মসজিদে নববিতে মাকে কাঁধে নিয়ে এক নারী

পৃথিবীতে আল্লাহ তায়ালা সর্বশ্রেষ্ঠ নেয়ামত মা। মা হচ্ছেন একজন সন্তানের পৃথিবীতে আসার মূল ও প্রধান উৎস এবং অস্তিত্ব ও বেঁচে থাকার একমাত্র অবলম্বন। মা শব্দটির কোনো বিকল্প নেই একজন সন্তানের কাছে। মায়ের মায়া-মমতার সঙ্গে পৃথিবীর কোনো কিছুর তুলনা হয় না। মায়ের আদর এবং লালন-পালনের কষ্ট সন্তান কোনো দিন শোধ করতে পারবে না। শীত, তাপ, ক্ষুধা ও তৃষ্ণার জ্বালা যিনি সন্তানকে শৈশবে অনুধাবন করতে দেননি তিনি হলেন মা। হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) অসংখ্য হাদিসে মাকে যথাযথ সম্মানের কথা বলেছেন।

মায়ের প্রতি শ্রদ্ধা, মায়া, মমতা, ভালোবাসা প্রদর্শনের নানা ঘটনা উজ্জ্বল হয়ে আছে। বস্তুত পৃথিবীতে মায়ের কোনো তুলনা হয় না। মায়ের তুলনা একমাত্র মা-ই। মায়ের প্রতি সন্তানের অগাদ ভালোবাসা, শ্রদ্ধা থাকবে এটাই স্বাভাবিক। সেই ভালোবাসা ও শ্রদ্ধাবোধ থেকে এর আগে মা-বাবাকে কাঁধে নিয়ে ছেলে সন্তানের ওমরাহ ও পবিত্র কাবাঘর তাওয়াফের একাধিক ঘটনা দেখা গেছে। কিন্তু এবারের ব্যাপারটি আরও বিস্ময়কর।

সম্প্রতি দেখা গেছে, মাকে কাঁধে নিয়ে এক নারী মুসল্লি মদিনার মসজিদে নববির পানে ছুটে যাচ্ছেন। বয়স্ক বাবা-মায়ের প্রতি সন্তানের ভক্তি যে সর্বজনীন এই দৃশ্যের মাধ্যমে তা ফের প্রমাণিত হলো।

আরবি গণমাধ্যম আল-আইন সূত্রে জানা গেছে, মাকে কাঁধে নিয়ে মসজিদে নববির দিকে ছুটে চলেছেন এক নারী। এরই মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ওই নারীর ছুটে চলার একটি ভিডিও ব্যাপকহারে ছড়িয়ে পড়েছে এবং তা অনলাইনে সক্রিয়দের কাছে বেশ প্রশংসা কুড়াচ্ছে।

সূত্র জানায়, ওই নারী মিসর থেকে ওমরাহ পালন করতে সৌদি আরব গিয়েছেন। পবিত্র মসজিদে নববি প্রাঙ্গণে এসে বয়স্ক মাকে কাঁধে তুলে নেন তিনি। এরপর তারা নামাজে অংশ নেন। এর মাধ্যমে মায়ের প্রতি অকৃত্রিম ভালোবাসার প্রকাশ পায়। যোগাযোগমাধ্যমে নেটিজেনরা তাদের ভূয়সী প্রশংসা করেন।

এর আগে গত মার্চের দিকে উজবেকিস্তানের এক ওমরাহ পালনকারী হাসিমুখে মাকে কাঁধে নিয়ে পবিত্র কাবা ঘর তাওয়াফ করেন। তখন সেই দৃশ্যটিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সবার নজর কাড়ে।

ইসলাম মা-বাবার সঙ্গে সর্বোত্তম সদাচারের নির্দেশ দিয়েছে। পবিত্র কোরআন ও হাদিসে মায়ের নির্দেশনা পালনে বিশেষ তাগিদ রয়েছে। বিশেষত বাবা-মা বয়োবৃদ্ধ হলে তাদের সেবা ও শুশ্রূষার মাধ্যমে সৃষ্টিকর্তার সন্তুষ্টি লাভের কথা বলা হয়েছে। কোরআন মাজিদে ইরশাদ হয়েছে, ‘তোমার রব আদেশ দিয়েছেন, তিনি ছাড়া অন্য কারও ইবাদত না করতে এবং বাবা-মায়ের প্রতি সদ্ব্যবহার করতে, তাদের একজন বা উভয়ে তোমার কাছে বার্ধক্যে উপনীত হলে তাদের (অবজ্ঞা করে) ‘উফ’ শব্দও বলবে না, তাদের ধমক দেবে না এবং তাদের সঙ্গে সম্মানসূচক কথা বলবে।’ সুরা বনি ইসরাইল: ২৩