আট মাসে ৪ জেলায় পুলিশের অভিযানে গ্রেপ্তার ২ খুনের আসামি

ফরিদপুরে দুই অটো ভ্যান চালককে হত্যায় রাশেদ কবিরকে গ্রেপ্তার করেছে মধুখালী থানা পুলিশ। এ বিষয়ে মঙ্গলবার (২৯ আগস্ট) বেলা ১২টায় পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। পুলিশ জানায়, হত্যার আট মাস পর চার জেলায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার মো. শাহজাহান জানান, গত ৪ জানুয়ারি সকাল ৮টার দিকে মধুখালী থানা পুলিশ স্থানীয়ভাবে সংবাদ পায় জাহাপুর ইউনিয়নের মুরারদিয়া গ্রামের কাশেম মোল্যার জমিসংলগ্ন সড়কের পাশে গলাকাটা যুবকের লাশ পড়ে আছে। সেখানে গিয়ে লাশটি উদ্ধার করে পুলিশ মধুখালী থানায় নিয়ে আসে। পরে লাশের ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়। মৃত যুবকের নানি পাচি বেগম থানায় এসে নিশ্চিত করেন লাশটি তার নাতি জিহাদের। তার গ্রামের বাড়ি মধুখালী উপজেলার দীঘলিয়া গ্রামে। বাবার নাম মৃত লালু শেখ। জিহাদ পেশায় একজন অটো ভ্যান চালক। তিনি ৩ জানুয়ারি বিকেল ৪টার দিকে অটো ভ্যান নিয়ে বাড়ি থেকে বের হন। এরপর অনেক রাতেও না ফিরলে বাড়ির লোকজন তাকে খুঁজতে বের হন। পরদিন ৪ জানুয়ারি সকালে জাহাপুর ইউনিয়নের মুরারদিয়া গ্রামের কাশেম মোল্যার জমিসংলগ্ন সড়কে গলাকাটা অবস্থায় জিহাদের লাশ দেখতে পান স্থানীয়রা। ৫ জানুয়ারি জিহাদের নানি বাদী হয়ে মধুখালী থানায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেন।

পুলিশ সুপার জানান, একই কায়দায় মধুখালী থানা এলাকায় আরেকটি ঘটনা ঘটে। গত ৯ ফেব্রুয়ারি সকালে মধুখালী থানাধীন রায়পুর ইউনিয়নের বকসীপুর অমৃত দাসর পতিত জমির পাশে একটি গলাকাটা মরদেহ দেখতে পান স্থানীয়রা। তারা মধুখালী থানায় খবর দিলে পুলিশ লাশটি উদ্ধার করে। পরে তা ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠায়। এর আগে মধুখালী থানায় গিয়ে লুৎফর সরদার নামে এক ব্যক্তি জানান লাশটি তার ছেলে নয়নের। নয়নের গ্রামরে বাড়ি মধুখালী থানার বড় গোপালদী এলাকায়। নয়ন পেশায় একজন অটো ভ্যান চালক। নয়ন প্রতিদিনের মতো গত ৮ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যার পর অটো ভ্যান নিয়ে বের হন। এরপর আর বাড়ি ফেরেননি। পরদিন ৯ ফেব্রুয়ারি সকালে উক্তস্থানে তার গলাকাটা মরদেহ দেখতে পান স্থানীয়রা। তারা মধুখালী থানা পুলিশকে খবর দিলে নয়নের লাশ উদ্ধার হয়। নয়নের বাবা লুৎফর সরদার বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামি করে মধুখালী থানায় হত্যা মামলা করেন।

পুলিশ জানায়, এ দুই হত্যাকাণ্ডের পর ফরিদপুর পুলিশ সুপারের নির্দেশে মধুখালী থানা পুলিশ তদন্তে নামে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তারা গত ৫ মার্চ মিজানুর রহমান নিঝুমকে (৩৮) গ্রেপ্তার করে। এরপর তার দেওয়া স্বীকারোক্তি মোতাবেক নিঝুমের গ্যারেজ থেকে দ্বিতীয় হত্যায় ছিনতাই অটো ভ্যান উদ্ধার করে পুলিশ। আসামি মিজানুর রহমান নিঝুম আগে থেকেই পুরোনো অটো ভ্যান কেনা-বেচার ব্যবসা করতেন। যা তিনি আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে উল্লেখ করেন।

পুলিশের ভাষ্যে, নিঝুম জানান, তিনি রাশেদ কবির নামে এক ব্যক্তির কাছ থেকে ভ্যানটি কেনেন। তার এ কথার এর সূত্র ধরে বারবার তাকে ধরতে বিভিন্ন জেলায় অভিযান পরিচালনা করা হয়। প্রথমে তার বাড়ি ময়মনসিংহের মুক্তাগাছা ও পরে ত্রিশালে অভিযান চালানো হয়। তবে এ দুই জায়গা থেকে আগেই পালিয়ে যায় রাশেদ। এরপর গাজীপুরের জয়দেব পুর এবং মুন্সিগঞ্জের সিংড়ায় আবার অভিযান চালানো হয়। তবে এসব জায়গা থেকে পুলিশ আসার আগেই সটকে পড়ে আসামি। অবশেষে গত ২৮ আগস্ট উন্নত তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে গুলশান-২ এলাকা থেকে রাশেদ কবিরকে গ্রেপ্তারে অভিযান চালায় ফরিদপুর পুলিশ। সেখান থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। রাশেদ কবিরের গ্রামের বাড়ি ময়মনসিংহ জেলার ত্রিশালে।

প্রাথমিকভাবে জিজ্ঞাসাবাদে রাশেদ কবির জিহাদ এবং নয়ন সরদারকে ধারালো ছুরিয়ে দিয়ে হত্যা করে অটো ভ্যান ছিনতাইয়ের কথা স্বীকার করেছে। পুলিশকে সে জানায়, দুজনকে একই কায়দায় হত্যা করা হয়। রাতে যাত্রীবেশে তাদের অটোতে ওঠে রাশেদ। এরপর নির্জন জায়গায় নিয়ে পেছন থেকে চালকের মুখ চেপে ধরে। তারপর সঙ্গে থাকা ছুরি দিয়ে গলা কেটে দেয়। মৃত্যু নিশ্চিত করে লাশ ফেলে অটো নিয়ে চলে যায় রাশেদ। পরে সেগুলো নিয়মিত ক্রেতাদের কাছে বিক্রি করে। এসব কাজ একাই করে আসছিল সে।

পুলিশ জানায়, তাকে হত্যা ও ছিনতাইয়ের দুটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে। মামলার পরবর্তী কার্যক্রম চলমান রয়েছে।