চলনবিলের মাছের পোনায় বাজার সয়লাব

বর্ষার পানিতে চলনবিল থৈ থৈ করলেও এখনো আশানুরূপ পানি আসেনি। তবে বর্ষার শুরুতে বিভিন্ন নদীর পানির সঙ্গে বিলে মাছের পোনাও প্রবেশ করেছে। চলনবিলে বিশেষ করে বোয়াল মাছের পোনা বিলে বেশি আসে। এসব পোনা মাছ থেকেই মাছের উৎপাদনে চাহিদা মেটে বিলের আশপাশের এলাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের। কিন্তু গত এক মাস ধরে যেহারে এসব পোনা মাছ শিকার করা হচ্ছে, তাতে মাছের উৎপাদন নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা। তারা বলছেন, এভাবে পোনা মাছ ধরলে ভবিষ্যতে দেশি মাছের প্রকট সংকটে পড়তে হবে।

বাজার ঘুরে দেখা গেছে, মরা বোয়ালের পোনা বিক্রি হচ্ছে ২০০ থেকে ২৫০ টাকায়, তাজা পোনা ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা কেজি। কাঁক ডাকা ভোর থেকে সিংড়া মাছের আড়তে উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে মাছ আসতে শুরু করে। নিষেধাজ্ঞা থাকায় বোয়াল মাছের পোনা গোপনে পাতিলে ও ব্যাগে আড়তে আসে। এরপরে চারিদিকে তাকিয়ে অল্প সময়ের মধ্যে আড়তের পাল্লায় তুলে বিক্রি করে আবার ক্রেতার পাত্রে তুলে দেওয়া হচ্ছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গত এক মাস থেকে নাটোরের সিংড়া উপজেলার সিংড়া মৎস্য আড়ত, দমদমা স্কুল বাজার, বিয়াস বাজার, কলম বাজার, বিলদহর বাজার, চৌগ্রাম বাজার, চকনওগাঁ বাজার, রাখালগাছা বাজারসহ ছোট-বড় বাজারে নিয়মিত উঠছে দেশি জাতের মাছে। সেই সঙ্গে আশঙ্কাজনক হারে বাজারগুলোতে আসছে বোয়াল মাছের পোনা। বাজারে আসা বোয়াল মাছের পোনাগুলো তিন থেকে ছয় ইঞ্চি লম্বা এবং আকারে একেবারেই ছোট। খেতে স্বাদ হওয়ায় ক্রেতাদের মধ্যে এসব মাছের চাহিদা থাকে বেশি।

কয়েকজন বিক্রেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, চলনবিলে এখন পানি নেই বললেই চলে। এ পোনাগুলো না ধরলে পানির অভাবে মারা যাবে। তাই ধরে ধরে বাজারে বিক্রি করছি। আমরা যদি এগুলো না ধরি আরেকজন ধরবে। আর এ মাছগুলো বিক্রি করে আমাদের সংসার চলে। মৎস্য অফিস থেকে আমাদের নিষেধ করে গেছে, তাই গোপনে বিক্রি করছি।

পরিবেশ ও প্রকৃতি আন্দোলনের সভাপতি মোল্লা মো. এমরান আলী রানা বলেন, এই মুহূর্তে ছোট মাছ ধরা উচিত না। দেশি মাছ আমাদের সম্পদ। এগুলো রক্ষা করার দায়িত্ব আমাদেরই। প্রতিদিন যেহারে বাজারগুলোতে পোনা মাছ আসে এর ধারাবাহিকতা চলতে থাকলে অদূর ভবিষ্যতে মৎস্য সংকটে পড়তে হবে আমাদের। তাই দ্রুত পোনা মাছ নিধন বন্ধ করতে প্রশাসনের নজরদারি বাড়ানো উচিত।

উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, গত জুন মাস থেকে এ পর্যন্ত ১৯টি অভিযান ও ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়েছে। এতে ২০ হাজার টাকা জরিমানা ও তিন শতাধিক চায়না কারেন্ট জাল জব্দ করে পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।

সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. শাহাদত হোসেন দেশ রূপান্তরকে বলেন, জেলেদের সচেতন করতে আমরা বিভিন্ন কর্মসূচি হাতে নিয়েছি। জুন মাস থেকে ১৮টি অভিযানে জরিমানা ও জাল জব্দ করে পুড়িয়ে ফেলা হয়েছে। আমরা বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখছি।

সহকারি কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. আল ইমরান দেশ রূপান্তরকে বলেন, উপজেলা প্রশাসন ও মৎস্য দপ্তরের প্রচারণা ও অভিযান অব্যাহত রয়েছে। পোনা মাছ ধরা ও বিক্রি বন্ধে দ্রুত সব ধরণের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।