সিরাজগঞ্জ শাহজাদপুর উপজেলার গালা ইউনিয়নের মাজ্জান গ্রামের শিশু ফাতেমা খাতুন (০৬) হত্যার মূল আসামি নজরুল (২৫) কে পুলিশ বৃহস্পতিবার রাতে গ্রেপ্তার করেছে। পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ঘাতক নজরুল ইসলাম হত্যার দায় স্বীকার করে বলেছে- ফাতেমার কানে থাকা এক আনা স্বর্ণের দুলের জন্য সে ফাতেমাকে হত্যা করে।
আজ শুক্রবার (০৪ আগস্ট) শাহজাদপুর থানায় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (শাহজাদপুর সার্কেল) মো. কামরুজ্জামান এ কথা বলেছেন। তিনি আরও জানান, আসামি নজরুল প্রায় দুই সপ্তাহ আগে ঢাকা থেকে বাড়ি আসার পর তার হাতে কোনো কাজ না থাকায় দেনাগ্রস্ত হয়ে পড়ে। এমতাবস্থায় সে শিশু ফাতেমার কানে স্বর্ণের দুল দেখে তা নেওয়ার পরিকল্পনা করে। পরিকল্পনা অনুযায়ী নজরুল শিশু ফাতেমাকে মাঝেমধ্যে লোভনীয় খাবার কিনে দিতে থাকে। একপর্যায়ে গত রবিবার সকালে ফাতেমা তার নিজ বাড়িতে নানির সাথে বসে ছিল। নজরুল তাকে আঁখ কিনে দেওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে পাশের নেপিয়ার ঘাসের জমিতে নিয়ে ভয়ভীতি দেখিয়ে কানের দুল খুলে নেয়। এ সময় শিশু ফাতেমা চিৎকার দিলে সে গলা চেপে ধরে শিশু ফাতেমাকে হত্যা করে। এর পর লাশ সেখানে ফেলে রেখে নজরুল বাড়িতে ভেজা কাপড়ে ফিরে এসে বলে ফাতেমা অনেক আগেই বাড়ি চলে এসেছে। এরপর ফাতেমাকে অনেক খোঁজাখুঁজি করা হয়। না পেয়ে এলাকায় মাইকিং করা হয়। এ অবস্থায় নজরুল স্বাভাবিক জীবন যাপন করতে থাকে।
মঙ্গলবার দুপুরে ফাতেমার বাবা সোবাহান আলী বাদী হয়ে শাহজাদপুর থানায় একটি নিখোজ ডায়েরি করেন। এ দিন সন্ধ্যায় ওই গ্রামের ডলি খাতুন নামের এক নারী নেপিয়ার ঘাসের জমির ভেতর থেকে শিয়াল শিশুর একটি পা নিয়ে যাওয়া দেখতে পেয়ে বাড়িতে খবর দেয়। এরপর খবর পেয়ে শাহজাদপুর থানা পুলিশ ওই নেপিয়ার ঘাসের জমি তল্লাশি করে ফাতেমার অর্ধগলিত ও ক্ষতবিক্ষত লাশ উদ্ধার করে।
এ ঘটনায় নিহত ফাতেমার মা বাদী হয়ে বুধবার শাহজাদপুর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করে। এরপর শাহজাদপুর থানা পুলিশের একটি চৌকস দল উপজেলার ইসলামপুর ডায়া মোড়ে অভিযান চালিয়ে গত বৃহস্পতিবার রাতে নজরুলকে গ্রেপ্তার করে এবং তার কাছে থেকে নিহত শিশু ফাতেমার কানে থাকা ১ আনা ওজনের স্বর্ণের দুল উদ্ধার করে। পরে পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে নজরুল ফাতেমাকে হত্যার কথা স্বীকার করে।
এরপর শুক্রবার দুপুরে আসামি নজরুলকে আদালতে হাজির করা হলে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট গোলাম রব্বানির কাছে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়। এরপর আদালতের নির্দশে তাকে সিরাজগঞ্জ জেলা কারাগারে পাঠানো হয়।