যে দেশে আগুন জ্বলে

ইসলাম ধর্ম প্রসারের আগে ল্যান্ড অব ফায়ার নামে পরিচিত আজারবাইজানে জরথুস্ত্রবাদ ব্যাপক প্রভাব বিস্তার করে। এই ধর্মের অনুসারীরা অগ্নি উপাসক। জরথুস্ত্রবাদকে কেন্দ্র করে প্রকৃতির সঙ্গে তাদের নিবিড় সম্পর্ক গড়ে ওঠে। দেশটির সমসাময়িক সংস্কৃতিতেও জরথুস্ত্রবাদের ছাপ দেখা যায়। লিখেছেন তৃষা বড়ুয়া 

ল্যান্ড অব ফায়ার

খিনালিক। আজারবাইজানের উঁচু পাহাড়ে অবস্থিত একটি গ্রাম। দেশটির কুবা জেলার ওই গ্রামে প্রায় দুই হাজার মানুষের বাস। খিনালিক গ্রামের বাইরে একটি অগ্নি মন্দির আছে, যা স্থানীয়দের কাছে অত্যন্ত পবিত্র স্থান। মন্দিরটিকে তারা আতেশগাহ বলেন, ফারসি ভাষায় যার অর্থ আগুনের ঘর। মন্দিরটির নাম অগ্নি মন্দির কারণ সেখানে সারাবছরই আগুন জ¦লতে থাকে। আতেশগাহ যেখানে অবস্থিত, ঠিক সে জায়গার ভূ-পৃষ্ঠে ফাটল আছে। সেখান থেকে বের হওয়া মিথেন গ্যাস ওই আগুনের উৎস। শীত বা বসন্ত মৌসুমের রাতে এটি পর্যটকদের উষ্ণ করে। এ ছাড়া আগুনের ওপর লোহার পাত্র রেখে তারা তাদের চা-কফিও গরম করতে পারেন। আজারবাইজানের ওই অঞ্চলের আবহাওয়া আগে থেকে অনুমান করা কঠিন। এ ছাড়া উঁচু-নিচু ভূখণ্ডের কারণে সেখানে মনুষ্যবসতি খুব কম। আজারবাইজান আগুনের দেশ নামে পরিচিত, কারণ সেখানে আছে প্রচুর পরিমাণে তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস। ত্রয়োদশ শতাব্দীতে ইতালীয় অনুসন্ধানকারী মারকো পোলো পূর্ব ককেশাস অঞ্চলে ভ্রমণের পর তার আত্মজীবনীতে ওই অঞ্চলে তেলের ঝরনার দেখা পেয়েছেন, এমনটা উল্লেখ করেছিলেন। আজারবাইজানের অঢেল প্রাকৃতিক গ্যাস দেড়শ বছরের বেশি সময় ধরে দেশটির অর্থনৈতিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে।

আগুন আজারবাইজানি সংস্কৃতির সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে মিশে আছে। তাদের পুরাণে আগুনের উল্লেখ পাওয়া যায়। মূলত জরথুস্ত্রবাদের সময় থেকে আগুন আজারবাইজানিদের জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে কাজ করছে। তিন হাজার বছরের বেশি সময় আগে পৃথিবীর অন্যতম প্রাচীন একেশ্বরবাদী ধর্ম জরথুস্ত্রবাদ ওই অঞ্চলে ব্যাপক প্রসার লাভ করে। জরথুস্ত্রবাদের কেন্দ্রে আছে আগুন। এই উপাদান পৃথিবীকে সৃষ্টি করা এক ঈশ্বর আহুরা মাজদার আলো, জ্ঞান ও সত্যকে প্রতিনিধিত্ব করে। জরথুস্ত্রবাদে বিশ্বাসীরা মনে করেন, আধ্যাত্মিক ও শারীরিক এই দুয়ের মাঝে সেতু হিসেবে কাজ করে আগুন। তাদের বিশ্বাস, আগুন হচ্ছে সেই পবিত্র পথ, যার মাধ্যমে নশ্বর বিশ্বাসীরা ঈশ্বর ও নিজেদের মধ্যে সংযোগ স্থাপন করতে পারেন। একই সঙ্গে তারা এর মাধ্যমে অন্ধকারে বাস করা অপশক্তির বিরুদ্ধে লড়াই করতে পারেন। এই ধর্মের অনুসারীরা আগুনকে বাদ দিয়ে কোনো আচারানুষ্ঠান পালন করেন না। আজারবাইজানের পাহাড়ি গ্রাম খিনালিকের কাছে একসময় বেশ কয়েকটি অগ্নি মন্দির ছিল। জরথুস্ত্রবাদে বিশ্বাসী সম্প্রদায়ের মানুষ যাতে পবিত্র আগুনের সামনে উপাসনা করতে পারে, সে জন্য মন্দিরগুলো নির্মাণ করা হয়। পণ্ডিতদের কেউ কেউ মনে করেন, আজার (ফারসি ভাষায় যার অর্থ আগুন) ও বাইজান (রক্ষাকর্তা) এই দুই শব্দ মিলে দেশটির নাম আজারবাইজান হয়েছে।

উৎসব উদযাপন

আজারবাইজানি ইতিহাসবিদ ও ধর্মীয় পণ্ডিত কাজিম আজিমভের মতে, জরথুস্ত্রবাদ ওই অঞ্চলে শেকড় গাড়ার পেছনে অনেক কারণ আছে। সিল্ক রোডের পাশে আজারবাইজানের কৌশলগত অবস্থান জরথুস্ত্রীয় বণিকদের স্থানীয় জনগণের কাছে আসতে সহযোগিতা করে। তার ওপর ইরানের মতো (জরথুস্ত্রবাদের উৎপত্তিস্থল) আজারবাইজানও প্রাকৃতিক গ্যাসে সমৃদ্ধ। ফলে দুই দেশেই ধর্মটির পবিত্র আগুনের শিখা প্রজ্বালন রাখা সহজ হয়। বর্তমানে আজারবাইজানের বেশির ভাগ মানুষ মুসলমান হলেও জরথুস্ত্রীয় বিশ্বাস, প্রথা ও ঐতিহ্য দেশটির সমকালীন সংস্কৃতিতে উপস্থিত। প্রতি বছর বসন্তকে আগমন জানাতে আজারবাইজানিরা নওরোজ (নতুন বছরকে কেন্দ্র করে পারস্যের উৎসব) উদযাপন করে। জরথুস্ত্রীয় লোককাহিনি ওই ঐতিহ্য গড়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। নওরোজ আজারবাইজানের অন্যতম বৃহৎ উৎসব। দেশটির ট্যুর গাইড আয়শান শারিফোভা বলেন, ‘নওরোজের দিন আমরা বাড়ির আঙিনায় আগুন জ্বালাই। সেই আগুনে শেকেরবুরা, বাকলাভা, গোঘাল এসব পেস্ট্রি সেঁকে নেওয়া হয়। মিষ্টিজাতীয় খাবারগুলো মূলত নওরোজকে কেন্দ্র করেই তৈরি করা হয়। প্রতিটি পেস্ট্রির আকার প্রকৃতির একেকটি পর্যায়কে প্রতিনিধিত্ব করে। যেমন শেকেরবুরার আকার অর্ধচন্দ্রের মতো। বাকলাভা দেখতে তারার মতো আর গোঘালের আকার সূর্যের মতো।’                    

পুনর্নবীকরণ ও প্রকৃতির কাছে সমর্পণ এই দুই জরথুস্ত্রীয় ধারণা আজকের যুগের আজারবাইজানি সংস্কৃতিতে ভীষণভাবে উপস্থিত। প্রতি বছর ২১ মার্চ নওরোজ উদযাপন করা হয়। ইরানে একদিনই নতুন বছরকে বরণ করা হলেও আজারবাইজানিরা চার সপ্তাহ ধরে নওরোজ উদযাপন করেন। ট্যুর গাইড শারিফোভা বলেন, ‘এই চার সপ্তাহে চারটি মঙ্গলবার পড়ে। একেকটি মঙ্গলবার প্রকৃতির চারটি উপাদানকে প্রতিনিধিত্ব করে। এই চার উপাদান হলো পানি, আগুন, বায়ু ও মাটি। নাচ-গানের মাধ্যমে, খেলাধুলা করে আজারবাইজানিরা এক মাস ধরে নববর্ষ পালন করেন।’

দূষণ থেকে রক্ষা

আজারবাইজানে জরথুস্ত্রবাদ প্রসারের সময়ের কোনো স্থাপনা এখন নেই বললেই চলে। তবে পণ্ডিতদের কারও কারও ধারণা, আজারবাইজানের অন্যতম জাতীয় স্থাপনা ২৯ মিটার দীর্ঘ কিজ কালাসি (মেইডেনস টাওয়ার) জরথুস্ত্রবাদে বিশ্বাসীরা নির্মাণ করেছিলেন। দেশটির রাজধানী বাকুর ঐতিহাসিক ওল্ড সিটিতে দ্বাদশ শতাব্দীর ওই স্মৃতিস্তম্ভ অবস্থিত। মেইডেনস টাওয়ারের সামনে দাঁড়ালে ইটের দুটি আলাদা স্তর স্পষ্টভাবে চোখে পড়ে। ইতিহাসবিদদের একাংশ বিশ্বাস করেন, স্মৃতিস্তম্ভের নিচের অংশে মৃতদেহ থেকে মাংস ও অঙ্গ আলাদা করে তারপর সেটিকে কবর দেওয়া হতো। আলাদা করা মরদেহের অংশ টাওয়ারের ওপরে রেখে দেওয়া হতো যাতে শকুনরা সেগুলো খেতে পারে। এর মধ্য দিয়ে মাটিকে দূষণের হাত থেকে রক্ষা করা হতো। এটিও জরথুস্ত্রবাদের আরেক পবিত্র দিক। পণ্ডিত ও গবেষক কে ই উদুলজির মতে, স্মৃতিস্তম্ভের নিচের অংশের নকশা এমনভাবে করা হয়, যার মধ্য দিয়ে এটা নিশ্চিত করা হয়, মৃতদেহ ও সেগুলো থেকে বের হওয়া তরল পদার্থ যেন কোনোভাবেই মাটির সংস্পর্শে আসতে না পারে বা নদীতে না পড়ে; তেমনটা হলে মাটি ও নদীর পানি উভয়ই দূষিত হবে এবং রোগ ছড়াবে। আজারবাইজানের ছোট পাহাড়ি উপত্যকায় বসবাস করা লোকজন মৃতদেহ এভাবে কবর দিত, কারণ ওইসব অঞ্চলে আবাদি জমি কম। সেই অল্প জমি দূষিত হোক তা তারা চাইতেন না।

খ্রিস্টপূর্ব ষষ্ঠ শতকে পারস্যবাসীরা জরথুস্ত্রবাদকে আজারবাইজানের রাষ্ট্রীয় ধর্ম করে। বেদি, মন্দির ও টাওয়ার পুরো দেশজুড়ে ওই সময় নির্মাণ করা হয়। এশিয়া ও ককেশাসে (কৃষ্ণসাগর ও কাস্পিয়ান সাগরের মধ্যবর্তী অঞ্চল; আর্মেনিয়া, আজারবাইজান, জর্জিয়া ও দক্ষিণ রাশিয়ার কয়েকটি অঞ্চল নিয়ে ককেশাস গঠিত) ওই সময় হাজার হাজার অগ্নি মন্দির নির্মাণ করা হয়, যাতে জরথুস্ত্রবাদের পবিত্র আগুনের শিখা রক্ষা করা যায়। সপ্তম খ্রিস্টাব্দে আজারবাইজানে ইসলাম ধর্ম ব্যাপকভাবে প্রসারিত হলে এসব মন্দিরের অনেকগুলোই ধীরে ধীরে হারিয়ে যেতে শুরু করে।

বর্তমানে আজারবাইজানে বাস করা মুসলমানরা প্রধানত শিয়া মুসলমান। দেশটিতে এখন অগ্নি মন্দির কেবল দুটি। এই দুই অগ্নি মন্দির আজারবাইজানের রহস্যময় জরথুস্ত্রীয় ইতিহাসের সাক্ষ্য বহন করছে। খিনালিক গ্রামে যে মন্দিরটি আছে, সেটি তুলনামূলকভাবে নতুন। ২০১৬ সালে লন্ডনভিত্তিক সংগঠন বিশ্ব জরথুস্ত্রীয় সংগঠন সেটি নির্মাণ করে। ধারণা করা হয়, অগ্নি মন্দিরটি এখন যে জায়গায় অবস্থিত, সেখানে আগে একটি বেদি ছিল। বেদিটি একসময় ভেঙে পড়লে সেই ধ্বংসাবশেষের ওপর ২০১৬ সালে অগ্নি মন্দিরটি নির্মিত হয়।

দেশ থেকে পলায়ন

আজারবাইজানের সবচেয়ে পরিচিত অগ্নি মন্দির আতেশগাহ অব সুরাখানি। এটি রাজধানী বাকু শহরের পূর্বে সুরাখানি অঞ্চলে অবস্থিত। প্রতি বছর দেশ-বিদেশ থেকে প্রচুর মানুষ অগ্নি মন্দিরটি দেখতে যান। এটির কারণে আজারবাইজানের জনপ্রিয় পর্যটনস্থলে পরিণত হয়েছে সুরাখানি। পর্যটকদের বেশির ভাগই ভারতীয়। সপ্তম খ্রিস্টাব্দে ইসলাম ধর্ম ছড়িয়ে পড়লে ইরান ও আজারবাইজানে বাস করা জরথুস্ত্রবাদে বিশ্বাসীরা ক্রমাগত প্রান্তিক জনগোষ্ঠীতে পরিণত হতে থাকে। তাদের বড় অংশই দেশ ছেড়ে মধ্য ও দক্ষিণ এশিয়ায় পালিয়ে গিয়ে সেখানে বসবাস শুরু করেন। ভারতের মহারাষ্ট্র রাজ্যের মুম্বাই শহর ও গুজরাট রাজ্যে এখন অনেক জরথুস্ত্রীয় বাস করেন। তাদের পূর্বপুরুষ পারস্য সাম্রাজ্য থেকে পালিয়ে গিয়েছিলেন, কারণ তারা ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করতে রাজি ছিলেন না। বর্তমানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে প্রায় ১ লাখ ৩০ হাজার জরথুস্ত্রীয় ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছেন। তাদের মধ্যে ৬০ হাজারই বাস করেন ভারতে। দেশটিতে তারা পার্সি নামে পরিচিত কারণ পারসিক জরথুস্ট্রীয়দের বংশধর তারা। 

খিনালিকের আতেশগাহর মতো সুরাখানির আতেশগাহ-ও আজারবাইজানে জরথুস্ত্রবাদ চর্চা কমে যাওয়ার কয়েক শতাব্দী পরে নির্মাণ করা হয়। দুটোই প্রাকৃতিকভাবে জ¦লতে থাকা আগুন ঘিরে নির্মিত। ফরাসি সাহিত্যিক আলেকজান্দার দ্যুমা ১৮৫৮ সালে আজারবাইজানের রাজধানী বাকুতে গিয়েছিলেন। তিনি সে সময় বলেছিলেন, ‘গোটা বিশ্ব বাকুর আতেশগাহ সম্পর্কে জানে। আমার দেশের মানুষ যারা অগ্নি উপাসকদের সামনাসামনি দেখতে ইচ্ছুক, তাদের দ্রুত এখানে আসা দরকার কারণ আজারবাইজানে এখন মাত্র তিনজন অগ্নি উপাসক আছেন। তাদের মধ্যে একজন বৃদ্ধ। বাকি দুজন তরুণ, বয়স ৩০-৩৫ বছরের মধ্যে।’ 

আদিবাসী সম্প্রদায়

আজারবাইজানি ইতিহাসবিদ কাজিম আজিমভ বলেন, ‘ইরান সীমান্তের কাছে আজারবাইজানের দক্ষিণাঞ্চলের বাসিন্দা আদিবাসী তালিশদের সঙ্গে বর্তমানে জরথুস্ত্রবাদের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক আছে। আজারবাইজানের ওই অঞ্চলে আগুন পবিত্র প্রতীক হিসেবে বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। সেখানে ফারসিভাষী তালিশ সম্প্রদায়ের মানুষ বেশি বাস করে। আজারবাইজানের দক্ষিণাঞ্চলে যেভাবে প্রকৃতির উপাদানের (আগুন, পানি, উদ্ভিদ, ধান) পূজা করা হয়, দেশটির অন্য কোথাও সেভাবে হয় না। সোভিয়েত আমলে সব ধরনের ধর্মচর্চা নিষিদ্ধ ছিল। কিন্তু নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও তালিশরা তাদের ধর্মচর্চা বন্ধ করেনি। তারা গোপনে নওরোজ উদযাপন করে গেছেন। তাদের কারণে জরথুস্ত্রীয় মন্ত্র ও সংগীত আজও বেঁচে আছে। এ জন্য আমাদের তালিশদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করা উচিত।’                      

সুরাখানি আতেশগাহ মন্দিরের আগুন গত শতকের ষাটের দশকে জ¦লা বন্ধ হয়ে যায়, কারণ অঞ্চলটির মিথেন গ্যাস অন্যত্র সরবরাহ করা হচ্ছিল। পরে ১৯৭৫ সালে কেল্লার মতো দেখতে মন্দিরটিকে জাদুঘর হিসেবে পুনরায় খোলা হয় এবং রাজধানী বাকু থেকে মিথেন গ্যাস সুরাখানিতে সরবরাহ করা হয়। ১৯৯১ সালে সোভিয়েত ইউনিয়ন পতনের পর আজারবাইজান স্বাধীনতা অর্জন করলে দেশটি তার পরিচয় পুনরুদ্ধারের চেষ্টা করে এবং জরথুস্ত্রীয় শেকড়ের স্বীকৃতিও দিতে চায়। আজিমভ বলেন, ‘আমি মনে করি, সোভিয়েত আমলে জরথুস্ত্রবাদসহ অন্য ধর্মের ওপর নিষেধাজ্ঞা ও জরথুস্ত্রবাদ ও ইসলামের দ্বন্দ্বের স্মৃতি স্থানীয় জনগণ আজও ভোলেননি। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জরথুস্ত্রীয় লিপির প্রতি তালিশদের নতুন করে আগ্রহ তৈরি হতে দেখা গেছে। একই সঙ্গে প্রাচীন জরথুস্ত্রবাদের পবিত্র আগুন এক ধরনের ধর্মনিরপেক্ষতার প্রতীক হয়ে উঠেছে।’