এশিয়া কাপ

নেপালের ইতিহাস গড়ার দিন

কীর্তিপুরে সেদিন বৃষ্টি নেমেছিল। ত্রিভুবন ক্রিকেট স্টেডিয়ামের উইকেট ঢাকা ছিল। প্রকৃতির কান্না মেঘের অশ্রু ক্রিকেটে কখনো কখনো অমঙ্গল বয়ে আনে। আবার সেটাই কারও জন্য হয় আশীর্বাদ। ঠিক সেটাই হয়েছিল নেপাল ক্রিকেট দলের জন্য। সংযুক্ত আরব আমিরাতকে ৭ উইকেটে হারিয়ে সেদিন ইতিহাস গড়েছিল নেপাল। প্রথমবারের মতো জায়গা করে নিয়েছিল এশিয়া কাপে। ওয়ানডে ক্রিকেটে যা তাদের সবচেয়ে বড় সাফল্য। আজ সেই মাহেন্দ্রক্ষণ সন্দীপ লামিছানেদের। বাংলাদেশ সময় বিকেল সাড়ে ৩টায় মুলতানে স্বাগতিক পাকিস্তানের বিপক্ষে খেলতে নামবে তারা। অভিষেক আসরেই তাদের দিতে হবে উদ্বোধনী ম্যাচের অগ্নিপরীক্ষা।

এশিয়া কাপের ১৬তম আসরের পর্দা উঠছে আজ। উদ্বোধনী ম্যাচে স্বাগতিক পাকিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচে নামার আগে নেপালকে ভালোই কাঠখড় পোড়াতে হয়েছে। দলের তারকা ক্রিকেটার সন্দীপ লামিছানে দলের সঙ্গে পাকিস্তান আসতে পারেননি। মুলতানে প্রথম ম্যাচ খেলতে পারবেন কি না সেটা নিয়েও ছিল শঙ্কা। তবে আদালত শুনানি পিছিয়ে দেওয়ায় তার কপাল খুলে যায়। উদ্বোধনী ম্যাচের একদিন আগে তিনি মুলতনে পৌঁছান। তাতে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে।

লামিছানেকে নিয়ে এশিয়া কাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে আজ তারা খেলতে নামবে। প্রতিপক্ষ পাকিস্তানের বিপক্ষে অধিনায়ক রাহুল পাদৌলে যখন টস করবেন, তখনই আরেকটা ইতিহাস গড়া হয়ে যাবে তাদের। এটাই যে বিশ্বকাপজয়ী কোনো দলের সঙ্গে তাদের প্রথম একদিনের আন্তর্জাতিক ম্যাচ। এর আগে জিম্বাবুয়ে, আয়ারল্যান্ড ও স্কটল্যান্ডের সঙ্গে তারা খেলেছে। নামিবিয়া, ওমান, আরব আমিরাত এসবের সঙ্গে নিয়মিতই খেলা হয় তাদের। আফগানিস্তানের সঙ্গে পর্যন্ত এখনো তারা খেলেনি। খেলেনি নিজ মহাদেশের অপর তিন দল শ্রীলঙ্কা, ভারত ও বাংলাদেশের সঙ্গে। তবে এই টুর্নামেন্ট দিয়ে এশিয়ার দুই জায়ান্ট, ভারত-পাকিস্তানকে প্রতিপক্ষ হিসেবে পাবে তারা।

ওয়ানডেতে এখনো পুঁচকে নেপালের দুই প্রতিপক্ষই ক্রিকেটের পরাশক্তি। তাদের বিপক্ষে খেলতে নামার আগে অবশ্য ৫৭টি ওয়ানডে খেলার অভিজ্ঞতা আছে হিমালয়ের দেশটির। যার মধ্যে জয় এসেছে ৩০টি এবং হেরেছে ২৫টি। ড্র আর ম্যাচ বাতিল হয়েছে একটি করে। সেই সব ম্যাচের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে এবার তারা রোহিত শর্মা আর বিরাট কোহলিদের সঙ্গে লড়াই করবে। এবারের আসরে এটাই তো তাদের বড় পাওয়া!

তবে নেপালের কোচ মিন্টু দেশাই শিক্ষা সফর কিংবা আনন্দ ভ্রমণেই সন্তুষ্ট থাকতে চান না। তিনি নিজেদের এশিয়ার সেরা ও যোগ্য দল মনে করেন। আর যোগ্য দল বলেই এশিয়া শ্রেষ্ঠত্বের লড়াইয়ে খেলতে এসেছেন বলে মনে করেন। অনুশীলনের ফাঁকে পাকিস্তানি সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেছেন, ‘নেপাল যোগ্যভাবেই এশিয়া কাপ খেলতে এসেছে। আমাদের এই যাত্রায় কিছু গল্প আছে, যা একান্তই আমাদের। কয়েক মাস আগে আমরা এসিসি প্রিমিয়ার লিগে শিরোপা জিতে তবেই এখানে এসেছি।’

তবে পাকিস্তানের বিপক্ষে খেলার জন্য ক্রিকেটাররা রোমাঞ্চিত উল্লেখ করে নেপাল কোচ বলেন, ‘যদি তারা এখানে নিজেদের স্কিল দেখাতে পারে তবে বিশ্ব ক্রিকেট নতুন কিছু দেখতে পাবে। তারা (ক্রিকেটাররা) সত্যি মুখিয়ে আছে ইতিহাসের অংশ হতে, ভারত, পাকিস্তানের মতো দুটি টেস্ট খেলুড়ে বড় দলের বিপক্ষে খেলাটাকে উদযাপন করতে।’

হাইব্রিড মডেলের এশিয়া কাপে মাউন্ট এভারেস্টের দেশটি আছে ‘এ’ গ্রুপে। মুলতানে স্বাগতিক পাকিস্তানের বিপক্ষে উদ্বোধনী ম্যাচ খেলে যাবে চলে যাবে শ্রীলঙ্কায়। আগামী ৪ সেপ্টেম্বর ভারতের মুখোমুখি হবে তারা গ্রুপ পর্বে তাদের দ্বিতীয় ও শেষ ম্যাচে। অভিষেক আসরে এই দুই ম্যাচের ফলাফল যাই হোক, খেলতে পারাটাই তাদের কাছে ইতিহাস। আর যদি অঘটন ঘটিয়ে ফেলে তবে সেখানেও বিস্ময়ের কিছু থাকবে বলে মনে হয় না।

আরও পড়ুন

উদ্বোধনের আগের রাতে একাদশ ঘোষণা পাকিস্তানের