তারকার স্ট্যাটাস

শাহরুখ খানের ‘পাঠান’ সিনেমায় ‘বেশরম রঙ’ কিংবা ঋত্বিক রোশনের ‘ওয়ার’ সিনেমায় ‘ঘুংরু’। দুটো গানেরই মিউজিক করেছিলেন বিশাল-শেখর, তারা এই গান গাইয়েছেন শিল্পা রাওকে দিয়ে। গতকাল মুক্তি পাওয়া রজনীকান্তের ‘জেলার’ সিনেমায় তামান্না যে ‘কাভালাইয়া’ গানে ঝড় তুলেছেন সেটাও অনিরুধ রবীচন্দর গাইয়েছেন শিল্পা রাওকে দিয়েই। টানা এই তিনটা গান চূড়ান্ত জনপ্রিয় হলেও তার আগে শিল্পা রাও অরিজিতের সঙ্গে গেয়েছিলেন ‘কালাঙ্ক’ সিনেমার টাইটেল সং। শিল্পা রাও কেকের সঙ্গে আরও গেয়েছিলেন রনবীর কাপুর-দীপিকার ‘বাচনা এয় হাসিনো’ সিনেমায় বিশাল- শেখরের মিউজিকে ‘খুদা জানে’। প্রীতমের মিউজিকে আমির খান-ক্যাটরিনার ‘ধুম থ্রি’তে শিল্পা গেয়েছিলেন ‘মালাং’ শিরোনামে এক গান। মণি রতœমের ‘পোন্নিয়ান সেলভান’ সিনেমায় শিল্পা গেয়েছেন মিউজিক মায়েস্ত্রো এআর রহমানের সুরে আর গুলজারের কথায় ‘রুয়া রুয়া’। এরকম আরও উল্লেখযোগ্য অনেক গানই আছে। সিনেমার গানে ঝড় তোলা এইসব গানের শিল্পী শিল্পা রাও মূলত একজন শাস্ত্রীয় সংগীতের শিল্পী। বিপ্লবী উর্দু কবি ফয়েজ আহমেদ ফয়েজের লেখা মেহেদী হাসানের বিখ্যাত গজল ‘গুলো মে রাঙ্গ ভারে’ শিল্পার কণ্ঠে শুনলে যে কারও মাথা ঝিম ধরে যাবে। মুম্বাই থেকে ফলিত রসায়নে পড়ালেখা করা শিল্পার জন্ম ঝাড়খ-ের জমশেদপুরে। ইতিমধ্যে ফিল্ম ফেয়ারসহ অনেক পুরস্কারই তার ঝোলাতে জমা হয়েছে। শিল্পা রাও দেখতে কৃষ্ণবর্ণ। শিল্পা রাওয়ের গ্ল্যামার অসামান্য। শিল্পা রাও শাস্ত্রীয় সংগীতে ভীষণ দক্ষ। শিল্পা রাও সিনেমার ট্রেন্ডি গানের বড় আস্থা। এই পথে আসতে শিল্পাকে কারও কাছে গিয়ে আলাদা সুবিধা নিতে হয়নি। শিল্পা এসেছেন একান্ত নিজ যোগ্যতায়। শিল্পা প্রমাণ করেছেনÑ মেধা, লক্ষ্য আর লেগে থাকায় গন্তব্যে কীভাবে পৌঁছে যাওয়া যায়। ভারতবর্ষে আমার অন্যতম প্রিয় শিল্পী শিল্পা রাও। আমার কত নির্ঘুম রাত কেটে যায় শিল্পার গজল শুনে। লেখাটা লিখলাম, যেকোনো মেধাবী কণ্ঠ তাকে দেখে শিক্ষা নিতে পারে, তাই।’

বলিউডের মেধাবী শিল্পী শিল্পা রাওকে নিয়ে কথাগুলো লিখেছেন গায়ক লুৎফর হাসান।