না.গঞ্জে আ.লীগ অফিস রেস্টুরেন্ট ভাঙচুর

নারায়ণগঞ্জের মাসদাইর ও ইসদাইর এলাকায় আওয়ামী লীগ অফিস, রেস্টুরেন্ট, মুদি দোকানসহ বাসাবাড়িতে ভাঙচুর চালিয়েছে কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা। গত শনিবার রাত ৯টায় তালা ফ্যাক্টরি মোড় থেকে শুরু করে জামতলা ঈদগাহ পর্যন্ত ঘণ্টাব্যাপী এ তান্ডব চালায় তারা। এ সময় পুলিশের এক এসআইসহ অন্তত ২০ জনকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে আহত করে তারা।

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, শনিবার রাত ৯টা থেকে ১০টা পর্যন্ত ফতুল্লার মাসদাইর তালা ফ্যাক্টরি মোড় থেকে মাসদাইর সরকারি বালিকা বিদ্যালয়ের সামনে দীর্ঘ এক কিলোমিটার এলাকায় তান্ডব চালানো হয়। স্থানীয় নেছার ও সাব্বির বাহিনীর অন্তত অর্ধশতাধিক সন্ত্রাসী এ তান্ডবে অংশ নেয়। এ সময় তারা ১৩ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ অফিস ভাঙচুরের পাশাপাশি বঙ্গবন্ধু, প্রধানমন্ত্রী ও শামীম ওসমানের ছবিসহ চেয়ার-টেবিল ভাঙচুর করে। এরপর সড়কের পাশে দোকান, ‘বেক এন বিনস’ রেস্টুরেন্ট ও বাসাবাড়ি ভাঙচুর করে। এ সময় রূপগঞ্জ

থানার এসআই মারুফ সাদা পোশাকে মোটরসাইকেলে মাসদাইর সরকারি বালিকা বিদ্যালয়ের কাছে গেলে সন্ত্রাসীরা তার হাত কুপিয়ে জখম করে। এ ছাড়া কয়েকজনকে মারধরের অভিযোগ পাওয়া গেছে।

বেক এন বিনস রেস্টুরেন্টের মালিক সোহাগ বলেন, ‘হঠাৎ রেস্টুরেন্টের ভেতর হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করে সন্ত্রাসীরা। বলে বাইরে আসলে কোপামু, কিন্তু কেন, কারা এই হামলা চালিয়েছে আমি কিছুই বুঝতে পারলাম না। আর আমার সঙ্গে পূর্ব কোনো শত্রুতাও নেই। সন্ত্রাসীরা দেশীয় অস্ত্র হাতে এক ঘণ্টা তা-ব চালিয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘মারুফ নামে রূপগঞ্জ থানার এক এসআইয়ের হাতে কোপ লেগেছে। তাকে ঢাকায় হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এ ছাড়া এক যুবককে কুপিয়ে রগ কেটে দেওয়া হয়েছে।’

ফতুল্লা মডেল থানার ওসি নুরে আযম বলেন, ‘সন্ত্রাসী হামলার খবর পেয়ে তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়। কেউ সঠিক তথ্য দিতে পারছে না। অভিযোগ দিলে অবশ্যই মামলা গ্রহণ করা হবে। আমরা ভিডিও ফুটেজ সংগ্রহ করে হামলাকারীদের চিহ্নিত করার চেষ্টা করছি।’

শামীম ওসমানের নিন্দা : গতকাল রবিবার এক অনুষ্ঠানে শনিবারের তাণ্ডবের ঘটনার নিন্দা জানিয়েছেন নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য একেএম শামীম ওসমান। তিনি বলেন, ‘আমি এ ঘটনা বিভিন্ন পত্রপত্রিকার মাধ্যমে জেনেছি এবং পুলিশ সুপারকে জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেছি। আমার ছবি ভেঙেছে তাতে কোনো সমস্যা নেই। কিন্তু জাতির পিতা এবং প্রধানমন্ত্রীর ছবিও ভেঙেছে। এ ছবিগুলো কারা ভেঙেছে বা কারা এগুলোর উসকানি দিতে পারে তা সবাই জানে।’