জীবন যেন এক মুহূর্তেই রঙ বদলায়। এই আঁধার, এই আলো। আবার চোরাবালিতে হারিয়ে যেতেও বেশিক্ষণ লাগে না। কয়েকদিন আগে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়া অভিনেত্রী নিশাত আরা আলভিদার মৃত্যুর ঘটনা যেন জীবনের সেই অনিশ্চয়তাই তুলে ধরল।
মৃত্যুর কয়েকদিন আগে সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রোফাইল ছবি বদলেছিলেন ১৯ বছর বয়সী নিশাত। আর তাতে ক্যাপশন, ‘পরের জন্মে শালিক হব।’ শালিক হওয়ার ইচ্ছা নিয়েই মারা গেলেন তিনি। বিষয়টি ওঠে এলো তার ফেসবুক বন্ধুদের বিভিন্ন মন্তব্যে।
আরমান আলিফ নামে এক ব্যক্তি আলভিদাকে উদ্দেশ্য করে তার ওয়ালে লিখেছেন, ‘পরের জন্মে শালিক হয়ো।’
আতিফ ইসলাম বাবলু নামের আরেক ব্যক্তি লিখেছেন, ‘মাত্র চার দিন আগে মেয়েটা তার ওয়ালে লিখেছিল ‘পরের জন্মে শালিক হব’। তখনও কি ও ভেবেছিল চার দিনের মধ্যেই সত্যি সত্যি পরের জন্মে চলে যাবে? গতকালও ফেসবুকে সে তার হাসপাতালের ছবি আপলোড করেছে তখনও কি ভেবেছে? ভয়ঙ্কর ডেঙ্গু এই ফুটফুটে মেয়েটার জীবন কেড়ে নিল। টাইমলাইনে সংবাদটা দেখে খুব খারাপ লাগছে। আমরা আসলে খুবই অসহায়। আমরা কেউ জানি না কখন চলে যেতে হবে... আল্লাহ তাকে জান্নাতবাসী করুক! আমিন।’
নিশাত এ বছর এইচএসসি পরীক্ষার্থী ছিলেন। সর্বশেষ দিয়েছিলেন হিসাব বিজ্ঞান পরীক্ষা। কিন্তু বাকি পরীক্ষাগুলোয় আর অংশ নেওয়া হবে না তার। জানা গেছে, চার দিন আগে হঠাৎ জ্বরে আক্রান্ত হন তিনি। প্রথমে বাড়িতেই প্রাথমিক চিকিৎসা নেন। কিন্তু শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে হাসপাতালে ভর্তি করা হয় তাকে।
এরপর শরীরে প্লাটিলেট বেড়ে যাওয়ায় বাড়িতে আনা হয় তাকে। কিন্তু শেষ রক্ষা হয়নি। নিজ ঘরেই প্রাণ হারান অভিনেত্রী। বৃহস্পতিবার (৩১ আগস্ট) রাতেই নিশাতের মরদেহ নেওয়া হয় তার দেশের বাড়ি নাটোরে। সেখানেই তার দাফন সম্পন্ন হয়েছে।
প্রায় দুই বছর ধরে নানা ধরনের চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন নিশাত। কয়েক মাস আগে থিয়েটারিয়ান নামের একটি নাট্যদলে কর্মশালা করেন। সেখান থেকেই অভিনয়ে যাত্রা শুরু। বেশ কিছু শর্ট ফিল্ম ও নাটকে কাজ করার পর সম্প্রতি একটি নাটকে মুখ্য চরিত্রেও কাজের সুযোগ পেয়েছিলেন নিশাত। কিন্তু অকালেই বিরতি ঘটল তার।