এডিস মশার লার্ভা নিধনের জৈব কীটনাশক বিটিআই (ব্যাসিলাস থুরিংয়েইনসিস ইসরায়েলেনসিস) আমদানি নিয়ে জালিয়াতির অভিযোগে মার্শাল অ্যাগ্রোভেট কোম্পানি লিমিটেডকে কালো তালিকাভুক্ত করেছে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি)। এছাড়া প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে মামলারও প্রস্তুতি নিচ্ছে ডিএনসিসি।
শুক্রবার (১৮ আগস্ট) ডিএনসিসি থেকে পাঠানো বিবৃতিতে বলা হয়, এ বিষয়ে প্রতিষ্ঠানটির সচিব মোহাম্মদ মাসুদ আলম সিদ্দিকের স্বাক্ষরিত দুটি পৃথক অফিস আদেশ এ কথা জানানো হয়েছে।
ডিএনসিসিকে এই কীটনাশক সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান মার্শাল অ্যাগ্রো জানিয়েছিল, পাঁচ টন বিটিআই তারা সিঙ্গাপুরের বেস্ট কেমিকেল ইন্ডাস্ট্রিজ প্রাইভেট লিমিটেড থেকে আমদানি করেছে। তবে সিঙ্গাপুরের ওই প্রতিষ্ঠান বলছে, সেগুলো তাদের কাছ থেকে আনা হয়নি।
ডিএনসিসির অফিস আদেশে বলা হয়, মার্শাল অ্যাগ্রোভেট লিমিটেড থেকে তারা ৫ হাজার কেজি বিটিআই এনেছে। কিন্তু জালিয়াতির অভিযোগ ওঠার পর বিষয়টি নিয়ে মার্শাল অ্যাগ্রোকে দুইবার চিঠি দিয়ে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়। এরপর গত ১৭ আগস্ট মার্শাল অ্যাগ্রো এ বিষয়ে একটি চিঠি দিয়েছে।
তবে তাতে কোম্পানিটি অভিযোগ খণ্ডাতে পারেনি জানিয়ে বলা হয়, ‘বিষয়টি নিয়ে মশক নিধন ও যন্ত্রপাতি কারিগরী ও যাচাই কমিটির সভায় পর্যালোচনা করে ডিএনসিসিতে দেওয়া বিটিআই সিঙ্গাপুরের ওই প্রতিষ্ঠান থেকে আনা হয়েছে- এমন বক্তব্যের পক্ষে কোনো প্রমাণ দিতে পারেনি মার্শাল অ্যাগ্রো।
এছাড়া ভাণ্ডার ও ক্রয় বিভাগ বেস্ট কেমিকেল ইন্ডাস্ট্রিজের সঙ্গে যোগাযোগ করে জানতে পারে, তারা কোনো বিটিআই মার্শাল অ্যাগ্রোকে সরবরাহ করেনি। প্রতিষ্ঠানটি বাংলাদেশে তাদের পরিবেশকও নয়। আর লি কিয়াংও বেস্ট কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজের কেউ নয়। এ অবস্থায় প্রতারণার আশ্রয় নেওয়া মার্শাল অ্যাগ্রোভেট কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডকে ডিএনসিসিরি সব ধরনের কার্যক্রমে কালো তালিকাভুক্ত করা হল।
ডিএনসিসিকে মার্শাল অ্যাগ্রোভেট কোম্পানির বিটিআই সরবরাহ করার প্রতিবেদন দেখে গত ১৩ আগস্ট নিজেদের ফেইসবুক পেজে বেস্ট কেমিকেল ইন্ডাস্ট্রিজ জানায়, সেগুলো তারা সরবরাহ করেনি। এমনকি তাদের নাম ব্যবহার করে যারা ‘বিটিআই’ সরবরাহ করেছে, তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানায় প্রতিষ্ঠানটি।
পরদিন সোমবার বিটিআই’র উৎস জানতে চেয়ে মার্শাল অ্যাগ্রোকে চিঠি দিয়েছিল ডিএনসিসি। এই কীটনাশক বেস্ট কেমিকেল ইন্ডাস্ট্রিজের তৈরি এবং তারা সরবরাহ করেছে কিনা, সে ব্যাপারে বিস্তারিত জানাতে বলা হয়েছিল ওই চিঠিতে।