পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কায় আগামী ৩০ আগস্ট শুরু হবে এশিয়া কাপ। স্বাগতিক দুই দেশের সঙ্গে খেলবে ভারত, বাংলাদেশ, আফগানিস্তান ও নেপাল।
মহাদেশীয় শ্রেষ্ঠত্বের এই লড়াই শুরুর আগে অতীতের আসর গুলোতে চোখ রাখার চেষ্টা করেছি আমরা। ফিরে দেখা এশিয়া কাপের দ্বিতীয় পর্ব সাজানো হয়েছে ১৯৯০, ১৯৯৫ ও ১৯৯৭ আসর নিয়ে।
১৯৯০-৯১: আতহারের সেই ইনিংস
১৯৯০-৯১ সালে এশিয়া কাপের আসর বসে ভারতে। এখন পর্যন্ত দেশটি একবারই এই আসর আয়োজন করেছে। ঘরের মাঠে আয়োজিত আসরে শিরোপা ধরে রাখে দেশটি।
১৯৯০ সালের ২৫ ডিসেম্বর মাঠে গড়ায় এশিয়া কাপের আসর। শেষ হয় ১৯৯১ সালের ৪ জানুয়ারি। স্বাগতিক ভারতের সঙ্গে রাজনৈতিক বৈরী সম্পর্কের কারণে ওই আসরে অংশ নেওয়া থেকে বিরত থাকে পাকিস্তান। স্বাগতিক ভারতের সঙ্গে অংশ নেয় শ্রীলঙ্কা ও বাংলাদেশ।
রাউন্ড রবিন লিগ পদ্ধতিতে খেলা অনুষ্ঠিত হয়। প্রতিটি দল একে অপরের সঙ্গে একটি করে ম্যাচ খেলে। শীর্ষ দুই দল উঠে ফাইনালে। ইডেন গার্ডেন্সে অনুষ্ঠিত ফাইনালে অর্জুনা রানাতুঙ্গার শ্রীলঙ্কাকে ৭ উইকেটে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয় মোহাম্মদ আজহার উদ্দিনের ভারত।
১৯৯১ এশিয়া কাপের চ্যাম্পিয়ন ভারত।
মোট তিন ভেন্যুতে সেবারের খেলাগুলো অনুষ্ঠিত হয়। ইডেন গার্ডেন্স ছাড়াও খেলা হয় চন্ডিগড় ও কটকে। চন্ডিগড়ে উদ্বোধনী ম্যাচে ভারতের বিপক্ষে খেলে বাংলাদেশ। মিনহাজুল আবেদিন নান্নুর দল সেই ম্যাচে হারে ৯ উইকেটে। ফারুক আহমেদের ৫৭ ও আতহার আলি খানের ৪৪ রানের ইনিংসে ভর করে ৬ উইকেটে ১৭০ রানের পুঁজি গড়েছিল বাংলাদেশ। নভজোৎ সিং সিধুর সেঞ্চুরিতে ভারত মাত্র ১ উইকেট হারিয়ে ৭৯ বল বাকি থাকতেই লক্ষ্যে পৌঁছে যায়।
ইডেন গার্ডেন্সে নিজেদের পরের ম্যাচে লঙ্কানদের বিপক্ষে ৭১ রানে হারে বাংলাদেশ। কুয়াশার কারণে ম্যাচ নেমে এসেছিল ৪৫ ওভরে। প্রথমে ব্যাট করে লঙ্কানরা ৪ উইকেটে ২৪৯ রানের পুঁজি গড়ে। ২৫০ রানের লক্ষ্যে বাংলাদেশ করতে পারে ৯ উইকেটে ১৭৮ রান। ৯৫ বলে ৭৮ রানের অপরাজিত ইনিংসে আতহার আলি খান ম্যাচসেরার পুরস্কার পান। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে বাংলাদেশের কোনো ক্রিকেটারের ম্যাচসেরা হওয়ার প্রথম কীর্তি সেটি।
সেদিন চার নম্বরে ব্যাট করতে নেমেছিলেন আতহার। সনাৎ জয়াসুরিয়াকে শুরুতেই ছক্কা হাঁকান। সেই ইনিংস নিয়ে এক সাক্ষাৎকারে আতহার বলেছিলেন, ‘বলটা উঠে গেলে ভেবেছি নির্ঘাত ক্যাচ নিচ্ছে কেউ। পরে দেখি ছয়। গ্যালারিতে উল্লাস। এর পরই মনে হলো দিনটি আমার।’আতহার সেদিন দুটি ছয়ের সঙ্গে চার মেরেছিলেন ৬টি।
এই আসরে সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহকের তালিকায় আতহার ছিলেন চার নম্বরে। দুই ম্যাচে ১২২ রান করেন তিনি। তিন ম্যাচে ১৬৬ রান করে সবার ওপরে ছিলেন অর্জুনা রানাতুঙ্গা। ৯ উইকেট নিয়ে সর্বাধিক উইকেট শিকারি কপিল দেব।
১৯৯৫: ভারতের হ্যাটট্রিক শিরোপা
তিন আসর পর ফের সংযুক্ত আরব আমিরাতে ফিরে এশিয়া কাপ। টুর্নামেন্টের পঞ্চম এই আসরে অংশ নেয় চার দেশ- ভারত, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা ও বাংলাদেশ। রাউন্ড রবিন লিগ পদ্ধতিতে এবারও প্রতিটি দল একে অপরের সঙ্গে একটি করে ম্যাচ খেলে। এরপর শীর্ষ দুই দল উঠে ফাইনালে।
বাংলাদেশ তাদের তিন ম্যাচের সবকটিতেই হারে। তবে অন্য তিন দলের জয়-পরাজয়ের সংখ্যা ছিল সমান। তিন দলেরেই পয়েন্ট দাঁড়ায় ৪ করে। রানরেটে এগিয়ে থাকায় ভারত ও শ্রীলঙ্কা পা রাখে ফাইনালে। যে মঞ্চে অর্জুনা রানাতুঙ্গার নেতৃত্বাধীন লঙ্কানদের ৮ উইকেটে হারায় আজহার উদ্দিনের ভারত। দলটির টানা তৃতীয় ও তখন পর্যন্ত সবমিলিয়ে চতুর্থ শিরোপা ছিল সেটি।
হ্যাটট্রিক শিরোপা জয়ের পর শচীন-আজহারের উল্লাস।
এ আসরে বাংলাদেশ খেলে আকরাম খানের নেতৃত্বে। ভারতের বিপক্ষে উদ্বোধনী ম্যাচে ১৬৩ রান করলেও হেরে যায় ৯ উইকেটে। পরের ম্যাচে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে হারে ১০৭ রানে। এরপর পাকিস্তানের বিপক্ষে তৃতীয় ম্যাচে ওয়াসিম আকরামের অলরাউন্ড নৈপুণ্যে ৬ উইকেটে হার মানে।
এ আসরে সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক ছিলেন শচীন টেন্ডুলকার। ৪ ম্যাচে ২০৫ রান করেন তিনি। ৭ উইকেট নিয়ে সর্বাধিক উইকেট শিকারি ছিলেন অনিল কুম্বলে।
১৯৯৭: আতহারের আরেকটি স্মরণীয় ইনিংস
এবারের আয়োজক ছিল শ্রীলঙ্কা। চার দল নিয়ে একই ফরম্যাটে হয় খেলা। শ্রীলঙ্কা ও ভারত সবার ওপরে থেকে লিগ পর্ব শেষ করে পা রাখে ফাইনালে। ৮ উইকেটের জয়ে দ্বিতীয়বারের মতো চ্যাম্পিয়নের মুটুক পরে অর্জুনা রানাতুঙ্গার শ্রীলঙ্কা।
এ আসরে ভারতের নেতৃত্বে ছিলেন শচীন টেন্ডুলকার, বাংলাদেশের আকরাম খান ও পাকিস্তানের রজিম রাজা।
১৯৯৭ সালে ঘরের মাঠের আসরে চ্যাম্পিয়ন শ্রীলঙ্কা।
বাংলাদেশ যথারীতি তিন ম্যাচের সবকটিতে হারে। তবে আতহার আলী খান আরেকটি স্মরণীয় ইনিংস উপহার দেন। কলম্বোয় পাকিস্তানের বিপক্ষে ১২৫ বলে ১ ছক্কা ও ৮ চারে করেন ৮২ রান। যা তার ক্যারিয়ারসেরা ইনিংস। তবে ম্যাচটা ১০৯ রানে হারে বাংলাদেশ। ৩২০ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ২১০ রান করতে পারে। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে পরের ম্যাচেও ৪২ রানের ইনিংস উপহার দেন আতহার। তবে এই ম্যাচও বাংলাদেশ হারে ১০৩ রানে। এরপর ভারতের বিপক্ষে নিজেদের তৃতীয় ম্যাচে বাংলাদেশের হার ৯ উইকেটে।
এ আসরে সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার জেতেন অর্জুনা রানাতুঙ্গা। ২৭২ রান করে সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক ছিলেন তিনি। ৭ উইকেটে নিয়ে সর্বাধিক উইকেট শিকারি ছিলেন ভেঙ্কটেশ প্রসাদ।
আরও পড়ুন