প্রতিনিয়ত কাকডাকা ভোর থেকে শুরু করে গভীর রাত পর্যন্ত লোকজনে পরিপূর্ণ থাকে পাড়া-মহল্লার টি-স্টল বা চা- দোকানগুলো। নবীন-প্রবীণ সবার কাছে এটি আড্ডার স্থান। বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনায় মেতে ওঠে। অনেকে মজা করে বলে গরিবের সংসদ! কিন্তু চায়ের পেয়ালায় চুমুক দিতেই অনেকে বিভিন্ন গোনাহে লিপ্ত হচ্ছে। মনের অজান্তেই গোনাহের পাল্লা ভারী করে তুলছে। চায়ের দোকানগুলোর অধিকাংশেই রয়েছে টেলিভিশন। এখানে সারাক্ষণ চলে সিনেমা, গান। আর খেলার সময় জুয়া। চায়ের দোকানে টিভি স্ক্রিনের সামনে সময় কাটাতে কাটাতে তারা ভুলে যায় মহান রবের কথা। অথচ মহান আল্লাহ ইরশাদ করেন, ‘আর একশ্রেণির লোক আছে, যারা অজ্ঞতাবশত খেল-তামাশার বস্তু ক্রয় করে বান্দাকে আল্লাহর পথ থেকে গাফেল করার জন্য।’ সুরা লুকমান : ৬
বর্ণিত আয়াতের শানে নুজুল সম্পর্কে বর্ণিত আছে, মক্কার নজর ইবনে হারিস বিদেশ থেকে একটি গায়িকা বাঁদী খরিদ করে এনে তাকে গানবাজনায় নিয়োজিত করল। কেউ পবিত্র কোরআন শ্রবণের ইচ্ছা করলে তাকে গান শোনানোর জন্য সে গায়িকাকে আদেশ করত আর বলত মুহাম্মদ তোমাদের কোরআন শুনিয়ে নামাজ, রোজা ও ধর্মের জন্য প্রাণ বিসর্জন দেওয়ার কথা বলে। এতে তো শুধু কষ্ট আর কষ্ট। তার চেয়ে বরং তোমরা গান শোনো এবং জীবনকে উপভোগ করো। মাআরিফুল কোরআন : ৭/৪
হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেন, আমার উম্মতের কিছু লোক মদের নাম পরিবর্তন করে তা পান করবে। আর তাদের মাথার ওপর বাদ্যযন্ত্র ও গায়িকা রমণীদের গান বাজতে থাকবে। আল্লাহতায়ালা তাদের জমিনে ধসিয়ে দেবেন। ইবনে মাজাহ : ৪০২০
অনেকে আছে যাদের সময় কাটে না। তারা প্রতিদিন সকাল হলেই একটি চায়ের দোকানে গিয়ে বসে থাকে। মানুষের মুখে নানান খবর শুনে আনন্দঘন সময় কাটায়। এমনকি ঘর-পরিবার ছেড়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা সেখানে কাটায়। অথচ এর মধ্যে না তাদের কোনো দুনিয়াবি ফায়দা আছে আর না আখেরাতের ফায়দা আছে। বরং দামি সম্পদ সময়ই অপচয় হয়। কোরআনে কারিমে আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘সময়ের শপথ! মানুষ অবশ্যই ক্ষতিগ্রস্ত; কিন্তু তারা নয়, যারা ইমান আনে ও সৎকর্ম করে এবং পরস্পরকে সত্যের উপদেশ দেয় ও ধৈর্যের উপদেশ দেয়।’ সুরা আসর : ১-৩
একবার হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে প্রশ্ন করা হলো, সৌভাগ্যবান কারা? তিনি বললেন, সৌভাগ্যবান তারা, যারা দীর্ঘায়ু লাভ করেছে এবং তা নেক আমলের মাধ্যমে অতিবাহিত করেছে। আবার জিজ্ঞেস করা হলো, দুর্ভাগা কারা? তিনি বললেন, দুর্ভাগা তারা যারা দীর্ঘায়ু পেয়েছে এবং তা আমলবিহীন অতিবাহিত করেছে। জামে তিরমিজি : ২৩২৯
আরেকটা জঘন্য কাজ যা প্রতিনিয়ত চায়ের দোকানে হয়, তা হলো গিবত বা পরনিন্দা। চায়ের দোকানের পরনিন্দার কাজটি বেশি হয়। অথচ ইরশাদ হচ্ছে ‘মুমিনগণ! তোমরা অনেক ধারণা থেকে বেঁচে থাকো। নিশ্চয়ই কিছু ধারণা গোনাহ। তাছাড়া কারও গোপনীয় বিষয়ও সন্ধান করো না। তোমাদের কেউ যেন কারও পেছনে পরনিন্দা না করে। তোমাদের কেউ কি তার মৃত ভাইয়ের মাংস খাওয়াকে পছন্দ করবে? আসলে তোমরা তো একে ঘৃণাই করো। আল্লাহকে ভয় করো। নিশ্চয়ই তিনি তওবা কবুলকারী, পরম দয়ালু।’ সুরা হুজুরাত : ১২
সুতরাং প্রত্যেক সচেতন ব্যক্তিরই উচিত হবে এ ধরনের গোনাহ থেকে বেঁচে থাকা। চা-দোকানে যাওয়ার প্রয়োজন হলেও গোনাহের কাজ এড়িয়ে চলার চেষ্টা করা। দোকানিদের উচিত হবে দোকানগুলোকে সব ধরনের গোনাহের আসবাবমুক্ত রাখা।