ছানি অপারেশনের পরে সে চোখের দৃষ্টি ফিরে আসবে। এটিই স্বাভাবিক। তবে কোনো কোনো সময় এর ব্যত্যয় ঘটতে দেখা যায়। ছানি অপারেশনে আলোকরশ্মির আপতিত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হলেও রেটিনায় অসুস্থতা থাকায় রেটিনা থেকে তড়িৎপ্রবাহ বা সিগনেল মস্তিষ্কে পৌঁছাতে বাধাগ্রস্ত হয়। ফলে অপারেশন সম্পন্ন হলেও দৃষ্টি সমস্যা রয়ে যায়। রেটিনার অসুস্থতার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো
শারীরিক অসুস্থতাজনিত রেটিনার সমস্যা যাদের ডায়াবেটিস, উচ্চরক্তচাপ, কিডনি সমস্যা ইত্যাদি থাকে তাদের দেহের অন্যান্য অঙ্গের জটিলতার পাশাপাশি চোখের পর্দা বা রেটিনাতেও সমস্যা থাকতে পারে। এটিকে বলা হয় রেটিনোপ্যাথি। এই সমস্যা আগে থেকেই বিদ্যমান থাকলে ছানি অপারেশনের পরও দৃষ্টি সমস্যা কিছুটা থেকে যেতে পারে।
চোখের অসুস্থতা যেমন গ্লোকুমা, মেকুলার ডিজেনারেশন, রেটিনাল ডিটাচমেন্ট, মেকুলার হোল, রক্তনালি ও রক্তক্ষরণজনিত সমস্যা, ইউভিয়াইটিসের জটিলতা ইত্যাদি ছানি অপারেশনের পরও অনেক সময় ভালো না দেখার আশঙ্কা থেকে যায়।
এসব ক্ষেত্রে প্রয়োজন অপারেশনের আগেই ভালো করে সার্বিক বিষয় পরীক্ষা করে দেখে রোগীকে আগেই জানিয়ে রাখতে হবে। তাহলে বিষয়টিকে মেনে নিয়ে বোঝাপড়ার মাধ্যমে পরবর্তী ধাপের চিকিৎসা নিতে হবে। অর্থাৎ রেটিনার সমস্যাটিকে গুরুত্বসহকারে বিবেচনায় নিতে হবে। অনেক সময় ছানির কারণে রেটিনার সমস্যা নিরূপণে কিছুটা অস্পষ্টতা থেকে যায়, যা ছানি অপারেশনের পরে স্পষ্টতর হয়। ফলে অনেক সময় রেটিনার সমস্যা আগে থেকেই আঁচ করতে পারলে আগেভাগেই ছানি অপারেশন করিয়ে নেওয়া ভালো। কারণ রেটিনার সমস্যা শনাক্তকরণে এবং তার চিকিৎসার সুযোগ নিতে ছানি অপসারণ অনেক সময় জরুরি হয়ে পড়ে। ছানি অপসারণ হলেই কেবল লেজার চিকিৎসার মতো কিছু পদক্ষেপ নেওয়া সহজতর হয়।