রাজনতৈকি মঞ্চ

দৈনিক ইত্তেফাকে কলাম লিখতেন- ‘মোসাফির’ নামে। অসাধারণ শব্দনৈপুণ্যে বিদ্ধ করতেন পাকিস্তানি সামরিক জান্তা আইয়ুব খানকে। সেইসময় অসংখ্যবার তিনি গ্রেপ্তার হয়েছেন, কারাবরণ করেছেন। অতীতের সঙ্গে অধুনার সংযোগ স্থাপনের উদ্দেশ্যে আজ ছাপা হলো, সেই উপসম্পাদকীয়

পশ্চিম পাকিস্তানে কনভেনশন-পন্থীদের ভরাডুবি হইয়াছে। যারা এতদিন করাচীতে শতকরা ৮০/৯০টি আসন দখল করিবেন বলিয়া লম্ফঝম্ফ করিতেছিলেন, সেই খান বাহাদুর হাফেজ হাবিবুল্লাহ, ঘাস কোরেশী, দাউদগোষ্ঠী, তালিকাগোষ্ঠীর টিকিটি পর্যন্ত আজ খুঁজিয়া পাওয়া যাইতেছে না। এক্ষণে একমাত্র পশ্চিম পাকিস্তানের অর্থমন্ত্রী-কাম-কনভেনশন লীগ প্রেসিডেন্ট মি. মাসুদ সাদিক ছাড়া কাহারোই শব্দ শুনা যাইতেছে না। তিনি আবার হৃদরোগে ভুগিতেছেন। হৃদরোগ চিকিৎসার জন্য এ বৎসরের প্রথম দিকে আমেরিকা গমন করিয়াছিলেন। সে সময়ও তিনি ‘পিন্ডির উপনির্বাচনে বিরোধী দলকে চ্যালেঞ্জ প্রদান করিয়া পাল্টা চ্যালেঞ্জের মুখে লেজ গুটাইয়া সরিয়া পড়েন। এবং সেখানে শেষ পর্যন্ত বিরোধী দলের প্রার্থী জয়লাভ করেন। তাই এই মর্যাদাহানিতে আমেরিকাতেও তাঁর হৃদরোগের উপযুক্ত চিকিৎসা হইয়াছে কি-না বলা শক্ত। তবে তাঁর পূর্বসূরি পশ্চিম পাকিস্তানের কনভেনশন লীগ প্রেসিডেন্ট রাজা হাসান আখতারের সম্প্রতি হৃদরোগে পরলোকগমনের পর তিনি অনেকটা সতর্ক হইয়াছেন বলিয়া মনে  হয়। পশ্চিম পাকিস্তানে নির্বাচন অনুষ্ঠানকালে তিনি লাহোরের নিজ বাসভবন ছাড়িয়া অন্য কোথাও গমন করেন নাই; অথচ আইয়ুব মনোনীত পশ্চিম পাকিস্তানের লীগ প্রধান হিসাবে তাঁকে দিনের পর দিন ঘরে বসিয়াই কনভেনশনপন্থীদের ‘অপূর্ব সাফল্যের’ বিবৃতি প্রচার করিতে হইয়াছে। তাঁর এই ঘোষণা তিনিই প্রচার করেন, না অন্য কেহ তাঁর হাতে ছিলিম খাইয়া যায়, তাহা বলা শক্ত। কিন্তু যে করাচী এবং পি-িতে বর্তমান ক্ষমতাসীন দলীয় রাঘব-বোয়ালদের আস্তানা, সেখানে মোহতারেমা মিস ফাতেমা জিন্নাহ তথা বিরোধীদলীয় প্রার্থীদিগের জয়জয়কার লক্ষ করিয়া তিনি ভগ্নস্বাস্থ্য লইয়া এখনও যে মনোবল ঠিক রাখিতে পারিয়াছেন, তাহা বিশ্বাস করা সহজ নয়। তবে আজব ‘লীগওয়ালাদের পক্ষে কোন কিছুই অসম্ভব নয়। এই আমলে তাঁরা যে যাহা লাভ করিয়াছেন তাহা স্বপ্নেও কল্পনা করিতে পারেন নাই। ইউনিয়ন কাউন্সিল নির্বাচনে, প্রার্থী দাঁড় না করানোর সিদ্ধান্ত সরকারীভাবে ঘোষণা করিবার পরেও যাঁরা নির্বাচনী ফলাফল বাহির হইবার পূর্ব হইতেই শতকরা ৯০-৮০টি আসন দখলের এলান করিতে পারেন, তাঁদের নিকট সত্য-মিথ্যার কোন বালাই থাকিতে পারে না। কিন্তু তাঁদের এই আজগুবি উক্তি জনসাধারণের মধ্যে তাঁদের বিরুদ্ধে যে বিরূপ ও শ্রদ্ধাহীন মনোভাব জাগাইয়া তুলিয়াছে, পশ্চিম পাকিস্তানে তাঁদের এহেন ভরাডুবির ইহা অন্যতম প্রধান কারণ। মানুষের ভাগ্য নিয়া যারা ৬ বৎসর ধরিয়া ছিনিমিনি খেলিয়াছেন, নির্বাচন কালেও তাদেরকে নিয়া এইরূপ ধোঁকাবাজির পরিণতি ভরাডুবি ছাড়া অন্য কিছু হইতে পারে না ।

যে-কোন আত্মমর্যাদাসম্পন্ন লোক বা প্রতিষ্ঠান জনমতের প্রতি লক্ষ রাখিয়া তাদের নীতি ও কর্মপন্থা পরিবর্তন বা পরিবর্ধন করে। কিন্তু কনভেনশনপন্থীদের ক্ষেত্রে জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়ার প্রশ্ন ওঠে না। কারণ, ‘কনভেনশন লীগ’ সত্যিকারভাবে আদৌ রাজনৈতিক দল নয়; ব্যক্তিবিশেষের অনুগ্রহভোগী হিসাবে ব্যক্তিবিশেষের গুণগান তথা কর্তার ইচ্ছায় কীর্তন করাই ইহাদের একমাত্র কাজ। তাই নীতি পরিবর্তনের পরিবর্তে বিরূপ জনমত লক্ষ করিয়া তাঁরা একদিকে গুন্ডা বাহিনী নিয়োগ এবং অপরদিকে সরকারী কর্মচারীদের ওপর চাপ প্রয়োগ করিয়া তাঁদের দ্বারা ভোটারদের ওপর প্রভাব বিস্তারের অসাধু প্রচেষ্টা চালানো হইয়াছে। ইহার পরিণতি যে কি দাঁড়াইবে,  তাহা চিন্তা করিবার অবকাশও ইহাদের নাই। গু-ামির আশ্রয় দিলে নিরপেক্ষ ভোটাররা পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট দলের বিরুদ্ধে চলিয়া যায়; আর সরকারী কর্মচারীদের ক্ষেত্রে দুই-চারজন দুর্বলচিত্ত, লোভী ব্যক্তি ছাড়া সাধারণভাবে তাঁরা রাজনীতি ক্ষেত্রে তথা নির্বাচনে নিরপেক্ষ থাকিবার পক্ষপাতী। ইহাই আমাদের দেশের সরকারী কর্মচারীদের ট্রাডিশন। কিন্তু এই ট্রাডিশন ও ন্যায়নীতি ভঙ্গ করিবার চাপ প্রদান করিলে উহার পরিণতিও সংশ্লিষ্ট দলের পক্ষে শুভ হইতে পারে না। বর্তমান শাসনামলে  বিশেষত: সামরিক শাসনামলে সরকারী কর্মচারীদেরে যেভাবে ক্ষমতাসীনদের অভ্যর্থনা, জনসভা প্রভৃতিতে লোক সংগ্রহের কাজে ব্যবহার করা হইয়াছে, তাহা শুধু সরকারী কর্মচারীদের ট্রাডিশনই ভঙ্গ করে নাই এবং তাদের বিরক্তিরই উদ্রেক করে নাই, ইহার ফলে দেশবাসীর মনে সরকারী কর্মচারীদের সম্পর্কে বিরূপ মনোভাবেরও সৃষ্টি হইয়াছে এবং সরকারী কর্মচারীরাও ইহা পছন্দ করেন নাই। যে ধরনের হোক দেশে একটি নিয়মতান্ত্রিক দলীয় সরকার প্রতিষ্ঠিত করার পরে সরকারী কর্মচারীদের দলীয় কার্যে ব্যবহার করা হইতে রেহাই দেওয়া হইবে, ইহাই আশা করা গিয়াছিল। কিন্তু ইহা করার পরিবর্তে সাম্প্রতিক উপনির্বাচন অনুষ্ঠানের প্রাক্কালে প্রেসিডেন্টের এক নির্দেশবলে প্রদেশপালকে ক্ষমতাসীন দলের পক্ষে ক্যানভাস করিবার অধিকার দেওয়া হইল । ইহার ফল দাঁড়াইয়াছে এই যে, প্রদেশের প্রধান শাসনকর্তার যে-কোন নির্দেশ পালন করিতে অধস্তন কর্মচারীগণ বাধ্য হইতেছেন। তাই পূর্ব পাকিস্তানে জনাব আইয়ুব কনভেনশন লীগের মনোনীত প্রার্থী হিসাবে নিজের নির্বাচনী সফরে আগমন করিলেও প্রাদেশিক সেক্রেটারিয়েট হইতে এক সার্কুলার প্রেরণ করিয়া ডিসি, এসডিও-সহ সকল সরকারী বিভাগকে জনাব আইয়ুবের সফর উপলক্ষে সরকারী-বেসরকারী সকল যানবাহন রিকুইজিশন করার নির্দেশ দেওয়া হয়। এই নির্দেশনামার বলে জেলা ও মহকুমা কর্তৃপক্ষ শুধু যানবাহন রিকুইজিশন করিয়াই ক্ষান্ত হন নাই, জনসভা ও সংবর্ধনার জন্য লোক সংগ্রহ, গেট নির্মাণ প্রভৃতি কাজেও সক্রিয় ভূমিকা গ্রহণ করিয়াছেন। এই সকল সার্কুলার ও নির্দেশনামার ফটোষ্ট্যাট নমুনা কপি ইত্তেফাকে প্রকাশিত হইয়াছে এবং আজ পর্যন্ত উহার কোন প্রকার প্রতিবাদ হয় নাই।

রেডিও ও অন্যান্য প্রচারযন্ত্র সম্পর্কে সম্মিলিত বিরোধীদলীয় প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী মোহতারেমা মিস ফাতেমা জিন্নার তরফ হইতে দাবি করা হইয়াছিল যে, নির্বাচনী প্রচারে কনভেনশন লীগ প্রার্থী ও বিরোধীদলীয় প্রার্থীকে সমান সুযোগ দিতে হইবে। কিন্তু প্রেসিডেন্সিয়াল সেক্রেটারিয়েট হইতে এই দাবী অগ্রাহ্য করিয়া বলা হয় যে, কনভেনশন দলীয় নির্বাচনী প্রচারেও রেডিও এবং অন্যান্য সরকারী প্রচারযন্ত্র ব্যবহার করিতে দেওয়া হইবে না। অথচ বাস্তব ক্ষেত্রে দেখা যাইতেছে যে, সরকারী প্রচার দফতরই কনভেনশনপন্থী প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থীর প্রচার কেন্দ্রে পরিণত হইয়াছে। প্রচার বিভাগের ছোট-বড় কর্মকর্তারা আইয়ুব সাহেবের নির্বাচনী সফরকালে তাঁর সঙ্গে ঘুরিতেছেন, তাঁরাই তাঁর বক্তৃতা এবং জনসভার বিবরণী তৈরী করিয়া দিতেছেন, সরকারী হ্যান্ড-আউট মারফত তাঁর বক্তৃতা প্রচারিত হইতেছে। আর রেডিওর তো কথাই নাই। আইয়ুব সাহেবের কেবল নির্বাচনী বক্তৃতাই নয়, এখানে-ওখানের টুকিটাকি পর্যন্ত রেডিওতে বারেবারে প্রচার করিয়া মানুষের কান ঝালাপালা করিয়া তুলিতেছে। তা ছাড়াও সদলবলে প্রেসিডেন্ট যে নির্বাচনী সফর চালাইতেছেন, তার বিপুল খরচাও সরকারী রাজস্ব হইতে বহন করা হইতেছে। এই সকল অবস্থাদৃষ্টে এই নির্বাচনকে যে-কোন লোক সরকার বনাম বিরোধী দলের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হিসাবে গণ্য করিতে বাধ্য। কিন্তু ‘দেশপ্রেম’ এবং ‘সততার’ সোল এজেন্টরা এতদসত্ত্বেও প্রচার করিয়া বেড়াইতেছেন যে, তাঁরা সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠান করিতে বদ্ধপরিকর।

প্রেসিডেন্ট পদের নির্বাচন তদারক করিবার জন্য হাইকোর্ট জজদের সমবায়ে যে কমিটি গঠন করা হইয়াছে, তাঁরাও যে নির্বাচনের দুর্নীতি ও দৌরাত্ম্য বন্ধ করিতে অপারগ, তাহা তাঁদের সাম্প্রতিক বৈঠকের ঘোষণায় প্রকাশ পাইয়াছে। ইহার অর্থ এই দাঁড়ায় যে, এই কমিটিকে আসলে কোন ক্ষমতাই প্রদান করা হয় নাই। তাই বুঝিয়া উঠিতে পারি না, এইভাবে চতুর্দিকে সরকারী হস্তক্ষেপ চালাইয়া কি ধরনের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হইতে চলিয়াছে। ক্ষমতাসীন দলের এই সকল কান্ড-কারখানা বিদেশীদেরও চক্ষু এড়ায় নাই। যে-সকল বিদেশী পত্রিকায় পাকিস্তানের এই নির্বাচন নিয়া আলোচনা হইয়াছে, তার সবগুলিতেই বলা হইয়াছে যে, প্রাপ্তবয়স্কদের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হইলে সম্মিলিত বিরোধীদলীয় প্রার্থী মোহতারেমা ফাতেমা জিন্নাহ বিপুল ভোটাধিক্যে জয়ী হইতেন। তাঁরা প্রচলিত নির্বাচনব্যবস্থা সম্পর্কে মন্তব্য করিয়াছেন যে, নির্বাচকমন্ডলীর নির্বাচনেও বিরোধী দল ভোটাধিক্য লাভ করিবে। তবে জনাব আইয়ুব তথা ক্ষমতাসীন দল ইলেক্টোরাল কলেজের ভোটারদের বাগাইবার জন্য ৪ মাস সময় পাইবে।

উল্লেখযোগ্য যে, সম্প্রতি পশ্চিমা দেশগুলির বিশেষতঃ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইংল্যান্ডের বিশিষ্ট বিশিষ্ট পত্রিকা পাকিস্তানের নির্বাচনী অভিযান স্বচক্ষে দেখার জন্য বিশেষ প্রতিনিধি প্রেরণ করিয়াছিলেন। তাঁরা স্বচক্ষে নির্বাচনী অভিযানের গতিধারা লক্ষ করিয়াই স্ব স্ব পত্রিকার উপরোক্তরূপ রিপোর্ট প্রদান করিয়াছে। যাঁরা বিদেশে পাকিস্তানের মর্যাদা বৃদ্ধি করিয়াছেন বলিয়া দাবী করেন তাঁদের যদি প্রকৃত প্রস্তাবে লজ্জার বালাই থাকিত এবং দেশের মর্যাদার জন্য এতটুকু ভাবনা থাকিত তাহা হইলে আইয়ুব সাহেবের জনপ্রিয়তার অভাব ও নির্বাচনী অপকৌশল অবলম্বনের যে-সকল তথ্য বিদেশী পত্র-পত্রিকায় ফাঁস করিয়া দিয়াছে, তৎপর হয় তাঁর নির্বাচন হইতে সরিয়া কিংবা নীতি পরিবর্তন করা উচিত ছিল অথবা বিরেধেী দলের প্রতি চ্যালেঞ্জ প্রদান করিয়া প্রাপ্তবয়স্কদের প্রত্যক্ষ ভোটে প্রেসিডেন্ট পদের নির্বাচন অনুষ্ঠান করিয়া নিজেদের এবং দেশের মুখরক্ষার ব্যবস্থা করা উচিত। কিন্তু এই সহজ পথ অনুসরণের পরিবর্তে ক্ষমতাসীনরা আরও উগ্র মনোভাব গ্রহণ করিতেছেন। এবং এমনি সব উক্তি করিতেছেন, যাতে বিদেশীদের মনে এই ধারণার সৃষ্টি হইতেছে যে, পাকিস্তানের জনসাধারণ সকলেই যেন পাকিস্তানকে ধ্বংস করিবার কার্যে লিপ্ত হইয়াছে। এবং পাকিস্তানের ‘জনগণের রাষ্ট্র-আনুগত্য বলিয়া কোন কিছুর অস্তিত্ব নাই । অবশ্য আমরা জানি, জনগণ হইতে সম্পূর্ণরূপে বিচ্ছিন্ন হইয়া পড়িলে স্বৈরাচারী ক্ষমতালোভী দল জনগণের বিরুদ্ধেই জেহাদ ঘোষণা করেন। কিন্তু গোটা দেশবাসীকে কোন ব্যক্তি বা দল দাবাইয়া রাখিতে পারেন না। এই সহজ সত্যটুকু তাঁরা ভুলিয়া গিয়াছেন। তাঁদের অত্যাচার-নির্যাতন গোটা দেশবাসীকে তাঁদের বিরুদ্ধে মারমুখী ও সংঘবদ্ধ করিয়াছে। তাই সরকারী শাসনযন্ত্র কিংবা সরকারী কর্মচারীদের দলীয় নির্বাচনে ব্যবহার করিতে গিয়া তাঁরা জনগণের বিরাগভাজনই হইয়াছেন। সরকারী অর্থে অর্থাৎ জনগণের প্রদত্ত রাজস্বে কনভেনশনপন্থী প্রার্থীর নির্বাচন-অভিযান চালাইতে গিয়া জনগণকেই বিক্ষুব্ধ করিয়া তোলা হইয়াছে। এই গণ-অসন্তুষ্টি ও গণ-বিক্ষোভের মুখে ক্ষমতাসীনদের ভরাডুবি ছাড়া অন্য কিছু ভাগ্যে নাই। পশ্চিম পাকিস্তানে ধনকুবেরদের সমর্থন এবং সরকারী ক্ষমতার অপব্যবহার তাঁদেরকে ভরাডুবির হাত হইতে রক্ষা করিতে পারে নাই। রাজনীতি-সচেতন পূর্ব পাকিস্তানে তাঁদের যে আরও মারাত্মক ভরাডুবি হইবে, সে সম্পর্কে আমরা নিশ্চিত। কারণ পশ্চিম পাকিস্তানে তবু কনভেনশনপন্থীদের তোড়জোড় লক্ষ করা গিয়াছিল। কিন্তু এখানে  গা ঢাকা দিয়া রাত্রির অন্ধকারে চলিবার পথই তাঁরা বাছিয়া নিয়াছেন। গু-ামির আশ্রয় নেওয়া কিংবা সরকারী কর্মচারীদের প্রতি চাপ প্রদান করিলে উহা তাঁদের জন্য বুমেরাং হিসাবেই কাজ করিবে।

লেখক: তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া

প্রতিষ্ঠাতা, দৈনিক ইত্তেফাক

১১ নভেম্বর, ১৯৬৪