এবার ৯৯৯ এ ফোন করে অবরুদ্ধ অবস্থা থেকে উদ্ধার হলেন ঢাকা মেট্রোপলিটনের এক পুলিশ কর্মকর্তা। বুধবার (২ আগস্ট) দুপুরে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থানার পাগলা উচ্চ বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে।
ভুক্তভোগী পুলিশের এসআই এমদাদুল হক যশোর জেলার মনিরামপুরের কাটাখালি এলাকার মো. মুনছুর আলী বিশ্বাসের ছেলে। তিনি ঢাকা মেট্রোপলিটনের ওয়ারী থানায় উপ-পরিদর্শক (এসআই) পদে কর্মরত আছেন।
ভুক্তভোগী পুলিশ কর্মকর্তা এমদাদুল হক জানান, ১৯৭৬ সালে নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার কুতুবপুরের দেলপাড়া মৌজায় প্রতিষ্ঠিত হয় পাগলা উচ্চ বিদ্যালয়। সম্প্রতি বিদ্যালয়ের পাশে আরএস ১৯৬৫ নম্বর দাগে আমার ৫ শতাংশ জমি নিজেদের দাবি করে সাইনবোর্ড স্থাপন করে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। বিষয়টি জানতে পেরে ২ আগস্ট বেলা ১১টায় প্রতিবাদ করেন জমির ক্রয় সূত্রে মালিক দাবি করা এসআই এমদাদুল হক। এ সময় বিদ্যালয়ের ছাত্রদের একটি অংশ তাকে ধাওয়া করলে বাধ্য হয়ে পাশের সিসিলি কমিউনিটি সেন্টারের ছাদে অবস্থান নেন। পরে জরুরি সেবা ৯৯৯ এ ফোন করলে ফতুল্লা থানা পুলিশ তাকে উদ্ধার করে।
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) এমদাদুল হক আরও জানান, ২০১১ সালে জমিটি ক্রয় করেছি। জমিতে গিয়ে দেখতে পাই স্কুলের নামে অবৈধ ভাবে সাইনবোর্ড সাঁটানো হয়েছে। পরে সেটা ওঠাতে গেলে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ব্রজেন্দ্রনাথ সরকার শিক্ষার্থীদের উসকে দেন। আমি দৌড়ে পাশের একটি ভবনের ছাড়ে গিয়ে আশ্রয় নেই। পরে ৯৯৯ নম্বরে ফোন করে সহযোগিতা চাইলে ফতুল্লা মডেল থানা পুলিশ আমাকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে।
পাগলা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ব্রজেন্দ্রনাথ সরকার জানান, বিদ্যালয়টির নতুন ভবন নির্মাণের জন্য টাকা বরাদ্দ হয়েছে। কিন্তু জমি না থাকায় প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা যাচ্ছে না। পাশের এই জমিসহ মোট সাড়ে ১৬ শতাংশ জমি নিয়ে স্কুল কর্তৃপক্ষের সাথে মালিকানা দাবিদারদের আদালতে মামলা চলমান রয়েছে। সম্প্রতি বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির নির্দেশে জমিতে সাইনবোর্ড সাটিয়েছে স্কুল কর্তৃপক্ষ।
আদালতের আদেশ না নিয়ে কেনো সাইনবোর্ড সাঁটানো হলো জানতে চাইলে প্রধান শিক্ষক ব্রজেন্দ্রনাথ সরকার বলেন, ‘ইতোমধ্যে পাশের ১২ শতাংশ জমির মালিকের সাথে আমরা বসে একটি সিদ্ধান্তে পৌঁছেছি। কিন্তু এমদাদুল হক এসে আমাদের সাথে না বসে সাইনবোর্ড ফেলে দিচ্ছিলেন। ছাত্ররা বিষয়টি দেখে উত্তেজিত হয়ে উঠে। পরে ফতুল্লা থানা পুলিশকে জানালে তারা এসে এমদাদুল হককে নিয়ে যায়।
ফতুল্লা মডেল থানার ওসি নূরে আযম জানান, এমদাদুল হক ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশে কর্মরত। তিনি জমি সংক্রান্ত একটি বিষয় নিয়ে এখানে এসেছিলেন। আমরা খবর পেয়ে অবরুদ্ধ অবস্থা থেকে পুলিশ সদস্য এমদাদুল হককে উদ্ধার করেছি।