তিন বছর পেরিয়ে গেলেও নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার পুরিন্দা সড়কের কামরাণীরচর বাজারসংলগ্ন ব্রহ্মপুত্র নদের ওপর সেতুর নির্মাণ কাজ শেষ হয়নি। এ সময় সম্পূর্ণ সেতু নির্মাণের কথা থাকলেও কাজ শেষ হয়েছে ২০ শতাংশ। দীর্ঘদিন ধরে সেতুর নির্মাণ কাজ বন্ধ রয়েছে। কাজ আবার কখন শুরু হবে সংশ্লিষ্ট কেউ বলতে পারছেন না। সেতু না থাকায় তিন ইউনিয়ন ও এক পৌরসভার প্রায় ৩০টি গ্রামের মানুষ ভোগান্তিতে পড়েছেন।
স্থানীয় প্রকৌশলী অফিস সূত্রে জানা যায়, দ্বিতীয় নগর উন্নয়ন প্রকল্পের (সিআরডিপি) আওতায় আড়াইহাজার পুরিন্দা সড়কের ব্রহ্মপুত্র নদের ওপর ৪ কোটি ৮২ লাখ ব্যয়ে ২০২০ সালের ৩২ মিটার দীর্ঘ একটি সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেয় সরকার। সেতুর সংযোগ সড়কসহ প্রায় সাড়ে পাঁচ কোটি টাকা ব্যয় ধরে সরকার। কাজের দায়িত্ব দেওয়া হয় ইউনুস আল মামুনের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান রিজভী কনস্ট্রাকশনকে। ২০২০ সালের নভেম্বরে সেতু নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করেন স্থানীয় সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম বাবু। চুক্তি অনুযায়ী ২০২১ সালের মে মাসে সেতু নির্মাণ কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল। নির্ধারিত সময়ে ১০ শতাংশ কাজও শেষ করতে না পারায় সময় বৃদ্ধির আবেদন করে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান। স্থানীয় প্রকৌশলী বিভাগ থেকে নির্ধারিত সময়ের থেকে আরও ছয় মাস সময় বাড়িয়ে দেয়া হয়। পরবতীর্তে সেতু নির্মাণ কাজ শুরু হলেও কাজের অগ্রগতি নিয়ে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও স্থানীয় প্রকৌশলী বিভাগের কর্মকর্তারা অসন্তোষ প্রকাশ করে আসছেন। তবে ওই প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে এখনো কোন ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
এদিকে সরেজমিনে দেখা যায়, সেতুর মাত্র ২০ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। দীর্ঘদিন কাজ বন্ধ থাকায় রডগুলো মরিচায় নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। সেতু সংযুক্ত সড়কের আগের পীচ তুলে ফেলায় সড়কটি খানাখন্দে পরিণত হয়েছে। এতে সেতুর পাশ দিয়ে সড়কে অটোরিকশাসহ যান চলাচলেও বেশ দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে স্থানীয়দের।
অটোরিকশা চালক মোক্তার হোসেন বলেন, গত তিন বছর ধরে এই সেতুর জন্য দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। অফিসাররা আসে আর যায়, কিন্তু কাজের কোন অগ্রগতি নেই।
চামুরকান্দিন গ্রামের রিপন মিয়া বলেন, এই ব্রীজ দিয়ে ব্রাহ্মন্দী, দুপ্তারা, সাতগ্রাম ও আড়াইহাজার পৌরসভার প্রায় ৩০ থেকে ৪০ গ্রামের লোকাজন চলাচল করে। ব্রীজ নির্মাণ শেষ না হওয়ায় মানুষের কষ্টের সীমা নেই।
কামরাণীরচর বাজারের মৎস্য ব্যবসায়ী মো. লিটন বলেন, রবি ও বুধবার ঐতিহ্যবাহী কামরাণীরচর বাজারের সাপ্তাহিক হাট বসে। এ হাটে আশপাশের গ্রামসহ অনেক দূর থেকে লোকজন বাজার করতে আসে। এই ব্রীজের নির্মাণ কাজ শেষ না হওয়ায় বাজারেও এর প্রভাব পড়েছে।
কামরানীর চরের বাসিন্দা মাসুম চৌধুরী, মোমেন মিয়া, আসকর আলী, জুয়েল মিয়াসহ বেশ কয়েকজন গ্রামবাসী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, প্রায় তিন বছর সময় হতে চলল, কিন্তু সেতুর পাঁচ ভাগের এক ভাগ কাজও শেষ হয়নি। পিলার নির্মাণের সময় নিম্নমানের কাজ হয়েছে।
স্থানীয় পৌরসভার কাউন্সিলর রাশিদা আক্তার জানান, পুরাতন ব্রীজটি ভেঙ্গে আধুনিক ব্রীজ নির্মাণের উদ্যোগ নেয় সরকার। ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান গাফিলতিতে দেড় বছরের কাজটি প্রায় তিন বছরেও শেষ হয়নি।
আড়াইহাজার পৌরসভার মেয়র সুন্দর আলী বলেন, এই সেতুর জন্য মানুষজন বিশেষ করে আড়াইহাজার—পুরিন্দা সড়কে চলাচলকারী লোকজনের দুর্ভোগের শেষ নেই। তিনি সেতুটি দ্রুত নির্মাণ কাজ শেষ করতে স্থানীয় সরকার বিভাগের উর্ধ্বতনদের জোড়ালো ভূমিকা রাখার দাবি জানান।
রিজভী কনস্ট্রাকশনের স্বত্বাধিকারী ইউনুস আল মামুন সাথে তার মোবাইলফোনে একাধিক বার ফোন দিলেও তিনি রিসিভ করেনি।
প্রতিষ্ঠানটির সুপারভাইজার খোকন মিয়া জানান, ‘বুয়েট থেকে ওয়েট টেস্টের রিপোর্টের অপেক্ষায় কাজ বন্ধ রয়েছে। রিপোর্ট পেলেই কাজ শুরু করা হবে।’
উপজেলা প্রকৌশলী আরিফুর রহমান জানান, ‘সেতুর কাজটি নিয়ে ঠিকাদার খুবই ভোগাচ্ছে। তবে দ্রুত কাজ শেষ করতে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে চিঠি দেয়া হয়েছে। কাজ না করলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’