ডানপিটে ছেলে

‘ডানপিটে ছেলে’ চলচ্চিত্রটি গ্রামের দুরন্ত কিশোর কামালকে কেন্দ্র করে নির্মিত হয়েছে। এ চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন আজাদ রহমান শাকিল, চয়নিকা, সুভাষ, রাজ্জাক, শর্মিলী আহমেদ, রওশন জামিল, আনোয়ারাসহ অনেকে। মুক্তির পর চলচ্চিত্রটি রাশিয়ার মস্কো ও জার্মানির আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে প্রদর্শিত হয়। ১৯৮১ সালে এই চলচ্ছিত্রের জন্য খান আতাউর রহমান শ্রেষ্ঠ চিত্রনাট্যকার ও শ্রেষ্ঠ গীতিকার হিসেবে এবং ডাকু চরিত্রের অভিনয়কারী শিশুশিল্পী শাকিল জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করেন।

ছবির প্রধান চরিত্র কামাল ভীষণ সাহসী ছেলে। দস্যিপনা আর দুষ্টুমির কারণে তাকে তার বাবা ডাকু নামে ডাকতেন। এখন কামালকে সবাই ডাকু বলেই ডাকে। মাকে নিয়ে তার সংসার। গ্রামের প্রাইমারি স্কুলের শিক্ষক হোসেন মাস্টার ছেলেমেয়েদের পড়ালেখা শেখান। ছেলেমেয়েরা শিক্ষিত হলে হিসাব শিখে যাবেÑ এ ভয়ে চৌধুরীর লোকজন মাস্টারকে গ্রাম ছেড়ে চলে যেতে বলেন। হোসেন মাস্টার চলে গেলে ডাকুর ভীষণ মন খারাপ হয়। ডাকু এতটাই সাহসী যে, আছাড় দিয়ে সাপ মেরে ফেলে। মায়ের চিন্তা এ ছেলের কিছু একটা হলে বিধবা মায়ের কী হবে! কী নিয়ে বাঁচবে মা! চৌধুরী বাড়ির প্রতি ডাকুর খুব জেদ। কারণ তারা মানুষকে জুলুম করে। দুরন্ত ডাকু চৌধুরীর বাগানের পেয়ারা, কলা চুরি করে। পুকুরের মাছ ধরে। আবার বন্ধুদের মাঝে ভাগ করে দেয়। তার মতে, ‘মাটির ওপর যে ফসল ফলে, তার ওপর সম্পূর্ণ অধিকার মাথার ঘাম পায়ে ফেলে যে ফসল ফলায় তার।’ পেয়ারা চুরি করতে গিয়ে চৌধুরীর কাছে ধরা খেলে অনেক মার খায়। ডাকুর ইচ্ছা করে মাছরাঙা পাখির মতো উড়ে দেশটা ঘুরে দেখতে। এ চলচ্চিত্রের একটি বিখ্যাত গান, ‘হায়রে আমার মন মাতানো দেশ।’ একদিন চৌধুরীর ছেলে তারেক বন্দুক হাতে বাগানে গেলে পিছু নেয় পাগলা কুকুর। তারেক বাঁচাতে গিয়ে ডাকু কুকুরের কামড় খায়। তারেকের কোথাও আঘাত হয়নি। অথচ তাকে চৌধুরী সাহেব শহরে চিকিৎসা করাতে নিয়ে যায়। ডাকু তার সন্তানকে বাঁচাল অথচ তার প্রতি কোনো সহানুভূতি নেই। ডাকু কয়েকদিন পর অনেক অসুস্থ হয়ে পড়ে। পানি খাওয়ার জন্য খুব তৃষ্ণা পায়। কিন্তু পানি খেতে পারে না। মা কবিরাজ দেখায়। অবস্থা খারাপ দেখে কবিরাজ ওষুধ খাইয়ে ঘুম পাড়িয়ে রাখে। তারেক শহরে গিয়ে আত্মগ্লানিতে ভোগে। হোসেন মাস্টার তারেকের মুখে ডাকুর খবর শুনে ডাকুকে শহরে চিকিৎসা করাতে আনে। কিন্তু অনেক দেরি হয়ে গেছে। পানির তৃষ্ণায় জলাতঙ্ক রোগ হয়ে মারা যায় ডাকু। বাড়িতে মায়ের সামনে ডাকুর লাশ। তারেক একাই গ্রামে চলে আসে। লাশের পাশে বসে ডাকুর কাছে ক্ষমা চায়। তারেক ডাকুর মাকে বলে, আজ থেকে আমি তোমার সন্তান। তারেকের বাবা চৌধুরী নিজের ভুল বুঝতে পারে। তারেক ডাকু হয়ে ডাকুর মায়ের সঙ্গেই জামতলী গ্রামে বসবাস শুরু করে। হোসেন মাস্টার ডাকু অর্থাৎ কামালের নামে ‘কামাল স্মৃতি বিদ্যালয়’ স্থাপন করেন। চৌধুরী সাহেব হাইস্কুলের জন্য জমি দান করেন। ডাকু নেই। তারেক ডাকু হয়ে বেঁচে থাকে। ডানপিটে ছেলে চলচ্চিত্রটি দেখলে তোমরা কিশোর কামাল অর্থাৎ ডাকুর মধ্যে সাহসিকতা, পরোপকারিতা, সততার দৃষ্টান্ত খুঁজে পাবে। ডাকু নিজের জীবন বিসর্জন দিয়ে যে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছিল তার ফলেই গ্রামের শোষক শ্রেণির চিন্তাচেতনার পরিবর্তন হয়। ডানপিটে চলচ্চিত্রটি ইউটিউবে আছে, তোমরা অবসরে দেখতে পারো।