কলাবাগানে শিশু গৃহকর্মীকে যেভাবে হত্যা করা হয়

রাজধানীর কলাবাগানের সেন্ট্রাল রোডের বাসায় খুন হওয়া শিশু গৃহকর্মীর পরিচয় শনাক্ত হয়েছে। তার নাম হেনা (১০)।

সোমবার (২৮ আগস্ট) বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গ থেকে হেনার মৃতদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। মরদেহটি গ্রহণ করেন তার ফুফু লিপি খাতুন।

এ সময় লিপি খাতুন বলেন, তাদের বাড়ি ময়মনসিংহের মুক্তাগাছা উপজেলার নন্দিগ্রামে। তিন বছর আগে হেনার বাবা হক মিয়া ও পাঁচ বছর আগে মা হাসিনা বেগম মারা যান। মা-বাবার একমাত্র মেয়ে ছিল হেনা। তার মা মারা যাওয়ার পর থেকে হেনা ফুফুর কাছেই থাকতো।

তিনি আরো জানান, গত তিন বছর আগে গৃহকর্ত্রী সাথী আক্তার পারভীন ময়মনসিংহের মুক্তাগাছায় একটি ট্রেনিং এ যান। সেখান হেনাকে দেখেন। তখন তার স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে তাকে ঢাকায়ে নিয়ে আসেন সাথী। স্বজনদের সেইসময় গৃহকর্ত্রী সাথী বলেছিলেন, হেনাকে তার নিজের সন্তানের মত করে রাখবেন।

এরপর মাস শেষে ২ হাজার টাকা করে হেনার ফুফুর কাছে পাঠাবে। চার মাস এভাবে টাকা পাঠালেও এরপর থেকে আর কোনো টাকা পাঠাননি। হেনার জন্য টাকা আলাদা ভাবে জমিয়ে রাখছেন বলে তখন তাদেরকে জানান।

তিনি জানান, রবিবার বিকেলে গণমাধ্যমে খবর দেখে তারা জানতে পারেন, হেনার শরীরে খুন্তির ছ্যাকা দিয়েছে, এছাড়া আরো অনেক ভাবে নির্যাতন করে তাকে হত্যা করা হয়েছে। এরপর তারা রবিবার রাতেই ঢাকায় আসেন। স্বজনরা গৃহকর্ত্রীর ফাঁসি দাবি করেছেন।

এর আগে রবিবার ঢাকা মেডিকেল কলেজের ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগে হেনার মরদেহের ময়না তদন্ত করেন ডা. তৌহিদা বেগম।

মর্গ সূত্র জানায়, মরদেহ থেকে ভিসেরা, ডিএনএর জন্য রক্ত, ও ব্রেইন থেকে নমুনা নেয়া হয়েছে। তাকে শ্বাসরোধে হত্যার নমুনা দেখা গেছে।