খুমেক হাসপাতালের সামনে বন্ধ সব ওষুধের দোকান

খুলনা মেডিকেল কলেজ শিক্ষার্থী ও ওষুধ দোকানিদের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনার পর হাসপাতালের সামনে থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। হাসপাতালের সামনে পুলিশের নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। ওষুধের দোকান বন্ধ থাকায় খুমেক হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। হাসপাতালের আশপাশে সবগুলো ওষুধের দোকান বন্ধ থাকায় নগরীর (ডাকবাংলা) হেরাজ মার্কেটে ছুটতে হচ্ছে রোগীর স্বজনদের। এতে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন রাতে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীরা।

গতকাল সোমবার রাতে আমিরুল ইসলাম নামে এক রোগী খুমেক হাসপাতালে ভর্তি হয়। রোগীর ভাই সাইফুল ইসলাম জানান, রাত সাড়ে ১২টার দিকে ওষুধ কেনার জন্য হাসপাতালে সামনে যাই। এ সময় সব ওষুধের দোকান বন্ধ, যানবাহন নেই। ওই মুহূর্তে ভাইয়ের জন্য জরুরি একটি ইনজেকশন প্রয়োজন। কিন্তু যানবাহনও পাচ্ছি না। এতো রাতে কীভাবে হেরাজ মার্কেটে পৌঁছাব। তার মতো অনেক রোগীদের প্রয়োজনীয় ওষুধ কিনতে ছুটতে হচ্ছে হেরাজ মার্কেটে।

মঙ্গলবার (১৫ আগস্ট) খুমেক হাসপাতালে গিয়ে দেখা গেছে, হাসপাতালের সামনে সবগুলো ওষুধের দোকান বন্ধ। দোকানের সামনে ব্যানার টাঙানো, তাতে লেখা রয়েছে, ‘খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনে ওষুধ ব্যবসায়ী ওপর হামলাকারী দুর্বৃত্তের অবিলম্বে গ্রেপ্তার ও শাস্তি দাবি জানাই।’ বাংলাদেশ কেমিস্ট এন্ড ড্রাগিস্ট সমিতি, সোনাডাঙ্গা মডেল থানা শাখা।

খুলনা মেডিকেল কলেজের উপাধ্যক্ষ ও খুলনা বিএমএ’র সাধারণ সম্পাদক ডা. মো. মেহেদী নেওয়াজ বলেন, এখন পর্যন্ত পুলিশ প্রশাসন হামলাকারীদেরকে আটক করতে পারেনি। মঙ্গলবার রাতে কলেজের প্রশাসনের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট থানায় একটি লিখিত অভিযোগ প্রদান করবেন। কলেজের শিক্ষার্থীদের ও ক্যাম্পাস নিরাপত্তা জোরদারের জন্য পুলিশ প্রশাসনকে আহ্বান জানান।

বাংলাদেশ কেমিস্ট অ্যান্ড ড্রাগিস্ট সমিতি খুলনা জেলা কমিটি সিনিয়র সহ-সভাপতি ও কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি এসএম কবির উদ্দিন বাবলু বলেন, আমরা নিরাপত্তার কারণে ওষুধের দোকান বন্ধ রেখেছি। সোমবার রাতে খুলনা মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থীরা যেভাবে আমাদের ওষুধের দোকানে হামলা করেছে। তা মেনে নেওয়া যায় না। তাদের হামলায় ১০-১৪ জন দোকানদার আহত হয়েছেন।

তিনি বলেন, ১৫ আগস্টের শোক দিবসে প্রোগ্রামে আমরা ব্যস্ত ছিলাম। সে কারণে সমিতির নেতৃবৃন্দের সঙ্গে আমাদের বসার সুযোগ হয়নি। আজ রাতে বাংলাদেশ কেমিস্ট অ্যান্ড ড্রাগিস্ট সমিতির নেতৃবৃন্দের সঙ্গে আমরা বসে করণীয় বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেব।

তিনি বলেন, যতক্ষণ পর্যন্ত ওষুধ ব্যবসায়ীদের ওপর হামলাকারীরা গ্রেপ্তার না হবে ও তাদের জানমালের নিরাপত্তার ব্যবস্থা না করা হবে ততক্ষণ পর্যন্ত সব ওষুধের দোকান বন্ধ থাকবে।

তিনি বলেন, খুলনা মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন জেলা থেকে এখানে পড়াশোনা করতে আসেন। তাদের বাবা-মা কত কষ্ট করে ছেলে মেয়েদের পড়াশোনা করাচ্ছেন। এসব শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে এ ধরনের ঘটনা কখনও কেউ কাম্য করে না। তিনি বলেন, আমরা বুঝি ওষুধের দোকান বন্ধের কারণে সাধারণ রোগীরা ভোগান্তিতে পড়ছে, কিন্তু নিরাপত্তার কারণে ওষুধ দোকানগুলো বন্ধ রয়েছে।

বাংলাদেশ কেমিস্ট অ্যান্ড ড্রাগিস্ট সমিতির কেন্দ্রীয় কমিটির পরিচালক মো. জিল্লুর রহমান জুয়েল বলেন, আমরা এখন নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। কারণ যেকোনো মুহূর্তে খুলনা মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থীরা আমাদের ওপর হামলা চালাতে পারে। এছাড়া যারা হামলা চালিয়েছে তাদেরও গ্রেপ্তার ও বিচারের আওতায় আনতে হবে।

উল্লেখ্য, খুলনা মেডিকেল কলেজের কে-৩২ ব্যাচের একজন শিক্ষার্থীর কাছ থেকে মেডিকেলের সামনের এক ওষুধের দোকানদার ১০ শতাংশ কম না নেওয়ায় সোমবার সন্ধ্যায় শিক্ষার্থী ও ওষুধ দোকানদের সঙ্গে সংঘর্ষ ঘটনা ঘটে। এতে উভয় পক্ষের ২০ জন আহত হয়।

প্রত্যক্ষদর্শী ওষুধের দোকানদার ও মেডিকেল শিক্ষার্থীদের সূত্রে জানা যায়, সোমবার রাত ৯ টার দিকে হাসপাতালের সামনের মেসার্স বিল্পব মেডিসিন কর্নারে কিছু ওষুধ কিনতে যান সবুজ সরকার নামের একজন মেডিকেল শিক্ষার্থী। সেখানে ওষুধের মোট মূল্য হয় ৭০ টাকা। কিন্তু ওই ৭০ টাকার ওষুধে ১০ শতাংশ কমিশন দিয়ে ৬৩ টাকা রাখার অনুরোধ জানান সবুজ সরকার।

কিন্তু মাত্র ৭০ টাকার ওষুধে কোনো কমিশন নেয়ার সুযোগ নেই জানালে এ নিয়ে উভয়ের মধ্যে বাকবিতণ্ডা হয়। এর কিছুক্ষণ পর আরও কিছু মেডিকেল শিক্ষার্থীকে নিয়ে ওই দোকানে এসে অবৈধ ওষুধ বিক্রি হয়, ওষুধের দাম বেশি রাখা হয় এমন মন্তব্য করে কেন ওষুধের দাম কম রাখা হলো না এজন্য চাপ দেয় শিক্ষার্থীরা। এক পর্যায়ে আশপাশের ওষুধের দোকানদাররা এগিয়ে আসলে উভয় পক্ষের মধ্যে মারামারি হয়। মেডিকেলের তিন শিক্ষার্থী আহত হওয়ার খবর ক্যাম্পাসে পৌঁছালে আরও শিক্ষার্থীরা একত্রিত হয়ে ওষুধের দোকানের ওপর হামলা চালানো হয়।

খবর পেয়ে সেখানে সোনাডাঙ্গা মডেল থানার ওসির নেতৃত্বে একদল পুলিশ গেলে পুলিশের সামনেই ওষুধের দোকানদারদের সঙ্গে দফায় দফায় হামলায় জড়িয়ে পড়ে মেডিকেল শিক্ষার্থীরা। পরে ওষুধের দোকানদারদের সঙ্গে এলাকাবাসী একত্রিত হয়ে পাল্টা হামলা করলে সংঘর্ষ তুমুল আকার ধারণ করে।