রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র উপদেষ্টা দপ্তরের তত্ত্বাবধানে বিভিন্ন অনুষ্ঠান ও জাতীয় দিবসগুলো পালন করা হয়। আর এসব অনুষ্ঠানের বরাদ্দ বাবদ অর্থ এ দপ্তরের কর্মকর্তাকে অগ্রিম দেওয়া হয়। কিন্তু সদ্য সাবেক ছাত্র উপদেষ্টা ও রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক এম তারেক নুর তার সময়ে প্রায় ২০ লাখ টাকা অগ্রিম তুলে নিলেও ১৩ লাখ ৮১ হাজার টাকার পাওনা তিনি পরিশোধ করেননি। এখন সেই পাওনাদাররা প্রতিনিয়তই বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে ধরনা দিচ্ছেন। এ নিয়ে বিপাকে পড়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। তবে সাবেক ওই ছাত্র উপদেষ্টা দাবি করেছেন, সমন্বয় না করার দায় শুধু একার নয়, পুরো কমিটিরই। তার ভাষ্য, দেনার দায়ও পুরো কমিটিকেই নিতে হবে।
গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে ক্যাম্পাসের ঈসমাইল হোসেন সিরাজী অ্যাকাডেমিক ভবনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এমন দাবি করেন এম তারেক নুর। সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার আমাকে প্রায় ১৪ লাখ টাকা সমন্বয় না করার জন্য যে নোটিস পাঠিয়েছেন, তাতে তিনি কোনো বিলের নথি যুক্ত করেননি। কোন কোন খাতে কত টাকা বাকি আছে সেটি তো আমাকে জানাতে হবে। মূলত আমাকে হেয়প্রতিপন্ন করার জন্যই এই নোটিস পাঠানো হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘ছাত্র উপদেষ্টা দপ্তর থেকে যে কাজগুলো করা হয় প্রত্যেকটি কাজের একটি বাস্তবায়ন কমিটি থাকে। যেই কমিটির একজন আহ্বায়ক ও সদস্য সচিবসহ একাধিক সদস্য থাকেন। আহ্বায়ক একজন উপ-উপাচার্যকেই করা হয়। আর আমি সেই কমিটির সদস্য সচিবের দায়িত্ব পালন করতাম। তাই এই সমন্বয়হীনতার দায় শুধু আমার নয়, উপ-উপাচার্যসহ পুরো কমিটিকেই এই দায় নিতে হবে।’ তিনি বলেন, ‘প্রশাসনে দায়িত্ব পালনকালে বেশ কিছু বিষয়ে প্রশাসনের একাংশের সঙ্গে আমার মতবিরোধ হয়। ফলে আমাকে ছাত্র উপদেষ্টার দায়িত্ব থেকে পদত্যাগ করতে বাধ্য করা হয়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান ছাত্র উপদেষ্টা অধ্যাপক জাহাঙ্গীর আলম সাউদ গণমাধ্যমকে জানান, বকেয়া টাকার জন্য প্রতিনিয়ত পাওনাদাররা আসছেন। টাকা চেয়ে আবেদন করেছেন অনেকে। কিন্তু এই বিষয়ে তো আমার জানা নেই। কেননা এসব অনুষ্ঠান পরিচালনার জন্য আগেই বরাদ্দ দেওয়া হয়। ছাত্র উপদেষ্টা দপ্তরের তত্ত্বাবধানে সেই বরাদ্দ দিয়ে অনুষ্ঠান পালিত হয়। সেই হিসেবে কোনো প্রতিষ্ঠানে বকেয়া পড়ার কথা নয়। তাই বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্র্তৃপক্ষকে অবহিত করেছি।
এ বিষয়ে উপ-উপাচার্য অধ্যাপক সুলতান-উল-ইসলামকে ফোন করা হলে তিনি মিটিংয়ে আছেন বলে ফোন কেটে দেন।
গত ২৯ মে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অধ্যাপক আবদুস সালাম স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে বলা হয়, এম তারেক নুর ছাত্র উপদেষ্টা থাকাকালীন বিভিন্ন কাজে ৬৭ দফায় অগ্রিম ১৯ লাখ ৯৮ হাজার ১৫৫ টাকা গ্রহণ করেছেন। কিন্তু মাত্র ৬ লাখ ১৬ হাজার ১৮৫ টাকার সমন্বয় করেছেন। বাকি ১৩ লাখ ৮১ হাজার ৯৭০ টাকার গড়মিল আছে। অগ্রিম টাকা গ্রহণ করেও পাওনা পরিশোধ না করায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমূর্তি ক্ষুণœ হয়েছে। তাই তাকে এসব প্রতিষ্ঠানকে পাওনা পরিশোধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অন্যথায় তার বেতন থেকে অর্থ কর্তন করার জন্য ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।