গাজীপুরের কাপাসিয়ায় ট্রাকচাপায় নিহত সাংবাদিক মঞ্জুর হোসেন মিলনকে (৫৪) হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন তার পরিবারের সদস্য ও সহকর্মীরা। তারা বলছেন, দুর্ঘটনায় মৃত্যু হলে সাংবাদিক মিলনের মোটরসাইকেলটি অক্ষত থাকত না। ঘটনাস্থলের আশপাশের লোকজনও মামলায় সাক্ষ্য দেওয়ার বিড়ম্বনার ভয়ে মুখ খুলছেন না বলে অভিযোগ তাদের। তবে মিলনকে চাপা দেওয়া ট্রাকটির চালক ও তার সহকারীকে (হেলপার) গ্রেপ্তার করে রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে এ ঘটনার বিস্তারিত জানা যাবে বলে মনে করছেন তার স্বজনরা।
গত শুক্রবার সকাল ১০টার দিকে একটি বালুভর্তি ট্রাকের চাপায় নিহত হন মিলন। তিনি গাজীপুর থেকে প্রকাশিত সাপ্তাহিক পত্রিকা গাজীপুর দর্পণের সম্পাদক ও প্রকাশক ছিলেন। এ ছাড়া দৈনিক ভোরের দর্পণ ও দৈনিক করতোয়ার গাজীপুর প্রতিনিধি ছিলেন। একই সঙ্গে তিনি গাজীপুর সিটি প্রেস ক্লাবের সভাপতি ছিলেন। স্ত্রী রিমিন আক্তার, বোন ফাতেমা বেগম ও শ্যালক ইব্রাহিম হোসেন দাবি করেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে উপস্থিত লোকজনের কাছ থেকে মিলনকে হত্যার বিষয়টি জানতে পারেন তারা। পাশ কাটাতে (সাইড দেওয়া) না দেওয়া নিয়ে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে বেপরোয়া গতির ট্রাকটি মিলনকে পিষে খুন করে। তবে থানা পুলিশের ভয়ে এ ব্যাপারে কেউ মুখ খুলছেন না।
ঘটনাস্থলের পাশের একটি বাড়ির বাসিন্দা মো. আবুল হোসেন জানান, ঘটনার সময় তিনি বাড়িতে ছিলেন না। রাস্তায় ট্রাকের নিচে একটি লাশ পড়ে থাকার খবর পেয়ে বাজার থেকে দ্রুত ঘটনাস্থলে যান তিনি। সেখানে মিলনের ছিন্নভিন্ন লাশ দেখতে পান। এ সময় রাস্তার পাশে সম্পূর্ণ অক্ষত অবস্থায় মিলনের মোটরসাইকেলটি পড়ে ছিল। এ বিষয়টিই সন্দেহের জন্ম দিয়েছে। এ ব্যাপারে জানতে চাইলে কাপাসিয়া থানার পরিদর্শক মো. আনিসুর আশেকিন বলেন, ‘পুলিশের পক্ষ থেকে ঘটনাস্থলে গিয়ে বিভিন্ন লোকজনের সঙ্গে কথা বলা হয়েছে। তবে হত্যার বিষয়টি প্রমাণ করতে হলে প্রত্যক্ষদর্শী সাক্ষীর প্রয়োজন হবে। এ বিষয়ে সবার সহযোগিতা প্রয়োজন। ট্রাকচালক ও সহকারীকে গ্রেপ্তারে আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।’