৩৭ বছরের সবুজ রক্ত দিয়েছেন ৫৭ বার

নাটোরের সিংড়ার ৩৭ বছরের যুবক এস এম সবুজ এখন পর্যন্ত ৫৭ বার রক্ত দিয়েছেন। ২০০০ সালে মাত্র ১৪ বছর বয়সে ৭ম শ্রেণীতে অধ্যয়নরত অবস্থায় বয়স লুকিয়ে প্রথমবার রক্ত দেন সবুজ। তখন থেকে শুরু, এরপর থেকে রক্ত দেওয়ার নির্দিষ্ট সময় এলেই রক্ত দিয়েছেন তিনি।

সর্বশেষ গত ১৫ জুন সবুজ ৫৭ তম বারের মত রক্ত দিয়েছেন সবুজ। নাটোরের সিংড়া পৌরসভার শোলাকুড়া গ্রামের আব্দুল আজিজের ছেলে তিনি। বর্তমানে পরিবার নিয়ে রাজধানীতে বসবাস করেন।

সিংড়ার শোলাকুড়া ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসা থেকে দাখিল, আলিম ও কুড়িপাকিয়া ফাজিল মাদ্রাসা থেকে ২০০৭ সালে ফাজিল পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে একটি ওষুধ কোম্পানিতে মেডিকেল প্রমোশন অফিসার হিসেবে ২০১৩ সাল পর্যন্ত চাকরি করেন। বর্তমানে রাজধানীতে একটি বিদেশি কোম্পানিতে সিনিয়র কোয়ালিটি অ্যাসুরেন্স অফিসার পদে কর্মরত আছেন সবুজ।

এ পর্যন্ত সবুজ প্রসূতি, থ্যালাসেমিয়া রোগী, রক্তশূন্যতা ও শিশুসহ গুরুতর রোগীদের রক্ত দিয়েছেন। নিজে নির্দিষ্ট দিনে না পারলে অন্যদের মাধ্যমে রক্তের ব্যবস্থা করে দিয়ে পাশে দাঁড়াচ্ছেন।

সিংড়া, নাটোর, রাজশাহী, বগুড়া, গাজীপুর ও ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় তিনি রক্তদান করেছেন। প্রতিদিনই সবুজের কাছে অন্তত একবার হলেও রক্তের প্রয়োজনে কেউ না কেউ ফোন করেন, খুদেবার্তা পাঠান। তাদের জন্য সবুজ ফেসবুকে পোস্ট দেন। তাতে খুব সহজেই রক্ত মিলে যায়।

এস এম সবুজ বলেন, তিনি কোনো কিছুর বিনিময়ে রক্ত দেন না। যাদের রক্ত দেওয়া হয় তারা অনেক কিছু দিতে চান। কিন্তু তিনি রক্ত দেওয়ার বিনিময়ে কিছুই নেন না।

তিনি বলেন, ‘রক্ত দিতে ভালো লাগে। একটি মানুষ বাঁচলে কিংবা সুস্থ হলে যে আনন্দ কাজ করে তা বলে বোঝানো সম্ভব না। আপনারা সবাই আমার জন্য দোয়া করবেন, আমি যেন সারাজীবন রক্ত দিয়ে মানুষের সেবা করতে পারি।

সিংড়া ব্লাড ডোনার ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম সুইট বলেন, রক্তদাতা সবুজ আমাদের গর্ব। প্রতি তিন মাস পরপর তিনি রক্তদান করে থাকেন। রক্ত দিলে শরীরের কোনো ক্ষতি নেই। অনেকেই সুস্থ থাকার পরেও রক্ত দিতে অনীহা প্রকাশ করেন। সকল সুস্থ-সবল মানুষের উচিত রক্তদানে এগিয়ে আসা।