মানবপাচার রোধে সিআইডির মনিটরিং সেল গঠন

মানবপাচার রোধে মনিটরিং সেল গঠন করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। দেশের মানব পাচার সংক্রান্ত মামলা এবং অবৈধ অভিবাসন প্রতিরোধে এই সেলটি গঠন করেছে সিআইডি। বুধবার রাজধানীর মালিবাগে সিআইডি প্রধান কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত দিনব্যাপী কর্মশালায় এ তথ্য উপস্থাপন করা হয়।

অভিবাসী শ্রমিকদের ন্যায়বিচারের অভিগম্যতা নিশ্চিতে সিআইডির সঙ্গে সুইজারল্যান্ড সরকারের অর্থায়নে হেলভেটাস বাংলাদেশের সহায়তায় বাংলাদেশ জাতীয় মহিলা আইনজীবী সমিতি এই কর্মশালার আয়োজন করে। পরে সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে সংস্থাটির মুখপাত্র অতিরিক্ত বিশেষ পুলিশ সুপার আজাদ রহমান এ তথ্য জানান।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, মানব পাচার মনিটরিং সেলের ফোকাল পয়েন্ট হিসেবে একজন অতিরিক্ত পুলিশ সুপারকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে, যার মোবাইল নাম্বার ০১৩২০-০১০১২৯। প্রয়োজনে জনগণকে বর্ণিত নাম্বারে যোগাযোগ করার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ করা হল।

দিনব্যাপী এই কর্মশালাটি উদ্বোধন করেন সিআইডি প্রধান অতিরিক্ত আইজিপি মোহাম্মদ আলী। এতে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ উপস্থিত ছিলেন। বাংলাদেশ জাতীয় মহিলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট সালমা আলী, বিএমইটির উপ-পরিচালক মাসুদ রানা, হেলভেটাস বাংলাদেশের প্রকল্প পরিচালক আবুল বাশার, সিম্স প্রকল্প ও ওকাপের প্রতিনিধিবৃন্দ।

অতিরিক্ত আইজিপি মোহাম্মদ আলী নিরাপদ অভিবাসন বিষয়ে সাধারণ জনগনকে সচেতন করা এবং অভিবাসী শ্রমিকদের নিয়ে কর্মরত বেসরকারী সংস্থাসমূহকে সমন্বয়ের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, সারা বাংলাদেশে মানব পাচার সংক্রান্ত মামলা এবং অবৈধ অভিবাসন প্রতিরোধে সিআইডিতে একটি মানব পাচার মনিটরিং সেল গঠন করা হয়েছে। যার ফোকাল পয়েন্ট হিসেবে একজন অতিরিক্ত পুলিশ সুপারকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে প্রয়োজনে জনগণকে বর্ণিত নাম্বারে যোগাযোগ করার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ করছি।

উল্লেখিত কর্মশালায় নিরাপদ অভিবাসন, অভিবাসীদের আইনি সহায়তা প্রাপ্তিতে অভিগম্যতা নিশ্চিতকরণ, গন্তব্য দেশে অভিবাসীদের আইনী সুরক্ষা নিশ্চিতকরণ এবং মানব চোরাচালান প্রতিরোধ সংক্রান্তে সাম্প্রতিক অবস্থা ও প্রতিরোধে পুলিশের ভূমিকা সংক্রান্তে বিশদ আলোচনা করা হয়। মানব পাচারকারী গড ফাদারদের চিহ্নিকরণ এবং এদেরকে আইনের আওতায় এনে ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে জোরালো উদ্যোগ গ্রহণের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

অ্যাডভোকেট সালমা আলী বলেন, বিভিন্ন গন্তব্য দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের বিদ্যমান দ্বিপাক্ষিক চুক্তি বাস্তবায়নের মাধ্যমে বিদেশে অভিবাসন সংক্রান্ত অপরাধীদেরকে গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা সম্ভব।