ভুল চিকিৎসায় প্রসূতির মৃত্যু, লাপাত্তা ডাক্তার

সিরাজগঞ্জের বেলকুচিতে বিসমিল্লাহ আধুনিক হাসপাতালে ভুল চিকিৎসায় মরিয়ম খাতুন নামের এক প্রসূতি মায়ের মৃত্যুর অভিযোগ পাওয়া গেছে। মঙ্গলবার (২২ আগস্ট) দুপুরে উপজেলার শেরনগর এলাকায় ওই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গৃহবধূর মৃত্যু হয়।মৃত মরিয়ম খাতুন উপজেলার চর জোকনালা গ্রামের সুমনের স্ত্রী।

নিহত মরিয়র খাতুনের স্বামী সুমন জানান, আজ সকালে আমার স্ত্রীকে আলট্রাসনোগ্রাম করার জন্য বিসমিল্লাহ আধুনিক হাসপাতালে নিয়ে আসি। শিশুর অবস্থা ভালো না আজকের মধ্যেই সিজার করার পরামর্শ দেয় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। পরে দুপুর ২টার দিকে সিজার করার জন্য আমার স্ত্রীকে নেওয়া হয়। পরে ডা. কমল কান্তি ও বেলকুচি উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. এ.কে.এম মোফাখখারুল ইসলাম অপারেশন রুমে গিয়ে সিজার করেন। তার কিছুক্ষণ পর অপারেশন রুমে গিয়ে দেখি মরিয়ম অজ্ঞান হয়ে আছে। নার্সরা জানান রোগীর এখনো জ্ঞান ফেরেনি। কিছুক্ষণ সময় লাগবে এই বলেই ডাক্তার ও নার্স পালিয়ে যায়। পরে বুঝতে পারি আমার স্ত্রী মারা গেছে। তিনি আরো বলেন ডাক্তারদের ভুল সিজারের কারণেই আমার স্ত্রী মারা গেছে।

তিনি বলেন, কন্যা সন্তানের জন্ম দিলেও ডাক্তারের ভুল সিজারে জন্য আমার স্ত্রী মৃত্যু হয়েছে। কন্যা আমার জীবিত আছে।

বিসমিল্লাহ আধুনিক হাসপাতালের মালিক রহমান আলী জানান, সিজারটা বেলকুচি উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. এ.কে.এম মোফাখখারুল ইসলাম ও ডা. কমলকান্তি করেছেন। রোগী কি ভাবে মারা গেলো তারাই ভালো বলতে পারবে।

এ বিষয়ে ডা.কমল কান্তির সঙ্গে একাধিক বার ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি ফোন ধরেননি।

তবে এ বিষয়ে বেলকুচি উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. এ.কে.এম মোফাখখারুল ইসলাম সিজারের কথা স্বীকার করে বলেন, আমরা যখন হাসপাতাল থেকে চলে আসি তখনো সুস্থ ছিলো হয়তো স্টক করে মারা যেতে পারে।

জেলা সিভিল সার্জন ডা. রাম পদ রায় জানান, বিসমিল্লাহ আধুনিক হাসপাতালে এই ধরনের ঘটনা এর আগেও ঘটেছে। আমরা ম্যাজিস্ট্রেট নিয়ে গিয়ে হাসপাতালটি সিলগাল করে দেবো।