদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা, হজের নিবন্ধনধারীদের প্রশিক্ষণ, শিশুদের প্রাক-প্রাথমিক ইসলামি শিক্ষা, কোরআন মুখস্থ করানোর সুযোগ। এ ছাড়া লাইব্রেরি ও মেহমানখানাও রয়েছে। মসজিদের বেসমেন্টে গাড়ি পার্কিংয়ের সুযোগ রাখা হয়েছে। নামাজ আদায়ের পাশাপাশি অন্যান্য সেবা যুক্ত হওয়ায় এটাকে মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র বলা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর ইচ্ছা ও সার্বিক নির্দেশনায় এসব কাজ করা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে এ প্রকল্পের বিশেষ মনিটরিং করা হচ্ছে। এটা সরকারের অগ্রাধিকারভুক্ত প্রকল্প।

তিনি আরও বলেন, মডেল শব্দের অর্থ আদর্শ। মডেল মসজিদগুলো দেশের মসজিদের আদর্শ হিসেবেই গড়ে তোলা হচ্ছে। সাধারণ মসজিদ ও মডেল মসজিদের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। মডেল মসজিদে পুরুষরা যেমন নামাজ পড়তে পারবেন, নারীরাও নামাজ পড়তে পারবেন। নারী ও পুরুষের জন্য পৃথক সিঁড়ি ও অজুখানার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী বলেন, মডেল মসজিদ নির্মাণের চিন্তাটা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার। ধর্ম মন্ত্রণালয়ের প্রকল্প। আর বাস্তবায়নের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে গণপূর্ত অধিদপ্তরের। এর কারণ হলো; দেশব্যাপী গুণগত মান বজায় রেখে দৃষ্টিনন্দন স্থাপনা তৈরির অভিজ্ঞতাসম্পন্ন সংস্থা হচ্ছে গণপূর্ত অধিদপ্তর।

তিনি বলেন, নির্মাণকাজ চলমান থাকা মসজিদগুলোর মধ্যে ১৫১টি মডেল মসজিদ নির্মাণকাজ শেষ হবে আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে। বাকিগুলোর কাজ আগামী জুনের মধ্যে শেষ করার লক্ষ্যে কার্যক্রম চলমান রয়েছে। জায়গা নির্ধারণে দেরি হওয়ায় ও নির্মাণসামগ্রীর মূল্য বেড়ে যাওয়ায় কয়েকটি মডেল মসজিদ নির্মাণকাজের পুনঃদরপত্র করতে হয়েছে। কয়েকটির জায়গাও নির্ধারণ করা সম্ভব হয়নি। এজন্য নির্ধারিত সময়ে প্রকল্পের কাজ শেষ না হলে সময় বাড়ানোর প্রয়োজন হতে পারে। তবে কোনো ব্যয় বাড়ার প্রয়োজন হবে না।

তিনি আরও বলেন, মডেল মসজিদ কাজটি দৃষ্টিনন্দন। অনেক ধরনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হচ্ছে। বিভিন্ন ধরনের নকশা রয়েছে মডেল মসজিদে। দেশব্যাপী গণপূর্তের প্রকৌশল কাজ বাস্তবায়নের শক্তিশালী নেটওয়ার্ক থাকায় এটা করা সম্ভব হচ্ছে।

প্রকৌশলী শামীম আখতার বলেন, স্থাপত্যনকশার মাধ্যমে বিশ্বব্যাপী মসজিদের নকশা ধারণ করা হয়েছে। মসজিদের স্থাপত্যশৈলী তুরস্ক বা মুঘল আমলেও এ ধরনের ছিল। মসজিদে গম্বুজ আছে, মিনার আছে। বৈশ্বিক মসজিদের নকশার আদলে করা হয়েছে। দৃষ্টিনন্দন এই প্রকল্প বাস্তবায়নে জমির ব্যবস্থা করতে বড় চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হয়েছে। বেশিরভাগ মসজিদের জায়গা রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ও সমাজের বিশিষ্টজনরা দান করেছেন। কোনো কোনো ক্ষেত্রে জমি অধিগ্রহণও করতে হয়েছে। প্রকল্প শুরুর পর একটা সময় টাকার সংকট দেখা দিয়েছিল। এখন আর টাকার কোনো সংকট নেই।