কক্সবাজারের উখিয়ায় মিয়ানমারের বিচ্ছিন্নতাবাদী সন্ত্রাসী সংগঠন আরাকান রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মির (আরসা) ওলামা কাউন্সিল কমান্ডার ও অর্থ সম্পাদক মাওলানা মোহাম্মদ ইউনুসকে অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে র্যাব। গত বৃহস্পতিবার রাতে পালংখালী ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের তাজনিমার খোলা এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়। এ সময় তার কাছ থেকে একটি বিদেশি রিভলবার ও ৬ রাউন্ড কার্তুজ উদ্ধার করা হয়। মোহাম্মদ ইউনুস উখিয়ার চেংখালীর ক্যাম্প ১৯-এর ব্লক-সি/১৩-তে শরণার্থী হিসেবে ছিলেন।
র্যাব জানায়, আরসার অর্থ সম্পাদক ইউনুস মিয়ানমারে থাকা অবস্থায় মংডু টাউনশিপের মেরুল্লা মাদ্রাসায় শিক্ষকতা করতেন। তিনি ২০১৬ সালে মৌলবি আরিফুল্লাহর মাধ্যমে আরসাতে যোগ দেন। আরসার আমির আতাউল্লাহ আবু আম্মার জুনুনী, ওস্তাদ খালেদ, সমউদ্দিনের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগের মাধ্যমে সন্ত্রাসী কার্যক্রম পরিচালনা করতেন। রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আলেম-ওলামা, হেডমাঝি, সাবমাঝি ও সাধারণ রোহিঙ্গাদের সঙ্গে বৈঠক করে আরসায় যোগদানের জন্য উৎসাহিত করতেন। এ ছাড়া তিনি রোহিঙ্গা ক্যাম্প এলাকায় আরসার অর্থ সম্পাদকের দায়িত্বে রয়েছেন।
র্যাবের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গ্রেপ্তার মোহাম্মদ ইউনুসকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, আরসার কার্যক্রমের জন্য সৌদি আরব থেকে প্রতি মাসে আবুল বশর ১ লাখ, মৌলবি ইসমাইল ১ লাখ, পারভেজ ১৫ হাজার, যুক্তরাষ্ট্র থেকে জহুর আলম ১ লাখ, মালয়েশিয়া থেকে হারুন ১ লাখ, থাইল্যান্ড থেকে হারুন ৬৫ হাজার এবং সৌদি আরব থেকে মো. ইসলাম ১ লাখসহ ৫ লাখ ৮০ হাজার টাকা পাঠায়। এ ছাড়া অস্ট্রেলিয়া থেকে অজ্ঞাতপরিচয় এক রোহিঙ্গা টাকা পাঠায়। তাছাড়া মিয়ানমারের আরাকান রাজ্যে রোহিঙ্গাদের গ্রাম থেকে চাঁদা সংগ্রহ করা হয়। প্রতি মাসে বিভিন্ন দেশ থেকে প্রায় ১০-১৫ লাখ টাকা আরসার ক্যাম্প জিম্মাদারদের কাছে আসে। এ টাকা দিয়ে আগ্নেয়াস্ত্র কেনা ও দলের সদস্যদের আর্থিক সহযোগিতা/বেতন দেওয়া হয়। বর্তমানে মাওলা ইউনুসের বিকাশ অ্যাকাউন্টে ৩৩ থেকে ৩৭ হাজার টাকা রয়েছে।
জিজ্ঞাসাবাদে ইউনুস আরও জানিয়েছেন, আরসার জন্য গত এপ্রিল থেকে জুন পর্যন্ত তিন মাসে আরসা সমর্থিত বিভিন্ন গ্রুপ, ব্যক্তি ও সংগঠন থেকে প্রায় ১৩ লাখ ৮১ হাজার ৬৯৫ টাকা সংগ্রহ করা হয়েছে।
গ্রেপ্তার ইউনুসের বরাত দিয়ে র্যাব আরও জানায়, আরসাতে ২০০ থেকে ২৫০ জন সদস্য রয়েছে। তারা ২০১৬ সালে মিয়ানমারের তারাশুখ থানায় আক্রমণ করে ৭০টি একে-৪৭ অস্ত্র লুট করে। আরসা সদস্যরা অস্ত্রগুলো ক্যাম্পে নিয়ে আসার পর ক্যাম্প-৬-এর সমিউদ্দিন ও ক্যাম্প-১৭-এর হোসেনের কাছে জমা রাখা হয়। পরে তা বিভিন্ন দলে ভাগ করা হয়।
র্যাব-১৫-এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আবদুস সালাম চৌধুরী বলেন, ‘গ্রেপ্তার আরসা কমান্ডারের কাছ থেকে আরসা সদস্যদের বিভিন্ন সাংকেতিক শব্দ পাওয়া গেছে। তাছাড়া তার দেওয়া তথ্যে জানা গেছে, বর্তমানে আরসার কাছে প্রায় ২০টি টাইপ-৭৪ এলজি, জেআরজি অস্ত্রসহ বিপুলসংখ্যক হাতবোমা (হ্যান্ড গ্রেনেড) রয়েছে।’