চা চাষের নতুন সম্ভাবনা লালমাই পাহাড়

সিলেট ও চট্টগ্রামের পাহাড়ি অঞ্চলের পর এবার কুমিল্লার লালমাই পাহাড়ে বাণিজ্যিকভাবে শুরু হয়েছে চা চাষ। লালমাই পাহাড়ের লাল মাটিতে চা উৎপাদনে অপার সম্ভাবনা দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

কুমিল্লা বিশ্বরোড থেকে ১০ কিলোমিটার দূরে সদর দক্ষিণ উপজেলার বিজয়পুর ইউনিয়নের বড় ধর্মপুর এলাকায় দুই পাশে পাহাড় আর টিলা। নৈসর্গিক মনোলোভা পরিবেশ। সেখানকার আঁকাবাঁকা মেঠো পথ পেরোলেই দেখা মিলবে লালমাই পাহাড়ে গড়ে ওঠা ‘মজুমদার চা বাগান’।

কুমিল্লার প্রথম এই চা বাগানের মালিক মো. তারিকুল ইসলাম মজুমদার। তিনি জানালেন, প্রয়োজন অনুসারে এই এলাকায় বৃষ্টি কম হওয়া চা চাষের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। বর্তমানে গভীর নলকূপের মাধ্যমে বাগানে পানির সরবরাহ করছে শ্রমিকরা। চা বাগান দেখতে জেলার বিভিন্ন স্থান থেকে প্রতিদিন ছুটে আসছেন নানা বয়সের মানুষ।

২০২১ সালে শ্রীমঙ্গল থেকে প্রথমে তিন হাজার চারা এনে পরীক্ষামূলকভাবে রোপণ করেন তারিকুল। পরে আরও তিন হাজার চারা রোপণ করেন। পর্যায়ক্রমে তিনি মোট ১১ হাজার চারা লাগিয়েছেন। বর্তমানে ‘মজুমদার চা বাগান’ পরিচর্যায় সাতজন কর্মচারী নিয়োজিত রয়েছেন। তারা মাসে দু’বার এই বাগান থেকে চা সংগ্রহ করেন। এতে প্রতি মাসে এক হাজার কেজি চা পাতা সংগ্রহ হচ্ছে। তবে কারখানা না থাকায় এই পাতা এখনই বাজারজাত করা সম্ভব হচ্ছে না। তপ্ত রোদে শুকিয়ে বস্তাবন্দি করে সংরক্ষণ করা হচ্ছে পাতা।

পাহাড়ের এই চা-বাগান দেখতে আসা তাজুল ইসলাম নামে এক দর্শনার্থী বলেন, চা-বাগান দেখতে আমরা সিলেট যেতাম, এখন আমাদের নিজ জেলা কুমিল্লায় চা-চাষ শুরু হওয়ায় আমরা আনন্দিত।

চা-বাগানটির স্বত্বাধিকারী তারিকুল ইসলাম মজুমদার বলেন, আমার সিলেটের বন্ধু জিডি সান লালমাই পাহাড়ে তার ভূমি ঘুরে দেখে মতামত দেন যে, এখানে চা চাষ করা সম্ভব। এরপর বাগান তৈরি করে ২০২১ সালের মার্চে তিন হাজার চা-গাছ লাগানো হয়। গাছের বৃদ্ধি দেখে তিন মাস পর আরো তিন হাজার গাছ লাগানো হয়। এক একরের একটু বেশি জায়গাজুড়ে এই বাগান। বর্তমানে এই বাগানে রয়েছে ১১ হাজারের বেশি চা-গাছ।

চা-বাগানটি আরও বড় করার পরিকল্পনার কথা জানালেন তারিকুল। তিনি জানান, এখানে তার ছয় একর জমি রয়েছে। পুরো জায়গাটিতেই চা-বাগান করার পরিকল্পনা করছেন তিনি।

এ ব্যাপারে কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. জোনায়েদ কবির খান বলেন, এখানকার মাটি চা-গাছের জন্য বেশ উপযোগী। বৃষ্টিপাত কম হওয়ায় এই বাগানে সেচ দেয়া হয় কৃত্রিম উপায়ে। আমরা কৃষি বিভাগ থেকে তাকে প্রতিনিয়ত পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছি। অচিরেই চা-শিল্পে সম্ভাবনাময় জেলার নামের সঙ্গে যোগ হবে কুমিল্লার নাম।