সৎকাজ মানুষের আয়ু বৃদ্ধি করে। অসৎকাজ মানুষের রিজিকে সংকীর্ণতা নিয়ে আসে। হাদিস শরিফে ইরশাদ হয়েছে, হজরত সাওবান (রা.) বলেন, হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘কেবল সৎকর্মই আয়ু বৃদ্ধি করে এবং দোয়া ছাড়া অন্য কিছুতে তাকদির রদ হয় না। মানুষের অসৎকর্মই তাকে রিজিক-বঞ্চিত করে।’ ইবনে মাজাহ : ৯০
পবিত্র কোরআনে সৎকাজের প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ইরশাদ হয়েছে, ‘ভালো কাজ এটা নয় যে তোমরা তোমাদের চেহারা পূর্ব ও পশ্চিম দিকে ফেরাবে; বরং ভালো কাজ হলো যে ইমান আনে আল্লাহ, শেষ দিবস, ফেরেশতা, কিতাব ও নবীদের প্রতি এবং যে সম্পদ প্রদান করে তার প্রতি আসক্তি সত্ত্বেও নিকটাত্মীয়কে, এতিম, অসহায়, মুসাফির ও প্রার্থনাকারীকে এবং বন্দিমুক্তিতে এবং যে নামাজ কায়েম করে, জাকাত দেয় এবং যারা অঙ্গীকার করে তা পূর্ণ করে, যারা ধৈর্য ধারণ করে কষ্ট ও দুর্দশায় ও যুদ্ধের সময়ে। তারাই সত্যবাদী এবং তারাই মুত্তাকি।’ সুরা বাকারা : ১৭৭
উল্লিখিত আয়াতে সৎকাজের একটি তালিকা দেওয়া হয়েছে, যার মধ্যে আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে সদ্ব্যবহারের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।
নবীজি (সা.)-ও বিভিন্ন সময় সাহাবায়ে কেরামকে আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখার প্রতি গুরুত্বারোপ করেছেন। তার ভাষ্যমতে, এর দ্বারা নিজেদের মধ্যে যেমন আন্তরিকতা ও ভালোবাসা তৈরি হয়, তেমনি ধন-সম্পদ ও আয়ুষ্কালেও বরকত আসে।
হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী করিম (সা.) বলেছেন, তোমরা নিজেদের বংশধারার ব্যাপারে জ্ঞান অর্জন করো, যাতে তোমাদের বংশীয় আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখতে পারো। কেননা, আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় থাকলে নিজেদের মধ্যে আন্তরিকতা ও ভালোবাসা তৈরি হয় এবং ধন-সম্পদ ও আয়ুষ্কাল বৃদ্ধি পায়। জামে তিরমিজি : ১৯৭৯
অন্য হাদিসে ইরশাদ হয়েছে, হজরত আনাস (রা.) বলেন, হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি স্বীয় রিজিক বৃদ্ধি ও দীর্ঘজীবী হতে চায় সে যেন আত্মীয়তার সম্পর্ক অটুট রাখে।’ সুনানে আবু দাউদ : ১৬৯৩
সুবহানআল্লাহ, পবিত্র কোরআনে আত্মীয়স্বজনের পাশাপাশি আর কিছু লোকের সঙ্গে সদ্ব্যবহারের আদেশ দেওয়া হয়েছে, যারা আত্মীয় না হলেও আত্মীয়ের সঙ্গে বেশি সময় তাদের সঙ্গেই থাকতে হয়। যেমন : প্রতিবেশী, পার্শ্ববর্তী সঙ্গী, অফিসের সহকর্মী প্রমুখ, মুসাফির ও অধস্তন কর্মচারী।
মহান আল্লাহ বলেন, ‘তোমরা ইবাদত করো আল্লাহর, তার সঙ্গে কোনো কিছুকে শরিক করো না। আর সদ্ব্যবহার করো মা-বাবার সঙ্গে, নিকটাত্মীয়ের সঙ্গে, এতিম, মিসকিন, নিকট প্রতিবেশী, অনাত্মীয় প্রতিবেশী, পার্শ্ববর্তী সঙ্গী, মুসাফির এবং তোমাদের মালিকানাভুক্ত দাস-দাসীদের সঙ্গে। নিশ্চয়ই আল্লাহ পছন্দ করেন না তাদের, যারা দাম্ভিক, অহংকারী। সুরা নিসা : ৩৬
পবিত্র কোরআনের এই নির্দেশনাগুলো পালন করলে মানুষের সামাজিক জীবন আরও সুন্দর, সহজ ও উপভোগ্য হয়ে উঠবে। আল্লাহর রহমত ও বরকত আসবে। আর এর উল্টো হলে আল্লাহর অভিশাপে অভিশপ্ত হতে হবে। ইরশাদ হয়েছে, ‘তোমরা ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হলে এরও সম্ভাবনা রয়েছে যে তোমরা পৃথিবীতে বিপর্যয় সৃষ্টি করবে এবং তোমাদের আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্ন করবে। ওরা তারাই, যাদের প্রতি আল্লাহ অভিসম্পাত করেছেন এবং তাদের বধির ও দৃষ্টিশক্তিহীন করেছেন। সুরা মুহাম্মাদ : ২২-২৩
আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্ন করার ভয়াবহতা এমন যে তার শাস্তি পরকালে যেমন ভোগ করতে হয়, দুনিয়াতেও এর কারণে বিভিন্ন ধরনের প্রতিকূল পরিস্থিতিতে পড়তে হয়। এজন্যই নবীজি (সা.) উম্মতকে এ ব্যাপারে বিশেষভাবে সতর্ক করে গেছেন। হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘কোনো গোনাহের কারণে যদি আখিরাতের শাস্তির পাশাপাশি দুনিয়াতেও শাস্তি ত্বরান্বিত হয়, তবে জুলুম ও আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্ন করা থেকে বেশি উপযুক্ত অন্য কোনো গোনাহ নেই।’ মুসনাদে আহমাদ : ২০৩৯৮