সাইবার নিরাপত্তা আইনের খসড়া পাস হলে তা হবে 'কালো আইন': টিআইবি

ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) বলেছে, সাইবার নিরাপত্তা আইনের খসড়াটি বর্তমানে যে অবস্থায় আছে, তা যদি আইনে প্রণীত হয়, তাহলে এটিও ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মতো ‘কালো আইন’ হিসেবে প্রণীত হবে।

বিতর্কিত ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের খোলস পরিবর্তন করে সাইবার নিরাপত্তা আইনের খসড়াটি করা হয়েছে বলে মনে করে টিআইবি।

আজ বুধবার ধানমন্ডিতে টিআইবির কার্যালয়ে আয়োজিত ‘খসড়া সাইবার নিরাপত্তা আইন–২০২৩: পর্যালোচনা ও সুপারিশ’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান। সংবাদ সম্মেলনে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন ও প্রস্তাবিত সাইবার নিরাপত্তা আইনের তুলনামূলক তথ্য উপস্থাপন করেন টিআইবির পরিচালক শেখ মনজুর-ই-আলম।

সাইবার নিরাপত্তা আইনের খসড়া প্রক্রিয়া ও বিষয়বস্তু—উভয় বিবেচনায় বিতর্কিত বলে মনে করেন ইফতেখারুজ্জামান। তিনি বলেন, প্রক্রিয়াগত বিতর্কের কারণ হলো, এই সরকারের সময় একটি ইতিবাচক চর্চা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে যে গুরুত্বপূর্ণ আইন প্রণয়নের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে সম্পৃক্ত করা। কিন্তু সাইবার নিরাপত্তা আইনের খসড়া প্রণয়নের ক্ষেত্রে সেটি হয়নি।

তিনি বলেন, শুধু মতামতের জন্য ১৪ দিন সময় দিয়ে খসড়া চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। তবে তারা ধরে নিতে চান সংশ্লিষ্ট অংশীজনকে সম্পৃক্ত করার এখনও সুযোগ আছে এবং সরকার এটি নিশ্চিত করবে।

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মৌলিক দুর্বলতাগুলো এখানেও রয়ে গেছে উল্লেখ করে ইফতেখারুজ্জামান বলেন, সাইবার নিরাপত্তা আইনের খসড়াটি যেভাবে প্রণীত হয়েছে, তাতে কোনো কোনো ক্ষেত্রে শাস্তির পরিমাণ কমানো হয়েছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে বাড়ানোও হয়েছে। তা সত্ত্বেও মৌলিক দুর্বলতাগুলো এখানেও রয়ে গেছে। যেসব কারণে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের উদ্বেগ ছিল, সেগুলোও রয়ে গেছে।

টিআইবির নির্বাহী পরিচালক বলেন, এই আইনের উদ্দেশ্য যদি হয়, সাইবার নিরাপত্তা তাহলে তার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকতে হবে। খসড়াটি এখন যে অবস্থায় আছে, সেটি যদি অনুমোদিত হয় তাহলে সেটিকেও ‘নিবর্তনমূলক আইন’ বলা ছাড়া উপায় থাকবে না। এটি ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন কিছুটা পরিবর্তন করে, কিছু শাস্তি বাড়ানো-কমানোর নামে শুধু খোলস পরিবর্তন করা হয়েছে। কিন্তু মূল বিষয়বস্তু অপরিবর্তিত রয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন ও প্রস্তাবিত সাইবার নিরাপত্তা আইনের তুলনামূলক তথ্য উপস্থাপন করতে গিয়ে টিআইবির পরিচালক শেখ মনজুর-ই-আলম বলেন, সাইবার অপরাধ একটি ভিন্নধর্মী অপরাধ, সাইবার নিরাপত্তা ভিন্ন ধরনের কাঠামো; যেখানে কম্পিউটার ডিভাইস, কম্পিউটার নেটওয়ার্ক, গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পরিকাঠামো ইত্যাদির নিরাপত্তা নিশ্চিত করার কথা। এর বাইরে যত অপরাধ আছে, সেগুলো প্রচলিত আইনে বিচার করা সম্ভব। এগুলো সাইবার নিরাপত্তার অংশ হতে পারে না।

শেখ মনজুর-ই-আলম বলেন, সাইবার নিরাপত্তা আইন নামে যে খসড়াটি হয়েছে, সেটি মূলত ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের নাম পরিবর্তন করে করা হয়েছে। এ ছাড়া যে পরিবর্তন, সেটি হলো কোনো কোনো ক্ষেত্রে কারাদণ্ড বাদ দেওয়া হয়েছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে কমানো হয়েছে। কিন্তু কোনো কোনো ক্ষেত্রে জরিমানা বাড়ানো হয়েছে। এ ছাড়া বেশ কিছু ধারা জামিনযোগ্য করা হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন টিআইবির উপদেষ্টা (নির্বাহী ব্যবস্থাপনা) সুমাইয়া খায়ের ও কর্মকর্তা তরিকুল ইসলাম।