নাটোরের বাগাতিপাড়ায় চলতি বর্ষা মৌসুমে হঠাৎ করেই পানির স্তর নেমে যাওয়ায় উপজেলার ১৯ হাজার নলকূপে পানি উঠছে না। শুষ্ক মৌসুমে এলাকায় এ অবস্থা অনেকটা স্বাভাবিক হলেও বর্ষা মৌসুমে এত বিপুলসংখ্যক নলকূপে পানি না ওঠায় এলাকাবাসী তীব্র পানি সংকটে পড়েছে। আর ভবিষ্যতে বর্ষা মৌসুমে এমন অবস্থা অব্যাহত থাকলে গৃহস্থালির কাজে সমস্যা এবং কৃষিতে বিরূপ প্রভাব পড়ার শঙ্কায় চিন্তিত হয়ে পড়েছে এলাকাবাসী।
এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এ বছর শুকনো মৌসুমে উপজেলায় পানির তীব্র সংকট ছিল। কোনো কোনো গ্রামের ৯৫ থেকে ৯৭ ভাগ সাধারণ নলকূপ ও ইঞ্জিনচালিত অগভীর নলকূপে পানি উঠছিল না। চলতি বর্ষা মৌসুমে বৃষ্টির শুরু হওয়ার পর এ সংকট কেটে যায়। কিন্তু গত ২০-২৫ দিন থেকে এসব নলকূপে পানি উঠছে না।
উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলায় এ বছর শুকনো মৌসুমে প্রায় ২৬ হাজার সাধারণ নলকূপই অকেজো হয়ে গিয়েছিল। আর চলতি বর্ষা মৌসুমে পানি উঠছে না প্রায় ১৯ হাজার নলকূপে। কম বৃষ্টিপাত ও মাছ রক্ষায় পুকুরে সাবমারসিবল পাম্প দিয়ে অধিক হারে সেচ দেওয়াকে এ মৌসুমে সাধারণ নলকূপে পানি না থাকার প্রধান কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বাগাতিপাড়া পৌর এলাকার বিহাড়কোল বাজারের চা বিক্রেতা মহিউল (৩৮) বলেন, হঠাৎ করেই কিছুদিন থেকে তার ইঞ্জিনচালিত অগভীর নলকূপে পানি উঠছে না। পাশের মার্কেটের সাবমারসিবল পাম্পে (৭০ ফুট গভীর) তোলা পানি এনে দোকান চালু রেখেছেন। পানির অভাবে তাকে দোকান বন্ধও রাখতে হচ্ছে। বর্ষা মৌসুমে এলাকার নলকূপে পানি না ওঠার ঘটনা তিনি এর আগে কখনো দেখেননি।
উপজেলার জামনগর ইউনিয়নে চাপাপুকুর মাজপাড়া এলাকার শামীম রেজা বলেন, তাদের এলাকায় সাধারণ নলকূপে পানি উঠছে না। শুকনো মৌসুমে এ রকম হয়, কিন্তু বর্ষা মৌসুমে এমন পানি সংকট হবে তা তিনি ভাবতেও পারছেন না। নদীতে নতুন পানি এসেছে, পুকুরেও বৃষ্টির পানি জমা হচ্ছে। তার পরও নলকূপে পানি নেই। তার বাড়ির আশপাশের প্রায় ৩০টি পরিবার মসজিদের সাবমারসিবল পাম্প দিয়ে তোলা পানি সংগ্রহ করছেন।
ফাগুয়াড়দিয়াড় ইউপির চেয়ারম্যান এস এম লেলিন (৪৩) বলেন, ‘আমার ইউনিয়নে প্রায় বাড়িতেই পানির তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। পরিষদ থেকে যে ২৬টি গভীর নলকূপ দিয়েছেন শুধু সেগুলোতেই পানি উঠছে। তিনি জানান, এ এলাকায় বর্ষা মৌসুমে পানির সংকট এর আগে তিনি দেখেননি।
বাগাতিপাড়া পৌরসভার মেয়র এ কে এম শরিফুল ইসলাম বলেন, বাগাতিপাড়ায় এ বছর পানির ব্যাপক সংকট দেখা দিয়েছে। তবে তারা খাবার পানি সরবরাহে একটি প্রকল্প হাতে নিয়েছেন, প্রকল্পটি অনুমোদন হলে এ সমস্যা দূর করা সম্ভব হবে।
উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল কার্যালয়ের সহকারী প্রকৌশলী আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, ‘আগে বর্ষা মৌসুমে সাধারণত ২৫ থেকে ৩০ ফুট গভীরেই পানির স্তর পাওয়া যেত। বর্তমানে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ কম এবং পুকুরে পানি না থাকায় সাবমারসিবল পাম্প দিয়ে প্রতিনিয়ত সেচ কার্যক্রম চলছে। এতে করে পানির স্তর এখন অনেক নিচে নেমে গেছে। উপজেলায় প্রায় ১৯ হাজার নলকূপে পানি উঠছে না। ভবিষ্যতে সচেতন না হলে আমাদের জন্য আরও খারাপ দিন অপেক্ষা করছে।’ পানি ব্যবহারে সবাইকে তিনি সচেতন হওয়ারও পরামর্শ দেন।