নারী কর কর্মকর্তাকে অপহরণ সাবেক স্বামীর পরিকল্পনায়

রাজধানীর সিদ্ধেশ্বরী থেকে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের নারী কর কর্মকর্তাকে অপহরণ ও নির্যাতনের পরিকল্পনা করেছিলেন তার সাবেক স্বামী হারুন অর রশীদ। গতকাল শনিবার রাজধানীর কারওয়ান বাজারে র‍্যাবের মিডিয়া সেন্টারে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানিয়েছে র‍্যাব।

যুগ্ম কমিশনার পদমর্যাদার ওই নারী কর্মকর্তাকে অপহরণ ও নির্যাতনের ঘটনায় গাড়ির চালক মাসুদসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গত শুক্রবার ঢাকা ও গাজীপুরের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার বাকি দুজন হলেন আবদুল জলিল ও হাফিজ। এ নিয়ে মামলার ছয়জনকে গ্রেপ্তার করা হলো।

আরও তিনজন আসামি হলেন  সাইফুল ইসলাম, আবু বকর ও ইয়াছিন আরাফাত। ওই নারী কর্মকর্তাকে অপহরণে জড়িত পাঁচজনই চালক মাসুদের ঘনিষ্ঠ।

গতকাল রাজধানীর কারওয়ান বাজারে র‍্যাবের মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে র‍্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন বলেন, সাবেক স্বামীর পরিকল্পনায় ১৭ আগস্ট রাত ৮টার দিকে ওই নারী কর্মকর্তা মগবাজার থেকে বেইলি রোডে পৌঁছালে অপহরণকারীরা একটি মোটরসাইকেল ও রিকশা দিয়ে তার গাড়ির গতিরোধ করেন। তখন গাড়ির চালক নিচে নামলে তাকে মারধর করে নারীর গাড়ির চালকের আসনে বসেন আসামি মাসুদ। পরে পরিকল্পনা অনুযায়ী, গাড়ি নিয়ে তারা হাতিরঝিলের একটি বাসায় আসেন। তবে বাসার দরজার প্রধান ফটক বন্ধ থাকায় পরে তারা গাড়ি নিয়ে ঢাকায় ঘুরতে থাকেন।

খন্দকার আল মঈন আরও বলেন, রাত ১২টার দিকে কাঁচপুরে মাসুদের পরিচিত একটি গ্যারেজে নিয়ে ওই নারীকে বেধড়ক পেটায়। ওই নারীর কাছে মুক্তিপণ চাওয়া হয় ৫০ লাখ টাকা। নগদ দেড় লাখ টাকা ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেন আসামিরা। পরদিন তাকে মাদারটেকের একটি বাসায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে মাসুদ আবার ওই নারীর প্রথম স্বামীর সঙ্গে যোগাযোগ করেন। পরে মাসুদসহ অন্যদের ওই নারী কর্মকর্তাকে হাতিরঝিলের বাসায় নিয়ে যেতে বলেন। যাওয়ার পথে গাড়ি থেকে নেমে মাসুদ, রাজু ও সাব্বির খাবার আনতে যান। আর গাড়ির পাহারায় ছিলেন সাইফুল ইসলাম, আবু বকর ও ইয়াছিন আরাফাত। সুযোগ বুঝে ওই নারী কর্মকর্তা বাঁচাও বাঁচাও চিৎকার করলে স্থানীয় লোকজন জড়ো হয়ে তাকে উদ্ধার করেন।

জিজ্ঞাসাবাদের বরাতে র‌্যাব বলছে, নারী কর্মকর্তাকে অপহরণের পরিকল্পনায় ছিলেন তার সাবেক স্বামী হারুন অর রশীদ। ১ আগস্ট চাকরিচ্যুত করার পর চালক মাসুদ ওই নারী কর্মকর্তার ওপর ক্ষুব্ধ হন। পরে তিনি ওই নারী কর্মকর্তার সাবেক স্বামীর সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তখন আগের স্বামী মাসুদকে ৭০ হাজার টাকা দেন।

নারী কর কর্মকর্তার বর্তমান চালকের সঙ্গে অপহরণকারী দলের সদস্য হাফিজের সুসম্পর্ক ছিল। বর্তমান চালকের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী ওই নারীর অবস্থান জেনে নেন অপহরণকারীরা। এ ছাড়া অপহরণ ও নির্যাতনে সরাসরি জড়িত মাসুদ গাড়ি চুরিসহ নানা ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত। এ ছাড়া বাস চালানোর সময় দুর্ঘটনায় কয়েকজন নিহত হন, সেই মামলার তিনি আসামি।