নতুন দিগন্ত

দেশের মানুষের কাছে এখন পরিচিত শব্দ এক্সপ্রেসওয়ে। এই এক্সপ্রেসওয়েতে শুধু দ্রুতগতির বাহন চলবে। এসব যানবাহন কোথাও থামবে না, চলবে একটি নির্দিষ্ট গতিতে। থামলেও মানতে হবে সুনির্দিষ্ট নিয়ম। এ ছাড়া যানবাহন কর্র্তৃপক্ষকে পরিশোধ করতে হবে ধার্যকৃত পরিমাণ টোল। এর মধ্যে প্রাইভেট কার, ট্যাক্সি, জিপ, ‘স্পোর্টস ইউটিলিটি ভেহিকেল’, ১৬ সিটের কম মাইক্রোবাস এবং তিন টনের কম হালকা ট্রাকের ক্ষেত্রে টোল দিতে হবে ৮০ টাকা। ছয় চাকা পর্যন্ত মাঝারি ট্রাকের টোল ৩২০ টাকা ও ছয় চাকার বেশি ট্রাকের টোল ৪০০ টাকা। এ ছাড়া ১৬ বা তার বেশি আসনের সব ধরনের বাসের টোল ১৬০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এক্সপ্রেসওয়েটিতে ১১টি টোল প্লাজা থাকবে। লোকাল যানবাহন আর প্রাইভেট যানবাহন নিয়ে যে জটিলতা রয়েছে ঢাকার রাস্তায়, তা কমে যাবে।

রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ফার্মগেট পর্যন্ত এর প্রথম অংশের উদ্বোধন হয়েছে গতকাল। আজ থেকে যানবাহন চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়েছে যোগাযোগের এই নতুন দিগন্ত। এ বিষয়ে দেশ রূপান্তরে প্রকাশিত হয়েছে গুচ্ছ প্রতিবেদন।

অন্যদিকে, যে যানজট নিরসনের জন্য এই এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে করা হয়েছে তা নিয়ে একটি সমস্যা দেখা দিতে পারে। মহাখালী র‌্যাম্পের সামনে মহাখালী বাস টার্মিনাল। সেখানকার যানজটের জন্য বিমানবন্দর থেকে প্রায় ৯ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতে ১০ মিনিট সময় লাগলেও, এখানে এসে আধা কিলোমিটার পাড়ি দিতে ঘণ্টা পার হয়ে যাবে। আর ফার্মগেট অংশে তেজগাঁও কলেজের সামনে নেমে ওখানকার যানজটের জন্য ইন্দিরা রোড পাড়ি দিতেই ৩০ মিনিটের মতো সময় লাগবে। যোগাযোগ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিমানবন্দর থেকে ফার্মগেট পর্যন্ত খুললে পুরো প্রকল্প সুবিধা পাওয়া যাবে না। অবশ্য ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুতুবখালী পর্যন্ত এই এক্সপ্রেসওয়ে চালু হওয়ার পরই দুর্ভোগ কমতে পারে।

কিন্তু এটি ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের সঙ্গে সংযুক্ত হলে ঢাকা ইপিজেড ও উত্তরবঙ্গের সঙ্গে চট্টগ্রাম বন্দরের যোগাযোগ সহজতর হবে, একটি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে গন্তব্যে পৌঁছানো যাবে, যোগাযোগব্যবস্থা সহজীকরণ হবে, যানজট অনেকাংশেই কমে যাবে, তিক্ত অভিজ্ঞতা থেকে মানুষ মুক্তি পাবে এবং আশাতীতভাবে কমবে যাতায়াতের সময়।

সড়কপথে যোগাযোগের ক্ষেত্রে প্রতিনিয়ত যেভাবে মানুষের চলাচলকে সহজ ও সময় সংক্ষিপ্ত করা হচ্ছে, তাতে অবশ্যই সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ধন্যবাদের যোগ্য। তবে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের রক্ষণাবেক্ষণ এবং নিয়মিত পর্যবেক্ষণে যেন কোনো ধরনের ঘাটতি না থাকে। একই সঙ্গে উল্লেখ করা দরকার, চলতি মাসেই আরও কয়েকটি মেগা প্রকল্পের উদ্বোধন হতে যাচ্ছে। মেগা প্রকল্পের মধ্যে পূর্বাচল এক্সপ্রেসওয়ে, মেট্রোরেলের উত্তরা থেকে মতিঝিল পর্যন্ত অংশ, পদ্মা সেতু রেল সংযোগ এবং চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজার রেল সংযোগ প্রকল্পসহ আরও কয়েকটি প্রকল্পের উদ্বোধন হবে। আর এসব মেগা প্রকল্প সড়ক ও রেলপথে যোগাযোগে গতি বাড়াবে বলে মনে করছেন যোগাযোগ বিশেষজ্ঞরা। প্রকল্পগুলো অনেকটা স্বপ্নের মনে হলেও, তা বাস্তবায়নের দিকে যাচ্ছে। নিশ্চিন্তেই বলা যায়, প্রকল্পগুলো উদ্বোধন হলে একদিকে যেমন যোগাযোগে গতি বাড়বে, তেমনি অন্যদিকে অর্থনৈতিক ও সামাজিকসহ অনেক কিছুতেই পরিবর্তন আসবে।

একই সঙ্গে এ কথাও মনে রাখতে হবে, সরকারের এই উন্নয়নকে যেন আমরা দলীয় কোনো উন্নয়ন হিসেবে বিবেচনা না করি। যেহেতু দেশের মানুষের কল্যাণেই ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের পথচলা শুরু হলো সেই কারণে মূল বিষয়টি পাশ কাটিয়ে এই প্রকল্পে কত টাকা বাড়তি খরচ হয়েছে, কোন পর্যায়ে দুর্নীতি হয়েছে অথবা এর যদি কোনো সমস্যা থাকে, তাহলে তা রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি দিয়ে বিবেচনা করা ঠিক হবে না। প্রত্যাশা রইল, যোগাযোগের নতুন দিগন্তে মুক্ত প্রাণে উড়–ক দেশের মানুষের গণতান্ত্রিক চেতনা।