কাতার সোজা করার রহস্য
ফেরেশতাদের সাদৃশ্য অবলম্বন করা। কারণ নামাজ আদায়ের সময় ফেরেশতারাও এভাবে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়ায়। হজরত জাবের ইবনে সামুরাহ (রা.) বলেন, হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ফেরেশতারা যেরূপ তাদের প্রতিপালকের কাছে কাতারবদ্ধ হয়ে থাকে তোমরা কি সেরূপ কাতারবদ্ধ হবে না? আমরা বললাম, ফেরেশতারা তাদের প্রতিপালকের কাছে কীরূপে কাতারবদ্ধ হয়? তিনি বলেন, সর্বাগ্রে তারা প্রথম কাতার পূর্ণ করে, তারপর পর্যায়ক্রমে পরবর্তী কাতারগুলো এবং তারা কাতারে পরস্পর মিলে মিলে দাঁড়ায়। -সুনানে আবু দাউদ : ৬৬১
আল্লাহতায়ালার হুকুম আদায়ের গুরুত্ব ফুটে ওঠে এভাবে দাঁড়ানোর মাধ্যমে।
কাতার সোজা করা মুসলমানদের একে অপরের মধ্যে ভ্রাতৃত্বের বন্ধন দৃঢ় ও মজবুত করে দেয়।
নামাজের মধ্যে ছোট-বড় যত করণীয় রয়েছে কোনোটাই অযথা দেওয়া হয়নি। পায়ের আঙুল মিলিয়ে রাখা এবং পৃথক রাখা, নামাজের মাঝে দাঁড়ানো অবস্থায় দৃষ্টি সিজদার জায়গায় স্থির রাখা, রুকু অবস্থায় পায়ের ওপর এবং সেজদা অবস্থায় নাকের ওপর রাখা; সবই হচ্ছে নামাজের মাঝে খুশুখুজু পূর্ণরূপে আসার জন্য।
আর যখন কোনো ব্যক্তি যখন নামাজের যাবতীয় হুকুম-আহকাম যত্ন সহকারে আদায় করবে, তখনই তার নামাজ আল্লাহর দরবারে কবুল হবে; যে নামাজ দুশ্চিন্তা, বিরক্তি, শয়তানি কুমন্ত্রণা ও প্ররোচনা থেকে আপনাকে নিয়ে যাবে স্রষ্টার প্রেমের বাগানে আর সৌভাগ্যের শীর্ষদেশে। আর তখনই উভয় জাহানের সফলতা আমাদের পদচুম্বন করবে।
যেভাবে কাতার সোজা করবেন
ইমাম সাহেব মুসল্লিদের উদ্দেশে ঘোষণা করবেন কাতার সোজা করার জন্য। এবং কাতার পূর্ণরূপে সোজা হওয়ার আগ পর্যন্ত নামাজ আরম্ভ করবেন না। হাদিসে এসেছে, হজরত আনাস ইবনে মালিক (রা.) বলেন, নামাজের ইকামত হচ্ছে, এমন সময় আল্লাহর রাসুল (সা.) আমাদের দিকে মুখ করে তাকালেন এবং বলেন, তোমাদের কাতারগুলো সোজা করে নাও আর মিলে দাঁড়াও। কেননা, আমি আমার পেছনে তোমাদের দেখতে পাই।’ -সহিহ বোখারি : ৭১৯
যারা চেয়ারে বসে নামাজ আদায় করে যদি দাঁড়াতে সক্ষম হয় সে ক্ষেত্রে চেয়ারকে পেছনে রেখে কাতার বরাবর দাঁড়াবে। যখন সেজদায় যাবে তখন চেয়ারে বসে যাবে। আর যদি শুরু থেকেই চেয়ারে বসে নামাজ আদায় করে তাহলে চেয়ার কাতার বরাবর করে দাঁড়াবে।
মাঝখানে কোনো খালি জায়গা রাখবে না। পায়ের গোড়ালি সমান করে এবং কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাতার সোজা করবে।
কাতারের মধ্যে শয়তানের অনুপ্রবেশ
যারা কাতারের মাঝখানে ফাঁকা রেখে নামাজ আদায় করে তাদের শয়তান খুব সহজেই ধোঁকা দিতে সক্ষম হয়। কারণ শয়তান এই ফাঁকা জায়গায় অবস্থান করে। হজরত আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী কারিম (সা.) বলেছেন, তোমরা কাতারে পরস্পর মিশে দাঁড়াও। কাতারসমূহকে পরস্পর নিকটবর্তী রাখো এবং কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে দাঁড়াও। যার হাতে মুহাম্মদের প্রাণ তার শপথ! আমি শয়তানকে দেখছি ছোট ছোট বকরির মতো কাতারের মধ্যে প্রবেশ করছে। -সুনানে নাসায়ি : ৮১৫
দৈনন্দিন ইসলাম ডেস্ক