নিয়মিত ক্লাস-পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছেন। কলেজের বেতন পরিশোধ করেছেন। পরীক্ষার ফিসহ এইচএসসির ফরম পূরণের নির্ধারিত ফিও দিয়েছেন। অথচ, পরীক্ষার ৭ দিন আগে জানতে পারেন তাদের এইচএসসির রেজিস্ট্রেশনই হয়নি। কলেজ থেকে জানানো হয়েছে, তারা এবারের এইচএসসি পরীক্ষায় বসতে পারবেন না।
এমনই ঘটনা ঘটেছে বগুড়ার শেরপুর উপজেলার কল্যাণী টেকনিক্যাল অ্যান্ড বিএম কলেজের তিন শিক্ষার্থীর সঙ্গে। ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা হলেন রাফসান আহাম্মদ, আলমগীর হোসেন ও ফয়সাল।
এই ঘটনাকে নিজেদের সঙ্গে প্রতারণা বলে মনে করছেন ওই শিক্ষার্থীরা। এতে কলেজ অধ্যক্ষ আব্দুর রাজ্জাক লিটনের গাফিলতি দেখছেন তারা। শিক্ষাজীবন নিয়ে অনিশ্চয়তার কথাও জানিয়েছেন এই তিন শিক্ষার্থী।
শিক্ষার্থীরা বলছেন, এই ঘটনা কাউকে না জানাতে আমাদের কাছ থেকে সাদা কাগজে স্বাক্ষর নিয়েছেন অধ্যক্ষ। কাউকে জানালে শিক্ষাজীবন শেষ করে দেওয়ার হুমকিও দিয়েছেন তিনি।
গত ২০ আগস্ট চলতি বছরের এইচএসসি পরীক্ষা শুরু হয়। তবে টানা বৃষ্টি ও বন্যার কারণে চট্টগ্রাম, মাদ্রাসা ও কারিগরি বোর্ডের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা পিছিয়েছে। এই তিন বোর্ডের পরীক্ষা আগামী ২৭ আগস্ট থেকে শুরু হবে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ২০২২ সালে এসএসসি পাস করে রাফসান, আলমগীর ও ফয়সাল সরকারি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে ভর্তির জন্য আবেদন করেন। পরে ফয়সাল বগুড়া পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট, রাফসান কুমিল্লা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট এবং আলমগীর নাটোর পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে ভর্তি হন।
তবে পারিবারিক অস্বচ্ছলতার কারণে বাইরে থেকে পড়ালেখার সামর্থ্য না থাকায় তারা শেরপুরের কল্যাণী টেকনিক্যাল অ্যান্ড বিএম কলেজের অধ্যক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। অধ্যক্ষ ওই তিন শিক্ষার্থীকে ভর্তি বাতিল করে তার কাছে টাকা ও কাগজপত্র জমা দিতে বলেন। তারা ভর্তি বাতিল করে শেরপুরের কল্যাণী টেকনিক্যাল অ্যান্ড বিএম কলেজের অধ্যক্ষের কাছে আট হাজার টাকা এবং কাগজপত্র জমা দেন।
শিক্ষার্থী রাফসান জানান, আমরা এক বছর ক্লাস করার পাশাপাশি কলেজের সকল আর্থিক লেনদেন পরিশোধ করেছি। কিন্তু গত ১০ আগস্ট অধ্যক্ষ আব্দুর রাজ্জাক লিটন স্যার আমাদেরকে ডেকে বলেন যে, তারা প্রবেশপত্র দিতে পারবেন না, আমাদের নাকি রেজিস্ট্রেশনই হয়নি। যখন পরীক্ষার বাকি ছিল মাত্র ৭ দিন।
এ বিষয়ে শিক্ষার্থী রাফসান আহাম্মদ ও আলমগীর হোসেন জানান, পরীক্ষা দিতে না পারার হতাশায় আমরা এখন পাগলপ্রায়। অন্যদিকে আমরা যেন কাউকে এ ঘটনা না জানাই এই মর্মে সাদা কাগজে স্বাক্ষর নেন এবং জানালে আমাদের শিক্ষা জীবন শেষ করে দেওয়ার হুমকি দেন।
এই শিক্ষার্থীরা বলছেন, কলেজের অধ্যক্ষ মো. আব্দুর রাজ্জাক লিটন তাদের সঙ্গে প্রতারণা করেছেন। ভর্তির জন্য অতিরিক্ত টাকাও নিয়েছিলেন। বগুড়া শাহ সুলতান কলেজের বিষয়টি প্রকাশ্যে আসায় অধ্যক্ষ তাদের অর্ধেক টাকা ফেরত দিয়েছেন।
তারা বলেন, কিন্তু এ টাকা দিয়ে আমরা কি করব? আমরাতো আর পরীক্ষা দিতে পারছি না। আমাদের জীবন থেকে একটি বছর নষ্ট হয়ে গেল। এবারের মত আর আমরা প্রস্তুতি নিতে পারবো কি?
এ বিষয়ে কল্যাণী টেকনিক্যাল অ্যান্ড বিএম কলেজের অধ্যক্ষ মো. আব্দুর রাজ্জাক (লিটন) বলেন, এই শিক্ষার্থীরা অন্য কলেজে ভর্তি ছিল। আমি আমার কলেজে ভর্তির নিমিত্তে কাগজপত্র বোর্ডে পাঠিয়েছিলাম। কিন্তু সময় কম হওয়ার কারণে জটিলতা সৃষ্টি হয় এবং তাদের ভর্তি করানো সম্ভব হয়নি।
এ বিষয়ে শেরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সানজিদা সুলতানা বলেন, বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।