ঢাকার সিদ্ধেশ্বরী এলাকা থেকে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) এক নারী কর্মকর্তাকে অপহরণ করে গ্যারেজে আটকে নির্যাতন ও অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে তার সাবেক গাড়িচালক ও সহযোগীদের বিরুদ্ধে।
৫০ লাখ টাকা মুক্তিপণের দাবিতে ওই নারীকে অপহরণ করে নির্যাতনের এ ঘটনায় মামলার পর গ্রেপ্তার করা হয়েছে তিন অভিযুক্তকে। গ্রেপ্তার সাইফুল ইসলাম, আবু বক্কর সিদ্দিক ওরফে সাব্বির ও ইয়াছিন আরাফাত রাজুকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। মামলার এজাহারে ছয়জন অভিযুক্তের নাম উল্লেখ করেছেন ভুক্তভোগী।
জানা গেছে, ভুক্তভোগী ওই নারীর নাম মাসুমা খাতুন। তিনি এনবিআরের কর অঞ্চল-২-এ যুগ্মকমিশনার (ট্যাক্স) হিসেবে কর্মরত। গত শুক্রবার রাজধানীর রমনা এলাকা থেকে তাকে অপহরণ করা হয়। অপহরণের প্রায় ১৮ ঘণ্টা পর তিনি কৌশলে মুক্তি পান। পরদিন শনিবার এ ঘটনায় থানায় মামলা হয়। বর্তমানে রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন তিনি।
পুলিশ জানিয়েছে, গত ১৮ আগস্ট রাত ৮টার দিকে ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের সামনে মাসুমা ও তার গাড়িচালককে মারধর করে কয়েকজন। এরপর সেখান থেকে মাসুমাকে তুলে নিয়ে সবুজবাগ থানা এলাকার একটি গ্যারেজে ১৮ ঘণ্টা আটকে রাখে তারা। সে সময় নির্যাতনে এই কর্মকর্তার পা ভেঙে যায়। তার চোখও মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
এ ছাড়া অপহরণের রাতে যুগ্ম কমিশনার মাসুমার কাছ থেকে দেড় লাখ টাকা এবং তার মোবাইল ছিনিয়ে নেয় চক্রটি। তাকে অপহরণ করতে পারলে মোটা অঙ্কের টাকা আদায় করা যাবে, এমন আশ্বাস মাসুদ দিয়েছিলেন তার সহযোগীদের।
মামলার এজাহারে বলা হয়, ওই দিন বড় মগবাজার থেকে নিজের গাড়িতে করে সিদ্ধেশ্বরীর বাসায় ফিরছিলেন মাসুমা। ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের সামনে পৌঁছালে তাদের গাড়িতে একটি মোটরসাইকেল গিয়ে ধাক্কা দেয়। চালক গাড়ি থেকে নামলে সংঘবদ্ধ কয়েকজন চাবি কেড়ে নিয়ে গাড়িচালক আনোয়ার ও মাসুমাকে মারধর শুরু করে। এরপর আনোয়ারকে রেখে মাসুমা ও তার গাড়ি সবুজবাগের একটি গ্যারেজে নিয়ে যায় অপহরণকারীরা। মাসুমার মুখ টেপ দিয়ে আটকে রাতভর মারধর করা হয়। পরদিন দুপুর ২টা পর্যন্ত তাকে আটকে রেখে নির্যাতন চলে।
অপহরণকারীদের তিন সদস্যকে আটক করে শাহবাগ থানায় খবর দেয় তারা। পরে সবুজবাগ থানা পুলিশ মাসুমাকে উদ্ধার করার পাশাপাশি ওই তিনজনকে গ্রেপ্তার করে।
রমনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল হাসান বলেন, দুপুর দুইটার পর দুর্বৃত্তরা তাদের চক্রের দুই-তিনজনকে গাড়ি পাহারায় রেখে খাবার কিনতে যায়। ওই সুযোগে মাসুমা খাতুন গাড়ি থেকে নেমে চিৎকার শুরু করেন। এরপর আশপাশের লোকজন এগিয়ে তাকে উদ্ধার করে।
ওসি আরও বলেন, মাসুদই পরিকল্পনা করে তাদের বাহিনীর সদস্যদের তথ্য দেয়। মাসুমা খাতুনকে অপহরণ করে মোটা অঙ্কের অর্থ আদায়ের পরিকল্পনা অনুযায়ী সহযোগীদের নিয়ে মাসুদ এই ঘটনা ঘটায়। মাসুদসহ এই চক্রে চারজন রয়েছেন এবং তাদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।