হঠাৎই টালমাটাল দেশের টেবিল টেনিস অঙ্গন। বাংলাদেশ টেবিল টেনিস ফেডারেশনের কর্তাদের সঙ্গে সিনিয়র খেলোয়াড়দের মুখোমুখি অবস্থানের ঘটনা নতুন নয়। ২০২১ সালে দেশের অন্যতম সেরা খেলোয়াড় মানস চৌধুরী স্বজনপ্রীতির অভিযোগ এনে জাতীয় দল থেকে নিজের নাম প্রত্যাহারের পর থেকে অবশ্য সেভাবে আলোয় আসেনি বিষয়টি।
তবে আবার সেটা প্রকাশ্যে এসেছে জাতীয় দলের আরেকটি আসরের ঠিক আগে। অভিযোগের আঙুলটা যথারীতি ফেডারেশনের সহ-সভাপতি খন্দকার হাসান মুনীরের দিকে। তিনি নাকি স্বজনপ্রীতির আশ্রয় নিয়ে জাতীয় দল গঠনে নিয়মের ব্যত্যয় ঘটিয়েছেন!
এ নিয়ে আজ এক দল খেলোয়াড় সংবাদ সম্মেলন করেছেন। তবে সব অভিযোগ মিথ্যে দাবি করেছেন ফেডারেশনের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মুনীর।
এশিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপ খেলতে আগামীকাল টেবিল টেনিস দল যাবে দক্ষিণ কোরিয়ায়। তার আগে সংবাদ সম্মেলন করে স্বজনপ্রীতির অভিযোগ তুলেছেন সিনিয়র খেলোয়াড় জাভেদ আহমেদ। বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনে (বিওএ) টিটি খেলোয়াড় সমিতির ব্যানারে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে জাভেদ দাবি করেন, র্যাংকিংয়ের হিসাবে দলে তার থাকার কথা থাকলেও হাসান মুনীর চক্রান্ত করে তাকে বাদ দিয়ে দলে নিয়েছেন একজন জুনিয়র খেলোয়াড়কে।
আসলে মূল সমস্যাটা হয়েছে মানস না খেলায়। বর্তমান র্যাংকিংয়ে তিনি আছেন দ্বিতীয় স্থানে। তিনি খেলবেন না বলে র্যাংকিংয়ের পাঁচে থাকা জাভেদের সামনে তৈরি হয়েছিল সম্ভাবনা। কারণ চারজনকে নিয়ে গড়া হয়েছে জাতীয় দল।
সংবাদ সম্মেলনে জাভেদ বলেন, ‘র্যাংকিং অনুযায়ী এশিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপের দল গঠনের কথা থাকলেও আমাকে বাদ দেওয়া হয়েছে। দলে চারজনের মধ্যে আমার জায়গা হয়নি। এটা হাসান মুনীরের স্বজনপ্রীতির নমুনা। এছাড়া তিনি খেলোয়াড়দের পারিশ্রমিক ঠিকমতো দেন না, ফিকশ্চারে নিজের ইচ্ছেমতো পরিবর্তন করেন। শুধু তাই নয়, খেলোয়াড়দের মধ্যে বিভাজনও তৈরি করেন। হাসান মুনীর টেবিল টেনিসের জন্য একটি অভিশাপ, ফেডারেশনকে পৈতৃক সম্পত্তি বানিয়ে রেখেছেন। আমরা তাকে আর ফেডারেশনে দেখতে চাই না।’
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন না টিটি খেলোয়াড় সমিতির সভাপতি মানস চৌধুরী। তবে চট্টগ্রাম থেকে তিনি ভিডিও বার্তা দিয়ে হাসান মুনীরের বিরুদ্ধে একই অভিযোগ তোলেন।
এমন অভিযোগের বিষয়ে হাসান মুনীর বলেন, ‘জাতীয় দল গঠনের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ টেবিল টেনিস ফেডারেশনের আইনের বা নিয়মের ব্যত্যয় ঘটিয়েছে- এরকম একটা অভিযোগ তোলা হয়েছে। এই অভিযোগটা সম্পূর্ণ ভুল বা বলতে পারেন সত্যের অপলাপ। ১৯৯১ সালে একই টুর্নামেন্টে সিনিয়র সাইদুল হক সাদী ও নাসিমুল হাসান কচিদের সঙ্গে জুনিয়রদের সেরা হিসেবে গিয়েছিলেন মানস চৌধুরী। ২০২১ সালে এই টুর্নামেন্টে পুরুষ ও মেয়ে দুই বিভাগেই র্যাংকিংধারী তিনজনের সঙ্গে একজন জুনিয়র চ্যাম্পিয়ন গিয়েছেন। সেই থেকে ফেডারেশনের নির্বাহী কমিটি সিদ্ধান্ত নিয়েছে সিনিয়রদের সঙ্গে জুনিয়রদের পাঠিয়ে আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ দেওয়ার। এখানে আমাকে জড়ানোর কোনোই মানে নেই। কারণ দল গঠন আমার এখতিয়ারে নেই। এর জন্য স্বতন্ত্র জুরি বোর্ড রয়েছে। এবারও জুনিয়র হিসেবে শেখ কামাল জাতীয় যুব গেমসে চ্যাম্পিয়ন নাফিস ইকবাল ও খৈ খৈ সাই মারমাকে পাঠানো হচ্ছে। যা নির্বাহী কমিটি অনুমোদন করেছে।’
মুনীরের দাবি, ২০১৯ সালে বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের একটি সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করার ফলেই সিনিয়র খেলোয়াড়দের সঙ্গে তার দূরত্বের সৃষ্টি হয়েছে। বিওএ বলেছিল, খেলোয়াড়দের ক্যাম্পে থেকে অনুশীলন করতে হবে। তবেই জাতীয় দলে খেলার সুযোগ মিলবে। তবে সেই সময় চিকিৎসা পেশায় নিয়োজিত থাকায় মানস বিশেষ বিবেচনায় চেয়েছিলেন চট্টগ্রামে থেকে অনুশীলন করতে। এ নিয়েই মূলত খেলোয়াড়দের সঙ্গে হাসান মুনীরের দূরত্বের শুরু। সেটা না কমে দিনকে দিন যে বেড়েছে, তারই প্রমাণ মিলল মঙ্গলবার।