যেভাবে বঙ্গবন্ধু ‘বঙ্গবন্ধু’ হলেন

বঙ্গবন্ধু। যার নাম শুনলে প্রথমেই মাথায় আসে মুক্তিযুদ্ধ। তাকে নিয়েই এই চলচ্চিত্র। এক কথায় বলতে গেলে বঙ্গবন্ধু কীভাবে ছোট্ট খোকা থেকে জাতির পিতা হলেন তা উঠে এসেছে ‘খোকা থেকে বঙ্গবন্ধু জাতির পিতা’ অ্যানিমেশন চলচ্চিত্রের মাধ্যম।

বঙ্গবন্ধুর জীবনী নিয়ে অনেক ব‌ই আছে। সেসব ব‌ইয়ে বঙ্গবন্ধুর ছোটবেলা থেকে বড় হ‌ওয়া পর্যন্ত বিস্তারিত পাওয়া যায়। কিন্তু এই অ্যানিমেশন চলচ্চিত্রটি অন্যরকম‌। যেহেতু অ্যানিমেশন তার মানেই হলো এখানে কণ্ঠশিল্পী, ভিডিও কোয়ালিটি, অ্যানিমেশন কোয়ালিটি ইত্যাদি নিয়ে কথা বলতে হবে। প্রথমে বলা যেতে পারে কণ্ঠশিল্পী নিয়ে। বঙ্গবন্ধুর চরিত্রে যিনি কণ্ঠ দিয়েছেন সেই কণ্ঠশিল্পীর কাজ কেন জানি আমার ভালো লাগেনি। ছবিতে ভয়েস ম্যাচিং ও ভয়েস কোয়ালিটি মাঝে মাঝে খারাপ হয়ে যাচ্ছিল। তবে ভিডিও কোয়ালিটি বলতে গেলে অসাধারণ। শুধু মাঝে মাঝে জুম করলে পর্দা ফেটে যাচ্ছিল।

আর অন্য দিকগুলো মোটামুটি ভালোই ছিল। অ্যানিমেশন কোয়ালিটি দেখে মনে হচ্ছিল আমি কলকাতার অ্যানিমেশন দেখছি। যদিও কিছু জায়গায় আবার আসল লোকের ছবিকে টুনিফিকেশন করে দিয়েছে, যা একটু অবাস্তব লাগে। আর কাহিনি নিয়ে তেমন কিছু বলার নেই। যেহেতু বঙ্গবন্ধুর জীবনী নিয়ে গল্পটা তাই। তবে গল্প মেলানো একটা বিষয়। এই মেলানোটা যেন এখানে একদম সম্পূর্ণ করেছে। গল্পের শুরুই হয়েছে ফিরে দেখা থেকে। যেটা গল্পটাকে অন্যরকম করেছে ও মেলাতে সাহায্য করেছে। আবার গল্পটাকে শিশুদের জন্য সহজ রাখা ও কাহিনিটাকে সুন্দর করেছে। তবে হঠাৎ করে এক ঘটনা থেকে আরেক ঘটনা যাওয়াটা আরেকটু অন্যভাবে হতে পারত। এই কারণে কাহিনির অনেক কিছুই আমি বুঝতে পারিনি। এমনটা করতে পারত যে, কত সালে কী ঘটেছিল তা বা বঙ্গবন্ধু বয়স্ক হয়ে গিয়েছিল তখন কিছু বলা হয়নি। অনেক জায়গায়, আমার মনে হলো বঙ্গবন্ধুর আসল ভাষণগুলো ব্যবহার করেছে। ‘খোকা থেকে বঙ্গবন্ধু জাতির পিতা’ চলচ্চিত্রের চরিত্রগুলো কেন জানি একটু ঢাকা রয়ে গেছে। কিছু চরিত্রই বোঝা গেছে। যেহেতু বঙ্গবন্ধুর জীবনী নিয়ে চলচ্চিত্র সে জন্য বঙ্গবন্ধুকেই বেশি প্রাধান্য দেবে স্বাভাবিক কিন্তু অন্যান্য চরিত্র যেমন এ কে ফজলুল হক, মওলানা ভাসানী এদের খুব একটা দেখানো হয়নি। এই চলচ্চিত্রে বঙ্গবন্ধুর স্ত্রী বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুননেছা মুজিবকে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে যে, তিনি কেন বঙ্গমাতা। অন্যদিকে বঙ্গবন্ধুর সন্তান শেখ হাসিনা, শেখ কামাল, শেখ জামাল, শেখ রেহানা ও শেখ রাসেলের চরিত্র খুব একটা ফুটে ওঠেনি। যদিও এই চলচ্চিত্রের পর্দায় শেখ হাসিনা, শেখ রাসেল, শেখ কামালের উপস্থিতি ছিল মোটামুটি। সব মিলিয়ে চলচ্চিত্রটি সত্যি অসাধারণ ছিল। তবে বঙ্গবন্ধু মুক্তিযুদ্ধের সময় কী করছিল বা মুক্তিযুদ্ধের পরে কী হয়েছিল তা চলচ্চিত্র ছিল না। তাই এই জায়গাটা একটু অসম্পূর্ণ রয়ে গেল। এ ছাড়া নামকরণটাও অনেক ভালো হয়েছে।

সবশেষে আমি বলতে চাই, তথ্যপ্রযুক্তির এ সময়ে এই ছবিটি আমার মতো শিশু-কিশোরদের জন্য একটি অনন্য কাজ হয়েছে। বাংলাদেশের স্বাধীনতার মহানায়ক কেমন ছিলেন এটা এই ছবির মাধ্যমে সবাই জানতে পারবে। বঙ্গবন্ধু ও মুক্তিযুদ্ধকে আর‌ও জানার আগ্রহ বাড়বে। এমন চলচ্চিত্র আর‌ও বেশি বেশি বানানো উচিত।