৯ আগস্ট ভেঙে দেওয়া হবে পাকিস্তানের  জাতীয় পরিষদ

আগামী ৯ আগস্ট পাকিস্তানের জাতীয় পরিষদ ভেঙে দেওয়া হবে। গত বৃহস্পতিবার সংসদীয় নেতাদের সঙ্গে যোগ দেওয়া এক অনুষ্ঠানে এ তথ্য জানিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরীফ। বর্তমান পরিষদের মেয়াদ শেষ হওয়ার মাত্র তিন দিন আগে এ ঘোষণা দিলেন তিনি।

শুক্রবার (৪ জুলাই) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে পাকিস্তানের সংবাদমাদ্যম দ্য ডন।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এদিন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবনে দেশটির ক্ষমতাসীন জোটের পিএমএল-এন নেতাদের সন্মানে একটি নৈশভোজ ও সংবর্ধনার আয়োজন করা হয়। এখানেই প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ জোটের নেতাদের জাতীয় পরিষদ ভেঙে দেওয়ার তারিখ জানান। এ অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়া একটি সূত্র সংবাদামাধ্যম ডনকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

নৈশভোজে দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে নেতাদের সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনার পাশাপাশি অন্তর্বতীকালীন সরকারের প্রধানমন্ত্রী ও সরকার ব্যবস্থা নিয়েও কথা বলেছেন তিনি।

আগামী ৯ আগস্ট প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ জাতীয় পরিষদ ভেঙে দিতে প্রেসিডেন্টের কাছে আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব পাঠাবেন। সংবিধান অনুযায়ী, ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে প্রেসিডেন্টকে এ প্রস্তাবে স্বাক্ষর করতে হবে। প্রেসিডেন্ট যদি এ সময়ের মধ্যে এতে স্বাক্ষর না করেন তাহলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে জাতীয় পরিষদ ভেঙে যাবে। এরপর দায়িত্ব নেবেন অন্তবর্তীকালীন সরকারের প্রধানমন্ত্রী।

তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠনের বিষয়ে আজ শুক্রবার জোটের মিত্রদের সঙ্গে অনলেইনে চূড়ান্ত আলোচনা শুরু করবেন প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ। এ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে কমপক্ষে তিন দিন সময় লাগতে পারে। এরপর তিনি তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধানমন্ত্রীর নাম প্রস্তাব করে সেটি প্রেসিডেন্টের কাছে পাঠাবেন।

সূত্র আরও জানিয়েছে, এ বিষয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বিলাওয়াল ভুট্টো জারদারির সঙ্গেও দীর্ঘ বৈঠক করবেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী।

পাকিস্তানের সংবিধান অনুসারে, মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই যদি জাতীয় পরিষদ ভেঙে দেওয়া হয়, তাহলে ৯০ দিনের মধ্যে সাধারণ নির্বাচন করতে হবে। তাই নির্ধারিত সময়ের আগেই জাতীয় পরিষদ ভেঙে দেওয়ার অর্থ, আর মাত্র ৯০ দিনের মধ্যেই পাকিস্তানের সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।