ঢাকা-বরিশাল মহাসড়ক যেন এখন মৃত্যুকূপে পরিণত হয়েছে। এ সড়কের ফরিদপুরের ভাঙা থেকে শুরু করে বরিশাল হয়ে কুয়াকাটা পর্যন্ত অংশে প্রায়ই ঘটছে ছোট-বড় দুর্ঘটনা, হতাহত হচ্ছে মানুষ। সব মিলিয়ে দীর্ঘ হচ্ছে মৃত্যুর মিছিল। যাত্রীরা বলছেন, দুর্ঘটনায় পড়ে যেকোনো সময় প্রাণ হারানোর আতঙ্ক নিয়ে সড়কটি দিয়ে চলাচল করতে হয় তাদের।
অভিযোগ রয়েছে, ভাঙা থেকে কুয়াকাটা পর্যন্ত সরু সড়ক এবং অদক্ষ গাড়িচালকদের জন্য দুর্ঘটনা ঘটছে। তবে গাড়িচালকরা বলছেন, সড়কটি দ্রুত প্রশস্ত না করা হলে এবং ছোট যানবাহনের জন্য আলাদা লেন করে দেওয়া না হলে কোনোভাবেই দুর্ঘটনা রোধ করা যাবে না।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সরকারের উচিত খুব দ্রুত এ মহাসড়কটি প্রশস্ত করা। এ সড়কের কারণে পদ্মা সেতুর পুরোপুরি সুফল থেকে বঞ্চিত হচ্ছে দক্ষিণাঞ্চলের মানুষ। পদ্মা সেতু চালুর পর এ সড়কে যাত্রীবাহী বাস ও পণ্যবাহী ট্রাকের সংখ্যা অস্বাভাবিক হারে বেড়েছে। সড়কপথে মানুষের যাতায়াতও বেড়েছে কয়েকগুণ। পাশাপাশি সড়কে চলার সময় যানবাহনগুলোর চালকদের মধ্যে চলছে আগে যাওয়ার প্রতিযোগিতা। আর এসব সমীকরণ মিলিয়ে দুর্ঘটনা ও প্রাণহানিও বাড়ছে। চলতি বছর জানুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কে যানবাহনের মুখোমুখি সংঘর্ষ এবং নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ে অন্তত ১৬ জন নিহত হয়েছে। আহত হয়েছেন এর কয়েকগুণ বেশি।
ঢাকা থেকে কুয়াকাটার দূরত্ব প্রায় ২৯৫ কিলোমিটার। এ সড়কে প্রতিদিন চলাচল করে হাজারো যানবাহন। অন্যদিকে বরিশাল নথুল্লাবাদ কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল থেকে ঢাকার দূরত্ব প্রায় ১৮১ কিলোমিটার। এখান থেকে দেশের বিভিন্ন রুটের বাস ছেড়ে যায়। এ টার্মিনাল থেকে ঘণ্টায় প্রায় ১০০ বাস ছেড়ে যায়। যাত্রীর চাপ বেশি থাকায় কোনো কোনো বাসকে অতিরিক্ত যাত্রী বহন করেই টার্মিনাল ত্যাগ করতে দেখা যায়। আবার ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা বাসগুলোও পথে পথে অতিরিক্ত যাত্রী তোলে। যে কারণে অনেক সময় পড়তে হয় দুর্ঘটনায়।
বরিশালের ২৭টি সাংস্কৃতিক সংগঠনের সমন্বয়ে গঠিত বরিশাল সাংস্কৃতিক সংগঠন সমন্বয় পরিষদের সাধারণ সম্পাদক ও শিক্ষক স্নেহাংশু কমুর বিশ্বাস দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘সরকারি গাড়ি এবং বিআরটিসির বাসগুলোতে দুর্ঘটনার খবর তেমন শোনা যায় না। এর কারণ হলো এসব গাড়ির ড্রাইভার, স্টাফ যারা আছেন তারা প্রশিক্ষিত। আর প্রাইভেট গাড়িগুলো যারা চালায় তাদের অনেকের কোনো ড্রাইভিং লাইসেন্স নেই, প্রশিক্ষণও নেই। এ ছাড়া বরিশাল অঞ্চলে যেসব গাড়ি চলে তার অধিকাংশই ফিটনেসবিহীন। অনেকে টাকা দিয়ে লাইসেন্স বের করে নেয়। আবার ফিটনেসবিহীন গাড়ি ক্ষমতা দিয়ে চালায়।’
এ প্রসঙ্গে গৌরনদী হাইওয়ে থানার ওসি গোলাম রসুল মোল্লা দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘মূলত রাস্তা সরু এবং একটু পরপর মোড় থাকার কারণে দুর্ঘটনা বেশি ঘটে। দুর্ঘটনা এড়াতে ছয় লেনের সড়ক প্রয়োজন; বড় গাড়িগুলো চার লেন দিয়ে চলবে এবং আরও দুটি লেন থাকবে দুই পাশে। ছোট গাড়ি দুই ওই দুই পাশের দুটি লেন দিয়ে চলাচল করবে।’
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে সড়ক ও জনপথ বিভাগ, বরিশালের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মিন্টু রঞ্জন দেবনাথ বলেন, ‘দুর্ঘটনা কমাতে আমরা ইতিমধ্যেই রাস্তা প্রশস্ত করার কার্যক্রম হাতে নিয়েছি। ফরিদপুর থেকে কুয়াকাটা পর্যন্ত সড়ক চার লেন করার পরিকল্পনা করা হয়েছে।’ প্রকল্পটির কাজ শুরুর সম্ভাব্য সময় জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এটি আসলে সুদূরপ্রসারী কাজ। বরাদ্দ না পাওয়া পর্যন্ত কাজ শুরু হওয়ার সম্ভাব্য তারিখ বলা যাচ্ছে না।