‘মৃত’ সেলিনা বেগমকে অ্যাম্বুলেন্সে করে পাঠানো হলো ঢাকায়

ভৈরবে ভুল চিকিৎসায় নারীর মৃত্যুর অভিযোগে গ্রামীণ জেনারেল হাসপাতালের কার্যক্রম সাময়িক বন্ধ করে দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। ভুক্তভোগী ওই নারীর নাম সেলিনা বেগম (৪৭)।

আজ শনিবার (১৯ আগস্ট) দুপুরে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিকসমূহ) ডা. মো. হাবিবুল আহসান তালুকদার স্বাক্ষরিত এক চিঠির নির্দেশনায় উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগ হাসপাতালটি সিলগালা করে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক স্বাক্ষরিত চিঠিতে ‘ভুল চিকিৎসা রোগীর মৃত্যুর’ ঘটনায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর গঠিত তদন্ত কমিটির কাছে হাসপাতালটির অপারেশন পরবর্তী ব্যবস্থাপনায় অসঙ্গতি ও গাফিলতি প্রাথমিকভাবে প্রমাণিত হওয়ায় এ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয় বলে উল্লেখ করা হয়। আগামী ৭ কর্মদিবসের মধ্যে এই বিষয়ে লিখিত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার জন্য হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে নির্দেশনাও দেওয়া হয়।

জানা যায়, নিহত সেলিনা বেগম শহরের দক্ষিণ জগন্নাথপুরের আওয়ালকান্দা এলাকার আক্তার মিয়ার স্ত্রী। ভুল চিকিৎসায় সেলিনা বেগমের মৃত্যুর ঘটনায় গত ৮ জুলাই শনিবার সকালে গ্রামীণ জেনারেল হাসপাতালে ভাঙচুর করে রোগীর স্বজন ও এলাকাবাসী। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়। এর আগে ৬ জুলাই বৃহস্পতিবার সেলিনা বেগম জরায়ুর সমস্যা নিয়ে গ্রামীণ জেনারেল হাসপাতালে আসেন। সেখানে তিনি ডা. ফাহিমা শারমিন হানি ও ডা. দীপঙ্কর রায় এর তত্ত্বাবধানে ভর্তি হন। পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে গত ৭ জুলাই শুক্রবার বিকালে সেলিনা বেগমের জরায়ু অপারেশন করা হয়। রাত ২টার দিকে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে রোগীর স্বজনরা হাসপাতালের স্টাফদের বিষয়টি জানালে তারা কোনো ব্যবস্থা নেয়নি।

স্বজনদের অভিযোগ, ওই দিন রাত ৪টায় রোগীর অবস্থা আরও অবনতি হয়। তখনই সেলিনা বেগম মারা যান। তারপরও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের চাপে তারা অ্যাম্বুলেন্সে করে ঢাকার পথে রওনা করেন। কিন্তু রোগীর জীবিত থাকা নিয়ে সন্দেহ হলে পথে নরসিংদীর একটি হাসপাতালে নিলে চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করেন।

এই ঘটনার গ্রামীণ জেনারেল হাসপাতালের এমডি বদরুজ্জামান বদিসহ ছয়জনকে অভিযুক্ত করে গত ৮ জুলাই রাতে ভৈরব থানায় একটি মামলা করেন নিহত সেলিনা বেগমের স্বামী আক্তার হোসেন। গত ১০ জুলাই সোমবার দুপুরে কিশোরগঞ্জের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্র্যাট আদালত-২ এর বিচারক কিশোর দত্ত ওই মামলার অভিযুক্তদের জামিন মঞ্জুর করেন।