এশিয়ার ক্লাব ফুটবলকে আরো জনপ্রিয় ও কার্যকরী করে তুলতে খোলনলচে পাল্টে ফেলা হয়েছে ফরম্যাট। সোমবার এএফসির নির্বাহী কমিটি এক অনলাইন সভায় হয়েছে এই সিদ্ধান্ত। একই সঙ্গে ক্লাব ফুটবল প্রতিযোগিতাগুলোর প্রাইজমানি কোন কোন ক্ষেত্রে বাড়ানো হয়েছে ২০০ শতাংশ। নতুন ফরম্যাটে এএফসি কাপ বদলে হয়ে যাচ্ছে এএফসি চ্যালেঞ্জ লিগ।
এতদিন এশিয়ার সর্বোচ্চ ক্লাব প্রতিযোগিতা ধরা হতো এএফসি চ্যাম্পিয়নস লিগকে। নতুন ফরম্যাটে সেটা হবে এএফসি চ্যাম্পিয়নস লিগ এলিট। এর পরের স্তর হবে এএফসি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ২। আর সর্বশেষ স্তর হবে এএফসি চ্যালেঞ্জ লিগ।
এই তিনটি স্তরে এশিয়ার সেরা ৭৬টি ক্লাব অংশ নিবে। ২৪টি দল নিয়ে হবে চ্যাম্পিয়নস লিগ এলিট। দ্বিতীয় স্তরে খেলবে ৩২ দল ও এএফসি চ্যালেঞ্জ লিগ হবে ২০ দল নিয়ে।
এএফসি'র নির্বাহী কমিটি একই সভায় আসর তিনটির নতুন প্রাইজমানি অনুমোদন করেছে। নতুন ফরম্যাটে এএফসি চ্যাম্পিয়নস লিগ এলিটের শিরোপাজয়ী দল পাবে ১২ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। যা অতীতে ছিল ৪ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। বেড়েছে ২০০ শতাংশ। এই আসরের রানার্স-আপ দল ২ মিলিয়ন ডলারের জায়গায় পাবে ৪ মিলিয়ন ডলার। আগামী ২০২৪-২৫ মৌসুম থেকে কার্যকর হবে এই সিদ্ধান্ত। এ ছাড়া নারী চ্যাম্পিয়নস লিগ শুরুর সিদ্ধান্তও হয়েছে সোমবারের সভায়।
ক্লাব ফরম্যাট পরিবর্তনের সিদ্ধান্তকে যুগান্তকারী দাবি করেছেন এএফসি সভাপতি শেখ সালমান বিন ইব্রাহিম আল খলিফা বলেন, ‘মহাদেশীয় ফুটবলে এর মধ্যেই ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়েছে এবং আকর্ষণীয় হয়েছে। আজ আমরা এর মধ্য দিয়ে নতুন ও ঐতিহাসিক যুগে পা রাখছি। যেটা এশিয়ার পুরুষ ও মহিলা ক্লাব ফুটবলকে আরো কার্যকর ও গতিশীল করে তুলবে।'
তিনি যোগ করেন, 'নতুন এই সিদ্ধান্তের ফলে আমাদের ক্লাবগুলো ও খেলোয়াড়রা নিশ্চিতভাবে বিশ্ব মঞ্চে তাদের ভালো পারফরম্যান্সের ধারা অব্যাহত রাখতে পারবে। একই সঙ্গে এর মধ্য দিয়ে আমাদের সদস্য দেশগুলোর কাছে আর্থিক উন্নয়নের প্রতিশ্রুতিটাও রাখা যাবে।'
গভর্নিং বডির সভা শেষে এএফসি এক বার্তায় জানিয়েছে এএফসি নারী চ্যাম্পিয়নস লিগে খেলতে যোগ্যতা সম্পন্ন সদস্য দেশগুলোকে আমন্ত্রণ জানানো হবে প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার জন্য এবং এর ফলে অংশগ্রহনকারী দেশগুলো আর্থিকভাবেও লাভবান হবে।'