আজ বুধবার সন্ধ্যা সোয়া ৬টা নাগাদ চাঁদের দক্ষিণ মেরুতে অবতরণ করতে চলেছে চন্দ্রযান-৩। এই ঐতিহাসিক মুহূর্তের সাক্ষী হতে পারবেন আপনিও। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে শেষ ৪৪ মিনিট দেখতে পারবেন। ইতিমধ্যেই গতি কমিয়ে একেবারে চাঁদের কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছে ভারতের এই মহাকাশযান। চাঁদের বুকে কখন অবতরণ করবে চন্দ্রযান-৩, সেই দিনক্ষণও ঘোষণা করল ISRO।
গত সোমবার দুপুরে ভারতীয় মহাকাশ সংস্থা ইসরোর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ‘চন্দ্রযান-৩ মিশন: ওয়েলকাম বাডি। আনুষ্ঠানিকভাবে চন্দ্রযান-৩-এর ল্যান্ডার মডিউলকে স্বাগত জানাল চন্দ্রযান-২ অরবিটার। দ্বিপক্ষীয় সংযোগ ব্যবস্থা স্থাপন হয়ে গিয়েছে।’ সেইসঙ্গে ইসরোর তরফে জানানো হয়েছে, চাঁদে অবতরণের প্রায় ঘণ্টাখানেক আগে থেকে চন্দ্রযান-৩-এর ল্যান্ডারের ঐতিহাসিক যাত্রার সাক্ষী থাকতে পারবে মানুষ।
ভারতীয় মহাকাশ সংস্থার পক্ষে জানানো হয়েছে, বুধবার বিকেল (ভারতীয় সময়) ৫ টা ২০ মিনিট থেকে চন্দ্রযান-৩-এর চাঁদে অবতরণের প্রক্রিয়ার সরাসরি সম্প্রচার শুরু হবে। অর্থাৎ সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে চাঁদে অবতরণের শেষ ৪৪ মিনিটের যাত্রাপথ সরাসরি সম্প্রচার করবে ইসরো।
ইসরোর অফিশিয়াল ওয়েবসাইট, ইসরোর ইউটিউব পেজ, ইসরোর ফেসবুক পেজ এবং ডিডি ন্যাশনাল টিভিতে সেই ঐতিহাসিক মুহূর্তের লাইভ সম্প্রচার হবে। ১. ইসরোর অফিশিয়াল ওয়েবসাইট : www.isro.gov.in ২.ইসরোর ইউটিউব পেজ : https://www.youtube.com/watch?v=DLA_64yz8Ss ৩. ইসরোর ফেসবুক পেজ : https://www.facebook.com/ISRO
ইতিহাস তৈরির পথে ইসরো : বুধবার যদি চাঁদে নামতে পারে চন্দ্রযান-৩-এর ল্যান্ডার বিক্রম, তাহলে বিশ্বের প্রথম দেশ হিসেবে চাঁদের দক্ষিণ মেরুতে অবতরণ করবে ভারত। আর সার্বিকভাবে বিশ্বের চতুর্থ দেশ হিসেবে চাঁদে অবতরণের ইতিহাস গড়বে তারা। চাঁদে অবতরণের পর ল্যান্ডারের ভেতর থেকে রোভার বেরিয়ে আসবে। যা চাঁদে পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালাবে। ইসরোর এর শেষ ডি বুস্টিং সম্পন্ন হওয়ার পর চন্দ্রযান-৩ অবস্থান করছে ২৫ কিমি ী ১৩৪ কিমি কক্ষপথে। এরপর শুধু সূর্য ওঠার প্রতীক্ষা। ২৩ আগস্ট বিকেল ৫টা ৪৫ মিনিট নাগাদ চাঁদের দক্ষিণ মেরুতে অবতরণ করতে চলেছে চন্দ্রযান-৩।
ইসরোর’র অফিশিয়াল সাইডে জানানো হয়েছে, ল্যান্ডারটির অবস্থা ঠিকঠাক রয়েছে। সব কিছুই চলছে পরিকল্পনা মোতাবেক। চাঁদের কাছাকাছি পৌঁছনোর পর ল্যান্ডার বিক্রমের গতি এক ধাক্কায় কমিয়ে দেওয়া হয়েছিল। এরপরেই অনুষ্ঠিত হয় শেষ ডি বুস্টিং। গত ১৪ জুলাই অন্ধ্রপ্রদেশের শ্রীহরিকোটা থেকে উৎক্ষেপণ করা হয়েছিল ভারতের চন্দ্রযান-৩। LVM রকেটের করে পাড়ি দিয়েছিল মহাকাশে। এক মাসের বেশি সময় নিয়ে পৌঁছে গিয়েছে চাঁদের কাছে।
এর আগে বিশ্বের তিনটি দেশ চীন, রাশিয়া এবং আমেরিকা চাঁদ জয় করতে পেরেছে। তবে এই তিন দেশের কেউই দক্ষিণ মেরু স্পর্শ করতে পারেনি। দ্বিতীয়ত, অবতরণের পর ল্যান্ডার বিক্রম থেকে বেরিয়ে আসবে রোভার প্রজ্ঞান এবং তা চাঁদে পরীক্ষা চালাবে। চাঁদের দক্ষিণ মেরুতে একাধিক বড় গর্ত রয়েছে। সেখানে কোনো খনিজ পদার্থ রয়েছে কি না সেই বিষয়ে চালানো হবে অনুসন্ধান। একইসঙ্গে চাঁদ থেকে ছবি তুলে পাঠাতে সক্ষম হবে চন্দ্রযান-৩।
ইসরোর এর চন্দ্রযানের সফল অবতরণের জন্য প্রয়োজন সূর্যের আলোর। সূর্যের আলো পাওয়ার পরেই সফট ল্যান্ড করবে ল্যান্ডার বিক্রম। চাঁদে ১৪ দিন পর্যন্ত পরীক্ষা চালাতে সক্ষম। এর আগে প্রথম ২০০৯ সালে চন্দ্রযান-১ মিশন করে ইসরোর । কিন্তু, তা ব্যর্থ হয়েছিল। এরপর ২০১৯ সালে চন্দ্রযান-২ মিশন অনুষ্ঠিত হয়েছিল। কিন্তু, চাঁদের খুব কাছাকাছি গিয়েও সেই মিশনও সফল হয়নি। এখন সবার অপেক্ষা বিশেষ করে ভারতীয়দের ইসরোর -এর মুন মিশন ৩-এ।
লুনা-২৫ চন্দ্রযানের ব্যর্থতা : রাশিয়াই প্রথম মহাকাশযান পাঠিয়েছিল। এরপর একের পর এক রুশ মহাকাশ গবেষণা কেন্দ্র বিপর্যয়ের মুখে পড়ে। মাঝে প্রায় পাঁচ দশকের অপেক্ষা। অবশেষে দীর্ঘ সময় পরে চন্দ্র অভিযানে শামিল হয়েছিল আবারও রাশিয়া, কিন্তু সফল হলো না তাদের প্রচেষ্টা। শেষ মুহূর্তে বিপর্যয় নেমে আসে লুনা-২৫ মহাকাশযানটির ওপর। নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে চাঁদের বুকেই ধ্বংস হলো মহাকাশযানটি। বিজ্ঞানীদের অনুমান, কক্ষপথ সংক্রান্ত প্রি-ল্যান্ডিং সমস্যার কারণে এই ‘মহাজাগতিক দুর্ঘটনা’।
রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন ২০ আগস্ট দুপুরে সম্প্রচারের সময় লুনা-২৫ ধ্বংসের কথা জানায়। দুর্ঘটনার কবলে পড়ার আগে একটি অনিয়মিত কক্ষপথে চলে যায় চন্দ্রযানটি। রাশিয়ার মহাকাশ গবেষণা সংস্থা রসকসমস জানিয়েছে, গ্রিনিচ স্ট্যান্ডার্ড টাইম ১১টা ৫৭ মিনিটে লুনা-২৫ চন্দ্রযানের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় কন্ট্রোলরুমের। কিন্তু, অতীতে মহাকাশ অভিযানের নেতৃত্ব দিয়েছিল রাশিয়াই। ১৯৫৭ সালে পৃথিবীর কক্ষপথে স্পুটনিক-১ নামে প্রথম মহাকাশযান পাঠিয়েছিল রাশিয়া। এরপর সোভিয়েত নভোচারী ইউরি গ্যাগারিন প্রথম মানুষ হিসেবে ১৯৬১ সালে মহাকাশে ভ্রমণ করেছিলেন। সাম্প্রতিক এই চন্দ্র অভিযান ব্যর্থ হওয়ায় দুই ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতির দেশটি বড় সমস্যার মধ্যে পড়েছে।