মাশরুর পারভেজ পরিচালিত সিনেমা ‘গোয়িং হোম’ বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথম চলচ্চিত্র, যা লন্ডনের ওটু এরিনা প্রেক্ষাগৃহে প্রদর্শিত হয়! এবার ছবিটি দেশে মুক্তি পাচ্ছে। আজ স্টার সিনেপ্লেক্সের বসুন্ধরা সিটি শাখায় মুক্তি পাচ্ছে ছবিটি। এর প্রধান চরিত্র রায়ান। সেই চরিত্রে অভিনয়ও করেছেন তিনি। আন্ডারওয়ার্ল্ড এবং সরকারের মধ্যে হিটম্যান হিসেবে তিনি যে জীবন পরিচালনা করেছেন তার পরিণতি এবং এটি তার আত্মাকে যে ক্ষতি করেছে তা নিয়েই এগিয়ে যায় এই ছবির গল্প। ছবিতে আরও উঠে আসে অ্যালকোহলের মাধ্যমে ক্ষয়ে যেতে থাকা এক তারুণ্য, বেস্ট ফ্রেন্ড ও প্রাক্তন প্রেমিকার সঙ্গে রায়ানের সম্পর্কের জটিলতা। ছবিটি প্রযোজনার পাশাপাশি একটি চরিত্রে অভিনয়ও করেছেন মাশরুরের বাবা ঢালিউডের অন্যতম বড় তারকা মাসুদ পারভেজ (সোহেল রানা)। সিনেমার গল্প নিয়ে মাশরুর বলেন, ‘এটি আমার প্রথম সিনেমা “রাইয়ান”-এর শেষ অংশও বলা যেতে পারে। সিনেমার অনেকটা জুড়েই আমার জীবনের কাহিনি। আমার জীবনের কষ্টটা সিনেমায় তুলে ধরার চেষ্টা করেছি। আসলে এটা এক যুবকের গল্প। সে তার বাবাকে হারিয়ে ফেলেছে। তাকে খোঁজার গল্প। এর বাইরে ভিন্ন একটা গল্প আছে, সেটা দর্শক হলে গিয়ে জানতে পারবে। এখানে যারা অভিনয় করেছেন, তারা সবাই প্রায় নতুন। আর বাবাকে (সোহেল রানা) অনেক চরিত্রে দেখা যাবে। এটা দর্শকের জন্য চমক।’
সিনেমাটি গত বছর লন্ডনে মুক্তি পেয়েছিল। কেমন সাড়া পেয়েছিলেন? জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘ক্যান্ডিড কমিউনিকেশন নামের একটি আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান সিনেমাটি লন্ডনে মুক্তি দেয়। ভালো সাড়া পেয়েছি। বড় প্রাপ্তি হলো, লন্ডনে “ওটু” নামে একটি নামকরা হলে গোয়িং হোম রিলিজ হয়েছে। আগে এই হলে কোনো বাংলা সিনেমা বাণিজ্যিকভাবে প্রদর্শিত হয়নি।’ জানলেন দেশে সিনেমাটি নিয়ে নিজের প্রত্যাশার কথা, ‘অনেক টেনশনে আছি। সিনেমাটি ৯০ মিনিটের। তারকাশিল্পী নেই, সে রকম কোনো গান নেই। জানি না দর্শক কীভাবে গ্রহণ করবে। তবে প্রিমিয়ার শো শেষে অনেকেই প্রশংসা করেছেন। এরপর থেকে সাহস পাচ্ছি।’
দর্শক কেন গোয়িং হোম দেখবে বলে মনে হচ্ছে? এ প্রশ্নের উত্তরে মাশরুর বলেন, ‘একটা ইন্ডাস্ট্রি চলতে গেলে সব জনরার সিনেমা লাগে। গত ঈদে মুক্তি পাওয়া “সুড়ঙ্গ” ও “প্রিয়তমা” কিন্তু দুই জনরার সিনেমা। আমার সিনেমাটি ভিন্নধারার, গল্পভিত্তিক সিনেমা। গোয়িং হোম সিনেমাটি দেখলে দর্শক ভিন্ন এক স্বাদ পাবে।’
আপনার তিনটি সিনেমাতেই সোহেল রানা অভিনয় করেছেন। বাবার সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতা নিয়ে তিনি বলেন, ‘তিনি খুবই প্রফেশনাল অভিনেতা। তার সঙ্গে কাজ করতে পারাটা আরামের। একবার বুঝিয়ে দিলেই হয়। এক অথবা দুই টেকেই আমি যা চাই, তা করে দিচ্ছেন। তাকে এতভাবে আমি ভেঙেছি, সেটা বলার বাইরে। তিনিও সব সময় চ্যালেঞ্জিং চরিত্রেই অভিনয় করেন।’