দেশে ডেঙ্গুতে এক দিনে সর্বোচ্চ মৃত্যুর রেকর্ড হয়েছে। গতকাল শনিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় মারা গেছে ২১ জন। এর মধ্যে ১৭ জনই মারা গেছে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন হাসপাতালে। বাকি চারজন মারা গেছে ঢাকার বাইরে। এর মধ্য দিয়ে দেশে গত ২৩ বছরের ডেঙ্গুর ইতিহাসে এই প্রথম দৈনিক সর্বোচ্চ মৃত্যু দেখল মানুষ। এর আগে সর্বোচ্চ ১৯ জনের মৃত্যু হয়েছিল ১৯ জুলাই।
একই সঙ্গে চলতি বছর ডেঙ্গুতে এই প্রথমবারের মতো মৃত্যুর সংখ্যা ৬০০ ছাড়াল। গতকাল পর্যন্ত মারা গেছে ৬১৮ জন। দেশে ডেঙ্গুতে এটাই এ যাবৎকালের সর্বোচ্চ মৃত্যু। এর আগে গত বছর ডেঙ্গুতে সর্বোচ্চ ২৮১ জন ও ২০১৯ সালে ১৭৯ জন মারা গিয়েছিল। এ ছাড়া ২০২১ সালে ১০৫, ডেঙ্গুর শুরুর বছর ২০০০ সালে ৯৩, ২০০২ সালে ৫৮ ও ২০০১ সালে ৪৪ জন মারা যায়। মাঝখানে ২০০৭ থেকে ২০১০ ও ২০১৪ সালে এই পাঁচ বছর ডেঙ্গুতে কেউ মারা যায়নি। বাকি বছরগুলোতে মৃত্যু সর্বোচ্চ ২৬ জন থেকে সর্বনিম্ন একজনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল।
গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আরও ২ হাজার ৩৫২ ডেঙ্গু রোগী দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। তাদের মধ্যে ঢাকার বাইরে ভর্তি হয়েছে ১ হাজার ৩৭০ বা ৫৮ শতাংশ ও বাকি ৯৮২ জন বা ৪২ শতাংশ ঢাকায়। এ নিয়ে দেশে চলতি বছর রোগীর সংখ্যা দাঁড়াল ১ লাখ ২৭ হাজার ৬৯৪ জন, যা এ যাবৎকালের মধ্যে সবচেয়ে বেশি। এর আগে সর্বোচ্চ রোগীর রেকর্ড ছিল ২০১৯ সালে, ১ লাখ ১৪৮ জন ও দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রেকর্ড ছিল গত বছর, ৬২ হাজার ৩৮২ জন। এ ছাড়া ২০২১ সালে ২৮ হাজার ৪২৯, ২০১৮ সালে ১০ হাজার ১৪৮ ও ২০০২ সালে ৬ হাজার ২৩২ রোগী পাওয়া গেছে। বাকি ১৮ বছরের মধ্যে রোগীর সংখ্যা ছিল সর্বোচ্চ ৬০৬০ থেকে সর্বনিম্ন ৩৭৫ জনের মধ্যে।
মৃত্যুর ৭৪ শতাংশ ঢাকায় : এ পর্যন্ত দেশে যে ৬১৮ জন মারা গেছে, তাদের মধ্যে ঢাকায় ৪৫৬ জন, যা মৃত্যুর ৭৪ শতাংশ। ঢাকায় এ পর্যন্ত মৃত্যুর ৭৩ শতাংশ বা ৩৩৪ জনই মারা গেছে সরকারি হাসপাতালে, বাকি ২৭ শতাংশ বা ১২২ জনের মৃত্যু হয়েছে বেসরকারি হাসপাতালে।
ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালের মধ্যে সবচেয়ে বেশি মারা গেছে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ১০৮ জন ও মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ১০২ জন। এ ছাড়া স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (মিটফোর্ড হাসপাতাল) ৩৭, ডিএনসিসি হাসপাতালে ২৯, কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে ২২, বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটে ১৪ ও সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে ১২ জন মারা গেছে।
বেসরকারি হাসপাতালের মধ্যে সবচেয়ে বেশি মারা গেছে আজগর আলী হাসপাতালে ১৪ ও স্কয়ার হাসপাতালে ১৩ জন। এ ছাড়া বারডেম হাসপাতাল ও গ্রিন লাইফ হাসপাতালে ৯ জন করে, বিআইএইচএস জেনারেল হাসপাতালে আটজন মারা গেছে।
মৃত্যুর ৫৯ শতাংশ নারী : চলতি বছর এ পর্যন্ত ৩৬২ জন নারী ডেঙ্গুতে মারা গেছে, যা মৃত্যুর ৫৯ শতাংশ। বাকি ৪১ শতাংশ বা ২৫৬ জন পুরুষ। অথচ এ পর্যন্তআক্রান্তের ৩৮ শতাংশ নারী ও ৬২ শতাংশ পুরুষ। সে হিসেবে নারীরা আক্রান্ত কম হলেও বেশি মারা গেছে।
৩৬-৪০ বছরের মধ্যে মৃত্যু বেশি : মৃত্যুর ১০ শতাংশ বা ৬০ জনের বয়স ৩৬-৪০ বছরের মধ্যে। এ ছাড়া ৩১-৩৫ বছর বয়সীরা ৫৮ ও ২১-২৫ বছর বয়সীরা ৫৫ জন বা ৯ শতাংশ করে ও ৪১-৪৫ বছর বয়সীরা ৮ শতাংশ মারা গেছে। ৭ শতাংশ করে মারা গেছে ১৬-২০ বছর, ২৬-৩০ বছর, ৪৬-৫০ বছর, ৫৬-৬০ বছর ও ৬১-৬৫ বছর বয়সীরা। সবচেয়ে কম মৃত্যু হয়েছে ২ শতাংশ করে ৭৬-৮০ বছর ও ৮০-এর ঊর্ধ্ব বয়সীরা।