সখীপুরে চাচা-ভাতিজা খুন

ঋণ পরিশোধ করতে ছিনতাইয়ের পরিকল্পনা মূল হোতার

টাঙ্গাইলের সখীপুরে ব্যবসায়ী ও এক কৃষককে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় মূল পরিকল্পনাকারীসহ দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাব-১৪।

হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী মোস্তফা কামালকে (২৩) ঢাকার মোহাম্মদপুর থেকে এবং তার সহযোগী আলামিনকে (২৪) টাঙ্গাইলের সখীপুর থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

শুক্রবার (৪ আগস্ট) দুপুরে র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‍্যাব) অনলাইন মিডিয়া সেল থেকে এ তথ্য জানানো হয়।

গ্রেপ্তার মোস্তফা কামাল সখীপুর উপজেলার বাঘেরবাড়ি এলাকার ছেলে ও আলামিনও একই এলাকার বাসিন্দা।

এর আগে গত ১৯ জুলাই দিবাগত রাতে উপজেলার কাকড়াজান ইউনিয়নের বাঘেরবাড়ি বাংলাবাজার এলাকায় স্থানীয় আবুল হোসেনের ছেলে শাহজালাল (৩৫) ও নবু মিয়ার ছেলে কৃষক মজনু মিয়াকে (৪৫) হত্যা করে সড়কে লাশ ফেলে রেখে যায় দুর্বৃত্তরা। পরেরদিন সকালে রক্তাক্ত মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দেয়। পরে নিহত শাহজালালের বাবা আবুল হোসেন বাদী হয়ে অজ্ঞাতদের আসামি করে মামলা করেন।

আজ শুক্রবার দুপুরে প্রেস ব্রিফিংয়ে র‍্যাবের পক্ষ থেকে জানানো হয়, গ্রেপ্তার হওয়া মোস্তফা পেশায় একজন রাজমিস্ত্রি। স্থানীয় সমিতি থেকে বেশ কিছু টাকা ঋণ করেছেন। সম্প্রতি ওই সমিতি থেকে ঋণ পরিশোধের জন্য ব্যাপকভাবে চাপ দেওয়া হচ্ছিল। সেই ঋণের টাকা পরিশোধ করতেই তিনি ছিনতাইয়ের পরিকল্পনা করেন। এ পরিকল্পনায় তার সঙ্গে যোগ দেন সহযোগী আলামিন। ঘটনার রাতে পথের নির্জন স্থানে দুজনে ওঁৎপেতে ছিলেন। ব্যবসায়ী শাহজালাল ও তার চাচা মজনু মিয়া মোটরসাইকেলযোগে বাড়ি ফেরার পথে রড দিয়ে প্রথমে শাহজালালকে আঘাত করেন মোস্তফা। এতে শাহজালাল ও তার পেছনের আরোহী মজনু মিয়া পড়ে গেলে মোস্তফার সহযোগী আলামিন দেশীয় অস্ত্র দিয়ে মজনু মিয়ার ওপর হামলা চালায়।

ঘটনার পর লাখ টাকা প্রাপ্তির প্রত্যাশা থাকলেও মোস্তফা ও আলামিন পায় মাত্র ছয়শ টাকা। ঘটনার পর আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা ও মিডিয়ায় প্রচারের ফলে ভয় পেয়ে মোস্তফা ও আলামিন আত্মগোপনে চলে যান।

গত বৃহস্পতিবার (৩ আগস্ট) মোস্তফাকে গ্রেপ্তারের পর তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ঘটনাস্থলের কাছাকাছি একটি ডোবা থেকে নিহত ব্যবসায়ী শাহজালাল এর মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়।