কাল থেকে অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘটে জ্বালানি তেল ব্যবসায়ীরা

জ্বালানি তেল বিক্রির কমিশন বৃদ্ধিসহ তিন দফা দাবিতে আগামীকাল রবিবার (৩ সেপ্টেম্বর) থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য জ্বালানি তেল উত্তোলন, বিতরণ ও পরিবহন বন্ধের ডাক দিয়েছেন জ্বালানি তেল ব্যবসায়ী ও শ্রমিকরা। এর ফলে ব্যাপক জনদুর্ভোগের আশঙ্কা করা হচ্ছে।

তাদের অপর দুটি দাবি হলো— জ্বালানি তেল পরিবহনকারী ট্যাংকলরির অর্থনৈতিক জীবনকাল ৫০ বছর করা এবং জ্বালানি তেল ব্যবসায়ীদের কমিশন এজেন্ট হিসেবে গেজেট প্রকাশ করা। তবে গত ৩১ আগস্ট জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ তেল ব্যবসায়ী/ডিলারদের কমিশন এজেন্ট ঘোষণা করে প্রজ্ঞাপন জারি করে। প্রজ্ঞাপনটি অবিলম্বে গেজেট আকারে প্রকাশেরও উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

ধর্মঘটে যাওয়া সংগঠনগুলো হচ্ছে বাংলাদেশ ট্যাংকলরি ওনার্স এসোসিয়েশন জ্বালানি তেল পরিবেশক সমিতি, খুলনা বিভাগীয় ট্যাংকলরি শ্রমিক ইউনিয়ন এবং পদ্মা, মেঘনা ও যমুনা ট্যাংকলরি শ্রমিক কল্যাণ সমিতি।

ধর্মঘটের বিষয়টি নিশ্চিত করে জ্বালানি তেল পরিবেশক সমিতি আব্দুল গাফফার বিশ্বাস দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘চার বছর ধরে আমরা আমাদের দাবিগুলো বলে আসছি। কিন্তু মন্ত্রণালয় ও বিপিসি (বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন) কোন গুরুত্ব দিচ্ছে না। সরকার আমাদেরকে ধর্মঘটে যেতে বাধ্য করেছে। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত এই ধর্মঘট চলবে।’

তিনি বলেন, ‘তেল বিক্রি করে খুবই সামান্য কমিশন দেয়া হয় আমাদের। তা দিয়ে ব্যবসা টিকিয়ে রাখা মুশকিল হয়ে পড়েছে। এছাড়া তেল পাম্পের নিবন্ধন প্রক্রিয়ায় অনেক জটিল। নিবন্ধন পেতে ১৬—১৭ টা প্রতিষ্টানের কাছে যেতে হয়। এতগুলো প্রতিষ্টানের হস্তক্ষেপে নানারকম জটিলতার সৃষ্টি হয়। এই নিবন্ধন প্রক্রিয়া একটি প্রতিষ্টানের মাধ্যমে হলে হয়রানি কমবে।’

পেট্রল পাম্প ওনার্স এসোসিয়েশনের (একাংশ) ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মীর আহসান উদ্দীন পারভেজ স্বাক্ষরিত একটি জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ২৯ আগস্ট বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদের সভাপতিত্বে অনুষ্টিত এক সভায় পেট্রল পাম্প মালিকদের সকল দাবি দাওয়া ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে বাস্তবায়নের আশ্বাস দেয়া হয়। উক্ত সময়ের মধ্যে সকল ডিপো হতে তেল উত্তোলন স্বাভাবিক রাখার জন্য সংশ্লিষ্টদের আহ্বান জানানো হয়।

তবে বিজ্ঞপ্তি পাঠানো প্যাডের উপরে উল্লেখ করা টেলিফোন নম্বরটিতে ফোন দেয়া হলে সেটি অচল দেখায়। এর পাশে যে মোবাইল নম্বরটি দেয়া আছে সেটিও বন্ধ পাওয়া গেছে।

এদিকে পেট্রল পাম্প ওনার্স এসোসিয়েশনের (একাংশ) মহাসচিব মিজানুর রহমান রতন স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, জ্বালানি সেক্টরে সংশ্লিষ্ট কতৃর্পক্ষ দিনের পর দিন আমাদের যৌক্তিক দাবিগুলো বাস্তবায়ন না করে শুধু সময়ক্ষেপণ করছে। তাই রবিবার থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য তেল উত্তোলন ও বন্ধ রাখার কর্মসূচি শুরু হবে। কোন ব্যক্তির স্বার্থে বা কাউকে সন্তুষ্ট করার জন্য এই আন্দোলনকে কেন্দ্র করে কেউ যাতে কোন বিভ্রান্তি ছড়াতে না পেরে সেজন্য সংশ্লিষ্টদের অনুরোধ জানানো হয় ওই বিজ্ঞপ্তিতে।

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপ-প্রধান তথ্য কর্মকর্তা মীর মোহাম্মদ আসলাম উদ্দীন জানান, বিপিসি তাদের (ধর্মঘটী) সাথে ‘নেগোশিয়েট’ করার চেষ্টা করছে। তারা (ধর্মঘটী) যে তিন দফা দাবি করছে এরমধ্যে প্রায় সব দাবি সরকার মেনে নিয়ে নিয়েছে।

যোগাযোগ করা হলে বিপিসির পরিচালক (বিপণন) অনুপম বড়ুয়া আজ শনিবার সন্ধা সাড়ে ৭ টায় দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘তাদের দাবি নিয়ে ২৯ তারিখে প্রতিমন্ত্রী মহোদয়ের সভাপতিত্বে সভা হয়েছিল। সেখানে তিনি (প্রতিমন্ত্রী) তাদের দাবির প্রতি সম্মান রেখে তাদের কাছে এক মাস সময় চেয়েছিলেন। তারা মেনেও নিয়েছিল। তখন তাদের কাছে ধর্মঘটের বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে তারা বলেছিলেন, এখনও তো সময় আছে। আমরা পজিটিভলি (ইতিবাচক) একটা সিদ্ধান্ত নেব। কিন্তু এখন দেখছি তারা পজিটিভ নেই। আধা ঘণ্টা আগেও পেট্রল পাম্প ওনার্স এসোসিয়েশনের মহাসচিব রতন (মিজানুর রহমান) সাহেবের সঙ্গে কথা হলো। তিনি আমাকে জানালেন আমরা ধর্মঘটে আছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমি যতদূর জানি খুলনাসহ নির্দিষ্ট কিছু এলাকায় তাদের প্রভাব রয়েছে। বাকি ঢাকা, চট্টগ্রাম, ময়মনসিংহ, সিলেট এলাকায় অপর পক্ষের প্রভাব রয়েছে যারা ধর্মঘট ডাকেনি। দেখা যাক কী হয়। আমি চেয়ারম্যান মহোদয়কে জানিয়েছে। এখানে প্রতিমন্ত্রী মহোদয় আছেন। তারা এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেবেন।’