এতদিন ডেঙ্গু মূলত ঢাকাকেন্দ্রিক ছিল। রোগটির গত ২২ বছরের ইতিহাসে ঢাকার বাইরে সবচেয়ে বেশি রোগী ছিল ৪৯ শতাংশ, সর্বোচ্চ আক্রান্তের বছর ২০১৯ সালে। এরপর থেকেই ধীরে ধীরে ঢাকার বাইরে রোগী বাড়তে থাকে। কিন্তু তা ৩৭ শতাংশ অতিক্রম করেনি। সর্বশেষ গত বছরও মোট রোগীর ৩৭ শতাংশ ছিল ঢাকার বাইরের।
এবার বছরের প্রথম সাড়ে সাত মাসেই ঢাকার বাইরে সর্বোচ্চ সংখ্যক রোগীর রেকর্ড অতিক্রম করল। গত ২৪ ঘণ্টায় (গতকাল সোমবার সকাল ৮টা পর্যন্ত) সারা দেশে নতুন ২ হাজার ৪৮০ রোগী নিয়ে এ বছর এখন পর্যন্ত মোট রোগীর সংখ্যা দাঁড়াল ৮৭ হাজার ৮৯১ জন। তাদের মধ্যে ঢাকার চেয়ে ৫৬১ জন রোগী বেশি শনাক্ত হয়েছে ঢাকার বাইরে। এর মধ্য দিয়ে দেশে এই প্রথম মোট রোগীর সংখ্যায় ঢাকাকে ছাড়িয়ে গেল বাইরের রোগীর সংখ্যা।
এমন পরিস্থিতিতে ঢাকা ও ঢাকার বাইরের দুই জায়গার জন্যই উদ্বেগজনক মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। তারা বলছেন, এতদিন ডেঙ্গু শুধু ঢাকাকেন্দ্রিক ছিল। এখন বোঝা গেল ঢাকার বাইরেও ডেঙ্গু প্রাদুর্ভাবের সব উপকরণই রয়েছে। অর্থাৎ দেশের যেকোনো এলাকার মানুষ ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হতে পারে।
এ ব্যাপারে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মুখপাত্র ও অসংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণ বিভাগের লাইন ডিরেক্টর অধ্যাপক ডা. রোবেদ আমিন দেশ রূপান্তরকে বলেন, এতদিন ঢাকায় বেশি ডেঙ্গু রোগী ছিল। এখন ঢাকার বাইরে বেশি। এটি দুই জায়গার জন্যই উদ্বেগজনক। কারণ আগে ঢাকাকেন্দ্রিক সংক্রমণ বেশি হতো, এখন ঢাকার বাইরেও সংক্রমণ হচ্ছে। তার মানে দেশের যেকোনো জায়গায় ডেঙ্গু হতে পারে। বাইরেও ডেঙ্গুর বাহক আছে, রোগী আছে। ডেঙ্গু রোগী যে সব ঢাকাকেন্দ্রিক, তা নয়। এখন ঢাকার বাইরে চিকিৎসা করানো গেলে, রোগীদের ঢাকায় আসতে না হলে, ভালো। কারণ ঢাকায় আসতে আসতে সিভিয়ারিটি বা ঝুঁকি বেড়ে যায়। মৃত্যুও কমবে।
ডেঙ্গুতে মৃত্যু ৪০০ ছাড়াল : দেশে গত এক দিনে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে আরও ১৮ জন মারা গেছে। এ নিয়ে এ বছর মৃত্যু বেড়ে ৪১৬ জনে দাঁড়াল। এর আগে আর কখনই ডেঙ্গুতে এত মৃত্যু হয়নি দেশে। ২০২২ সালে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ২৮১ জনের মৃত্যু হয়; তার আগে ২০১৯ সালে মারা যায় ১৭৯ জন।